আমি কীভাবে বললে আপনারা বুঝবেন আমি শিওর না, তবে প্লিজ ছোট ছোট বাচ্চাদের অল্পতেই হাতে স্ক্রিন দিয়ে দিবেন না। বিশেষ করে ২ বছরের ছোট বাচ্চাদেরকে তো একদমই স্ক্রিন দিবেন না।
অসম্ভব ক্ষতি হয়ে যায় ওদের মগজের, ওদের মানসিক বিকাশ, শারীরিক বিকাশ খুব খারাপ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এত ছোট বাচ্চাদের মস্তিষ্ক স্ক্রিনের দ্রুতগতিতে চলতে থাকা কার্টূন বা, এনিমেশন হ্যান্ডেল করতে পারে না। এতে ছোটমনিদের ব্লাড প্রেশার বেড়ে যায়, ওদের ভেতরের স্ট্রেস বেড়ে যায়, হয়তো ঐ কিছুক্ষণ তারা চুপচাপ বসে থাকবে, কিন্তু এরপর আরো চঞ্চল আচরণ করবে কারণ আপনি তাদের unsupervised ভাবে স্ক্রিন দেখতে দিয়েছেন।
আমি জানি, স্ক্রিন ছাড়া অনেক কষ্ট হয়। অনেক ক্লান্তি লাগে। কিন্তু, আপনি খুব টায়ার্ড, সেজন্য কি আপনার বাচ্চাকে একটা ছুড়ি দিয়ে খেলতে দিবেন?
এই কথাগুলো একটু শুনুন, দেখুন কেমন লাগে??
'আপু, কিছুতেই কাজ হচ্ছে না, তার চেয়ে সন্তানের হাতে একটা ছুঁড়ি দিয়ে আমি একটু রেস্ট করি ?
আমি কি করতে পারি আপু, আমি তো দিতে চাই না, কিন্তু অন্য মানুষ ওর হাতে ছুঁড়ি দিয়ে দিলে আমার কি করার আছে?
ছুঁড়ি টা হাতে দিলেই একমাত্র চুপ করে খাবার খায়, সেজন্য খাওয়ার সময় ধারালো ছুঁড়ি দিয়ে খেলতে দেই ...
দেখুন কেমন লাগে শুনতে?
আপনারা কেউ কি কখনো কোনদিন এই অজুহাতে ধারালো ছুঁড়ি ধরিয়ে দিবেন আপনার সোনামণির হাতে? দিবেন না ।
অথচ এই অজুহাতে আমরা ওদের হাতে স্ক্রিন দিয়ে দিচ্ছি, এই স্ক্রিন ওদের জন্য ধারালো ছুড়ির চেয়েও খারাপ। ওদের ক্ষতি করে। কয়দিন আগে শুনলাম, একজন মা এমন ভাবে তার বাচ্চাকে দিনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, ৭ ঘণ্টা, ১০ ঘণ্টা ধরে স্ক্রিন দেখতে দিত যে বাচ্চাটার চোখ ব্ল্যাংক হয়ে মাথা হ্যাং হয়ে যেত। কিছু দিন আগে এই ৫ বছরের বাচ্চাটা নাকে- মুখে রক্ত উঠে মারা গিয়েছে!! ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন ... বাচ্চাটার আরো কিছু বিহেভিয়ার/ অসুখ/ সমস্যা ছিল, কিন্তু এই অনিয়ন্ত্রিত স্ক্রিন দেখা একটা বিগ ফ্যাক্টর !!
ঘরে ঘরে এখন বাচ্চাদের ADHD, এগ্রিসেভনেস এত বেড়ে গেছে, ওদের সোশাল স্কিল এতো কমে গেছে, ম্যানার্স কমে গেছে, এর পেছনে স্ক্রিন এর ভূমিকা আছে ...
প্লিজ এভাবে বাচ্চাদের কষ্ট দিয়েন না!! আমি জানি আপনারা আপনাদের বাচ্চাদেরকে সবচেয়ে ভালোবাসেন, হয়তো কতটা গুরুতর ক্ষতিকর এটা বুঝতে পারছেন না দেখেই, স্ক্রিন দিয়ে দিচ্ছেন অনায়াসে। এটা স্টপ করতেই হবে। এই বাচ্চাগুলো আপনার কাছে পাঠানো আল্লাহর আমানত। আল্লাহ আপনাকে অবশ্যই এই সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে, তখন কি উত্তর দিবেন আল্লাহর কাছে?
এখন প্রশ্ন আসতে পারে, স্ক্রিন না দেখিয়ে কীভাবে রাখব?
এটা খুব কঠিন কাজ। এটার কোন শর্ট কাট নেই।
আপনাকে পরিশ্রম করতে হবে। কষ্ট হবে।
তবে এই অল্প কয়েক বছরের কষ্ট হয়তো আপনাকে সারাজীবনের কান্না থেকে বাঁচিয়ে দিবে ...
ছবি গুলো দেখেন...
আমি আমার ২ বছরের বাবুর সাথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে এঁকেছি, সে আমাকে বলেছে একটার পর একটা বলে গেছে,
"আম্মু কাশি আঁকো ... "
"আম্মু চিনি আঁকো ... "
"আম্মু, হালাল আঁকো ... "
"আম্মু, বুম-বুম আঁকো ..."
"আম্মু, ব্যথা আঁকো, ব্যথা ... "
ওয়েল সুবহানআল্লাহ!
আপনাকেও হয়তো বসে বসে 'ব্যথা', হালাল আঁকতে হবে,
একই বই আপনাকে ১৫ বার পড়ে শোনাতে হবে,
বাসা ভীষণ অগোছালো থাকবে, এটার সাথে অভ্যস্ত হয়ে যেতে হবে,
বাচ্চার সাথে সাবানের ফেনা দিয়ে খেলতে হবে ...
বাচ্চার সাথে কালারিং করতে করতে হবে ...
ছাদে নিয়ে গিয়ে খেলতে হবে ...
প্রচুর প্রচুর গল্প করতে হবে,
নিজের স্ক্রিন-টাইম কমিয়ে খিল খিল করে হাসতে হবে বাচ্চার সাথে ...
ছেঁড়া বই, ময়লা কাপড়, এগুলো চলবে ...
তবে এই কষ্টটা সাময়িক।
এই একই জার্নিতে যে কি তৃপ্তি, আনন্দ এবং বারাকাহ আল্লাহ রেখেছেন, সেটাই ঐ সাময়িক কষ্টগুলোকে স্বস্তিতে বদলে দেয়।
সো প্লিজ মায়েরা, বাবারা! রেডি হয়ে যান আপনার বাচ্চাদের এই পৃথিবীর সেরা শৈশব এবং সেরা তারবিয়াহ দিতে রেডি হয়ে যান ...
কারণ, এর ব্যপারে আপনি জিজ্ঞাসিত হবেন, আমিও জিজ্ঞাসিত হবো।
আল্লাহ আমাদেরকে, আমাদের সন্তানদেরকে হেফাজত করুন যেন সবাই জান্নাতের বাগানে একসাথে থাকতে পারি।
#প্যারেন্টিং
#রাইটিং_থেরাপি
© শারিন
90
1August 29, 2026 1.3K 19