বিপদ-মুসিবতে ধৈর্যধারণের ৭ টি উপায়: এই লেখাটি আপনাকে প্রশান্ত করবে, ইনশাআল্লাহ
▬▬▬▬◄❖►▬▬▬
(১) তাকদিরের উপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখা:
.
আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘জমিনে এবং তোমাদের নিজদের মধ্যে এমন কোনো মুসিবত আপতিত হয় না, যা আমি সংঘটিত করার পূর্বে কিতাবে লিপিবদ্ধ রাখি না—নিশ্চয়ই এটি আল্লাহর পক্ষে খুবই সহজ—যাতে তোমরা সে বিষয়ে আফসোস না করো, যা তোমাদের থেকে হারিয়ে গেছে এবং তোমরা সে বিষয়ে উৎফুল্ল না হও, তিনি তোমাদেরকে যা দিয়েছেন (তা নিয়ে)। আর আল্লাহ কোনো উদ্ধত ও অহঙ্কারীকে পছন্দ করেন না।” [সুরা হাদিদ, আয়াত: ২২-২৩]
.
(২) দুনিয়ার জীবনের বাস্তবতা উপলব্ধি করা:
.
কেউ যদি দুনিয়ার জীবনের বাস্তবতা সম্পর্কে জানে, তবে তার জন্য বিপদ-মুসিবতে ধৈর্যধারণ করা সহজ হয়ে যায়।
.
রাসুল ﷺ বলেন, ‘‘দুনিয়া হলো মুমিনের জন্য কারাগার আর কাফিরের জন্য জান্নাত।” [মুসলিম, আস-সহিহ: ২৯৫৬]
.
প্রখ্যাত তাবি তাবিয়ি সুফিয়ান আস সাওরি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যাকে দুনিয়াবি কিছু দেওয়া হয়, তাকে এ কথাও বলে দেওয়া হয় যে, অনুরূপ দুঃখও গ্রহণ করো।’ (অর্থাৎ, অনুরূপ দুঃখের জন্যও প্রস্তুত থেকো) [আবু নু‘আইম, হিলয়াতুল আউলিয়া: ৭/২১]
.
(৩) বিভিন্ন দু‘আর মাধ্যমে ধৈর্য কামনা করা:
.
ধৈর্যধারণ করা নিঃসন্দেহে কঠিন কাজ। আমরা যাতে ধৈর্যশীল হতে পারি, সেজন্য কীভাবে দু‘আ করতে হবে, আল্লাহ আমাদের তা জানিয়েছেন।
.
অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদের জন্য ধৈর্যের দ্বার খুলে দিন এবং মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দিন। [সুরা আ’রাফ, আয়াত: ১২৬]
.
হাদিসে নবিজি এভাবে দু‘আ করেছেন—
.
(اَللّٰهُمَّ) أَسْأَلُكَ الرِّضَا بَعْدَ الْقَضَاءِ
.
(আল্লাহুম্মা আসআলুকার রিদ্বা বা’দাল ক্বাদ্বা)
.
হে আল্লাহ! তোমার কাছে চাই, যেন তোমার সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকতে পারি। [নাসায়ি, আস-সুনান: ১৩০৪; হাদিসটি হাসান]
.
(৪) ধৈর্যধারণের মর্যাদা ও লাভ সম্পর্কে জানা:
.
কুরআনুল কারিমে আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, ‘‘অবশ্যই আমি তোমাদের পরীক্ষা করবো—কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, সম্পদ ও জীবনের ক্ষতি এবং ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও ধৈর্যশীলদের; তাদেরকে যখন বিপদ আক্রান্ত করে, তখন বলে—নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমরা তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী। তাদের জন্যই রয়েছে তাদের রবের পক্ষ থেকে মাগফিরাত ও রহমত এবং তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত।’’ [সুরা বাকারাহ, আয়াত: ১৫৫-১৫৭]
.
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “হে আবু বকর, আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুন, তুমি কি অসুস্থ হও না? তুমি কি কষ্ট পাও না? তুমি কি দুঃখ-দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হও না? মুসিবত তোমাকে কি পিষ্ট করে না?’’ আবু বকর বলেন, ‘অবশ্যই।’ তখন নবিজি বললেন, ‘‘এগুলো তোমাদের (গুনাহের) প্রায়শ্চিত্ত।” [আহমাদ, আল-মুসনাদ: ৭০; হাদিসটি সহিহ]
.
(৫) ধৈর্যধারণের পরিণতি সম্পর্কে জানা:
.
রাসুল ﷺ বলেন, ‘‘যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য এমন মর্যাদা নির্ধারণ করা থাকে, যেখানে সে তার আমল দ্বারা পৌঁছানোর যোগ্যতা রাখে না, তখন আল্লাহ্ তাকে তার শরীর অথবা তার সম্পদ কিংবা তার সন্তান-সন্ততির প্রতি বিপদ-আপদ দিয়ে পরীক্ষা করেন এবং তাকে ঐ বিপদের উপর ধৈর্যধারণ করার তাওফিক দেন। শেষ পর্যন্ত তাকে ঐ নির্ধারিত মর্যাদায় পৌঁছে দেন।’’ [আবু দাউদ, আস-সুনান: ৩০৯০]
.
আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুল ﷺ বলেছেন, ‘‘যখন আল্লাহ তাঁর বান্দার কল্যাণ চান, তখন তিনি তাকে দ্রুত দুনিয়াতে শাস্তি দিয়ে দেন। আর, যখন আল্লাহ তাঁর বান্দার অকল্যাণ চান, তখন তিনি তাকে (শাস্তিদানে) বিরত থাকেন। পরিশেষে কিয়ামতের দিন তাকে পুরোপুরি শাস্তি দেবেন।’’ [মুসলিম, আস-সহিহ: ২৩৯৬]
.
(৬) ধৈর্যধারণের বাস্তবতা ও গুরুত্ব উপলব্ধি করা:
.
আলি ইবনু আবি ত্বলিব (রা.) বলেন, ‘(বিপদে) তুমি সবর করলে তোমার উপর তাকদির কার্যকর হবে এবং তুমি নেকি লাভ করবে। আবার, তুমি যদি সবর না করো, তবুও তোমার উপর তাকদির কার্যকর হবে অথচ তুমি গুনাহগার হবে।’ [মাওয়ার্দি, আদাবুদ দুনইয়া ওয়াদ দ্বিন, পৃষ্ঠা: ৪০৭]
.
হাদিসে এসেছে, আল্লাহ যখন কোনো সম্প্রদায়কে ভালবাসেন, তখন তাদের (বিপদ-মুসিবত দ্বারা) পরীক্ষা করেন। এতে যারা সন্তুষ্ট থাকে, তাদের জন্য (আল্লাহর) সন্তুষ্টি আর যারা এতে অসন্তুষ্ট থাকে, তাদের জন্য (আল্লাহর) অসন্তুষ্টি। [তিরমিযি, আস-সুনান: ২৩৯৬]
.
(৭) ধৈর্যধারণের চেষ্টা অন্তত করা এবং অধিক বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে দেখে সান্ত্বনা নেওয়া:
.
রাসুল ﷺ বলেন, ‘‘যে ধৈর্যধারণ-(এর চেষ্টা) করে, আল্লাহ তাকে ধৈর্যধারণের সক্ষমতা দেন।’’ [বুখারি, আস-সহিহ: ১৪৬৯]
.
আপনি যতই বিপদগ্রস্ত হোন-না-কেনো, আশেপাশে তাকালে আপনার চেয়েও দুর্দশাগ্রস্ত মানুষ আপনি পাবেন। আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করুন যে, তিনি আপনাকে তাদের চেয়ে ভালো রেখেছেন।
.
#Tasbeeh @imaanidayitto


