মুহাররাম হলো নফল রোজার শ্রেষ্ঠ মাস। আজ রাতে সাহরি খেয়ে কাল থেকে শুরু হচ্ছে মুহাররাম মাসের আইয়ামে বীযের নফল রোজা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “রামাদানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মুহাররাম (মাসের রোজা)।” [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৪৫]
এজন্য মুহাররাম মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখা উত্তম। বিশেষ করে আশুরার রোজা এবং আইয়ামে বীযের রোজা রাখা। আশুরার রোজা তো চলেই গেলো, এবার আইয়ামে বীযের রোজা রাখতে পারেন। আর আইয়ামে বীযের রোজাও যদি কোনো কারণে রাখতে না পারেন, তাহলে মাসিক তিনটি নফল রোজা রাখতে পারেন। এগুলো নফল রোজা, যা মাসের যেকোনো দিন রাখতে পারেন। মাসিক তিনটি নফল রোজা প্রত্যেক মাসেই রাখা উত্তম।
❖ আইয়ামে বীযের পরিচয়:
আইয়ামে বীয অর্থ হলো, উজ্জ্বল ও শুভ্র দিনসমূহ। প্রত্যেক চন্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের জোছনাময় রাতগুলো বেশ উজ্জ্বল দেখায়। এজন্য এই দিনগুলোর নামকরণ করা হয়েছে আইয়ামে বীয।
আপনারা জানেন, আরবি চন্দ্রমাসের দিন বা তারিখ শুরু হয় সূর্যাস্ত বা মাগরিবের সময় থেকে। আজ সন্ধ্যা থেকে মুহাররামের ১৩ তারিখ শুরু হবে। সুতরাং আজ রাতে সাহরি খেয়ে কাল সোমবার (২৯ জুন) রোজা রাখবেন। এরপর আরও দুই দিন। অর্থাৎ ১৩, ১৪ ও ১৫ই মুহাররাম রোজা রাখবেন। খ্রিস্টীয় তারিখ হিসেবে ২৯ ও ৩০ জুন এবং ১ জুলাই রোজা রাখবেন।
যদি কোনো কারণে প্রথম বা শেষ দিনের রোজা মিস হয় বা রাখতে না পারেন, তাহলে মাসের অন্য কোনো দিন রাখবেন।
❖ আইয়ামে বীযের গুরুত্ব:
আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমার প্রিয় বন্ধু (নবিজি) আমাকে তিনটি কাজের অসিয়ত করেছেন। সেগুলো হলো: প্রতি মাসে তিনটি রোজা রাখা, দোহার (চাশতের) দুই রাকাত (নফল নামাজ) আদায় করা এবং ঘুমানোর আগে বিতর (নামাজ) পড়া। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ১৯৮১]
❖ আইয়ামে বীযের ফজিলত:
রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিনটি করে রোজা রাখে, সে যেন সারা বছর রোজা রাখে।” [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৭৬২; হাদিসটি সহিহ]
❖ আইয়ামে বীয কোন্ দিনগুলো?
আবু যার (রা.)-কে নবিজি বলেছিলেন, ‘‘হে আবু যার! তুমি যদি প্রতি মাসে ৩ দিন রোজা রাখতে চাও, তবে (আরবি চন্দ্রমাসের) ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রাখ।’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৭৬১; হাদিসটি হাসান সহিহ]
#Nusus