শান্তি বনাম শান্তির উপকরণ
আমার ওয়ালেদ মাজেদ হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ শফী ছাহেব (কুদ্দিসা সিররুহু) বড় চমৎকার কথা বলতেন। যা মানসপটে অঙ্কন করে রাখার যোগ্য। তিনি বলতেন-
'সুখ-শান্তি এক জিনিস, আর তার উপকরণ আরেক জিনিস। উপকরণ লাভ হলেই সুখ-শান্তি লাভ হওয়া জরুরী নয়। শান্তি মহান আল্লাহর দান। আমরা শান্তির উপকরণকেই শান্তি নাম দিয়েছি। একজনের কাছে অনেক টাকা আছে। ক্ষুধার সময় কি সে টাকা ভক্ষণ করবে? কাপড়ের প্রয়োজন হলে কি সে তা পরিধান করবে? গরমের সময় কি ঐ টাকা তাকে শীতলতা দান করতে পারবে? টাকা নিজেও শান্তি নয় এবং তার মাধ্যমে শান্তি ক্রয়ও করতে পারবে না।
এর মাধ্যমে যদি শান্তির উপকরণ ক্রয় করো-ও, যেমন এর দ্বারা তুমি পানাহারের বস্তু ক্রয় করলে, উন্নত মানের কাপড় ক্রয় করলে, ঘরের সাজ-সরঞ্জাম ক্রয় করলে- কিন্তু এতেই কি শান্তি লাভ হবে? মনে রেখো। শুধু এসব উপকরণ সংগ্রহ করার দ্বারাই শাস্তি পাওয়া আবশ্যকীয় নয়। কারণ, এক ব্যক্তির কাছে যাবতীয় সুখসামগ্রী আছে, কিন্তু সাহেবের বড়ি খাওয়া ছাড়া ঘুম আসে না। বিছানা আরামদায়ক। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ। চাকর-নওকর সবই আছে। কিন্তু ঘুম আসছে না। এবার বলো, যাবতীয় সুখসামগ্রী থাকা সত্ত্বেও ঘুম পাওয়া গেলো? শান্তি লাভ হলো? আরেক ব্যক্তির ঘরে পাকা ছাদ নেই। টিনের ছাউনি। চৌকি নেই। বিছানা মাটিতে বিছানো। নিজেরই একটি হাত মাথার নিচে রাখলো আর সোজা ঘুমের কোলে চলে গেল। আট ঘণ্টা পরিপূর্ণ ঘুম দিয়ে ভোরে জাগ্রত হলো। বলো? শান্তি কে পেলো? তার কাছে সুখসামগ্রী আছে, কিন্তু সুখ নেই। আর এ দিনমজুরের কাছে সুখসামগ্রী নেই কিন্তু সুখ আছে। মনে রেখো। দুনিয়ার সাজ-সরঞ্জাম সংগ্রহের পিছনে পড়লে, অন্যের চেয়ে এগিয়ে যাওয়ার ধান্দা করলে ভালো করে বুঝে নাও- সুখসামগ্রী তো লাভ হবে, কিন্তু সুখের নাগাল পাওয়া যাবে না।'
মূল : মুফতি ত্বাকী উসমানী হাফি.


