আমাদের বোনদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন, যারা বিয়ের বিষয়টা নিয়ে গভীর কষ্ট, অস্থিরতা, হতাশার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। নিদারুণ এক অদৃশ্য মানসিক চাপের মধ্যে আছেন সবসময়! যদিও বাইরে থেকে তারা স্বাভাবিক থাকেন, দ্বীন মেনে চলার চেষ্টা করছেন, ইলম অর্জন করছেন যথাসাধ্য, দায়িত্ব পালন করেন যেটা না করলেই নয়—কিন্তু ভিতরে ভিতরে তাদের এই একটা প্রশ্ন--কবে আমি নিজের বিয়ের সুখবর পাবো?
একটা শূন্যতা, একটা দীর্ঘ অপেক্ষা তাদেরকে ভীষণ ক্লান্ত করে দেয়। পরিচিত কারো জন্যই যেন পাত্র পাওয়া যাচ্ছে না, প্রত্যাশিত বয়সও পার হয়ে যাচ্ছে, অনেক দুয়া করেও ফল স্বচোখে দেখা যাচ্ছে না—এসব মেনে নেওয়া সত্যিই সহজ না।
সমস্যাটা শুধু “বিয়ে হচ্ছে না”, এতটুকুতেই কিন্তু সীমাবদ্ধ না। এর সঙ্গে জড়িয়ে যায় আত্মসম্মান, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়, সমাজের চাপ, অন্যদের ছুঁড়ে দেয়া প্রশ্ন বাঁ খোঁটা দেওয়া কথা, কখনো অযাচিত comparison, এবং নিজের ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়া তো আছেই।
অনেক সময় বোনেরা আল্লাহর ফয়সালার উপর ঈমান রাখেন, তারা জানেন যে, নিশ্চয়ই আল্লাহই উত্তম পরিকল্পনাকারী। বোনেরা জানেন—যা হওয়ার, সঠিক সময়েই হবে। তবুও কিন্তু মনকে বোঝানো কঠিন হয়ে যায়। আর এই অস্থিরতা ধীরে ধীরে ইবাদাতে, ইলমে, কাজে, পড়াশোনায়, প্রোডাক্টিভিটি এবং মানসিক স্থিরতায় প্রভাব ফেলে।
এক বোন আমাকে মেসেজে বললেন, তিনি বারবার matrimonial site বা marriage-related platform স্ক্রল করছেন পাগলের মতন। ভাবছেন, “হয়তো এবার কিছু হয়েই যাবে”, “হয়তো আজ একটা ভালো match পেয়ে যাব', “হয়তো এই profile-টাই চূড়ান্ত হবে…”। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে অনেক সময় এই scrolling অন্তরকে আরও অস্থির করে তুলে। তাওয়াক্কুল কমিয়ে দেয়, comparison বাড়িয়ে দেয়, productivity নষ্ট করে, এবং এমন এক মানসিক আসক্তি তৈরি করে—যেখানে মানুষ কাজ করছে কম, নেগেটিভ চিন্তা ভাবছে বেশি; তারা দুয়া করছে কম, উদ্বিগ্ন হচ্ছে বেশি।
প্রিয় বোন, প্রিয় পাঠক শুনুন,
বিয়ে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। অবশ্যই আমি দুআ করি আল্লাহ আপনার জন্য চোখ শীতলতাকারী সঙ্গী মিলিয়ে দিন। তবে, বিয়ে না হওয়া মানেই আপনি খুব খারাপ অথবা আপনার সাথে খুব খারাপ কিছু হচ্ছে —এটা সত্য না। এভাবেই হয়তো আল্লাহ আপনাকে প্রস্তুত করছেন, আল্লাহ আপনাকে শোধরাচ্ছেন, সবরের মাধ্যমে আল্লাহ আপনার মর্যাদা উঁচু করছেন।
এই অপেক্ষার দিনগুলো মোটেও বৃথা যাবে না। এই সময়টাতেও আপনি আল্লাহর খুব প্রিয় বান্দা হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পাচ্ছেন। আপনি এই কয়টা দিন কাজে লাগিয়ে অনেক অনেক মানুষের উপকারে আসতে পারেন, ইলমে এগিয়ে যেতে পারেন, character build করতে পারেন, নিজের আখিরাতের জন্য বিশাল সঞ্চয় করতে পারেন। শয়তান চায় আপনি ভাবতে থাকুন—“যতদিন আমার বিয়ে না হচ্ছে, ততদিন কিছুই ঠিক হবে না, আমার কিছুতেই মন বসবে না।” এটা কিন্তু ধোঁকা - বিশ্বাস করুন মুমিনের জীবন এমন না। মুমিন অপেক্ষার মধ্যেও ফুল ফোটায়। মুমিনের অবস্থা খুব আশ্চর্যের - সবই তার জন্য ভালো! আমি জানি এখন এটা বিশ্বাস করতে আপনার কষ্ট হবে। কিন্তু জোর করে হলেও চেষ্টা করুন, আল্লাহ কখনো আপনার ক্ষতি চান না।
তাই এই সময়টাতে নিজেকে হারিয়ে ফেলবেন না।
marriage site endless scrolling-এর জন্য নিজের একটা টাইম ঠিক করুন। দিনের নির্দিষ্ট ছোট্ট সময় ছাড়া এসব site-এ ঢুকবেন না। বাকি সময়ে নিজেকে beneficial routine-এ বেঁধে ফেলুন।
একটা goal রাখুন নিজের মনের শান্তির জন্য,
নিজের জন্য একটা Qur’an goal রাখুন,
একটা skill-building goal রাখুন, health goal রাখুন, family contribution goal রাখুন।
কারণ শূন্য সময়, অগোছালো সময়, উদ্দেশ্যহীন সময়— এসব ব্যবহার করে শয়তান আপনার হতাশাকে বড় করে।
আর একটা কথা খুব মনে রাখবেন, আপনার value কোনো proposal-এর উপর depend করে না। কেউ পছন্দ করলো কি করলো না, profile দেখলো কি দেখলো না, বয়স কত হলো— এসব দিয়ে আপনার মর্যাদা মাপা হয় না। যতই অন্যান্য খোঁটা দিক, বা বাঁকা চোখে তাকিয়ে থাকুক। আপনার মর্যাদা কিন্তু আপনার রবের কাছে। আপনি তাঁর বান্দা। তিনিই আপনার দেখভাল করছেন। এই যে আপনি চোখের পানি ফেলছেন, অপেক্ষা করছেন, যতটা সম্ভব ভেঙে না পড়ে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করছেন—এসবই ইবাদাতের অংশ! এই যে আপনার সবর, তাওয়াক্কুল, হায়াহ আর হালাল পথে থাকার সংগ্রাম -- এগুলো আল্লাহর কাছে অনেক দামী।
কখনো কখনো হয়তো দেরি হচ্ছে অনেক, দেরি মানে এটা আপনার জন্য শাস্তি হিসেবে না, বরং এটাই হিফাযত হিসেবে। কখনো দেরি হয়, কারণ আপনি হয়তো আল্লাহ আপনাকে ভুল মানুষের হাত থেকে বাঁচিয়ে দিচ্ছেন। কখনো দেরি হয়, কারণ আপনার জন্য এমন কিছু লেখা আছে, যা এই মুহূর্তের তাড়াহুড়োতে এলে বরকত হারিয়ে যেত। আমরা সব বুঝি না, কিন্তু এটুকু জানি, আল্লাহ কখনো বান্দার ক্ষতির জন্য পরিকল্পনা করেন না।
55
5August 26, 2026 1.8K 26