ইরান যুদ্ধ এই মুহূর্তে ঠিক কোন অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে? এই প্রশ্ন নিশ্চয় সবার মনেই ঘুর পাক খাচ্ছে। ট্রাম্প গত দুই দিনে যা যা বলেছে। এ থেকেই আপনি কিছুটা উত্তর পেয়ে যাবেন। সে বলেছে
- We will keep the Strait of Hormuz blocked and gradually weaken Iran economically. (আমরা হরমুজ বন্ধ রেখে ইরানকে আস্তে আস্তে অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল করে দেব।)
আপনাদের নিশ্চয় মনে থাকার কথা। ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর কিছুতেই পেরে না উঠে এপ্রিলের ১৩ তারিখ ট্রাম্প হরমুজ ব্লকেড শুরু করে ঘোষণা দিয়েছিল
- Their whole oil infrastructure is going to explode (তাদের পুরো তেল অবকাঠামো বিস্ফোরিত হয়ে যাবে।)
এরপর বলেছিল
- They have a matter of days before that event takes place ( এটা ঘটতে ইরানের হাতে আর মাত্র কয়েক দিন সময় আছে)
এপ্রিল পার হয়ে মে গেল। মে মাস পার হয়ে জুন, জুলাইও চলে গেল। এখন আগস্ট মাস। কয়েক দিনের কথা বলেছিল। এখন কয়েক মাস পার হয়ে গেছে। ইরানের অবকাঠামোও ভেঙে পড়ে নাই। কোন বিস্ফোরণও ঘটে নাই। আর এখন এসে বলেছে
- আমরা হরমুজ বন্ধ রেখে আস্তে আস্তে ইরানকে অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল করবো।
তো, ট্রাম্পের এই মন্তব্য শুনে অ্যামেরিকান সামরিক বিশ্লেষক কর্নেল ম্যাক-গ্রেগর বলেছেন
- Doesn’t foolish Trump realize that before weakening Iran’s economy, the American economy itself could collapse? ( বোকা ট্রাম্প কি বুঝতে পারছে না, ইরানের অর্থনীতি দুর্বল করার আগে অ্যামেরিকার অর্থনীতিই ভেঙে পড়তে পারে?)
তবে আমার মজা লেগেছে জার্মান সংবাদ মাধ্যম ডয়েচে ওয়েলের (DW) একটা রিপোর্টে। ওই রিপোর্টে প্রশ্ন করা হয়েছে
- Wasn’t it just last week that Trump wanted to destroy Iran if it didn’t reopen the Strait of Hormuz? (গত সপ্তাহেই না ট্রাম্প ইরানকে ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিল হরমুজ না খুললে?)
এরপর ওরা বলেছে
- তাহলে কেন খুলতে চেয়েছে?
এর উত্তর অবশ্য দিয়েছেন ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষক এবং ট্রাম্প প্রশাসন থেকে ইরান যুদ্ধের কারনে পদত্যাগ করা জো কেন্ট। তিনি বলেছেন
- হরমুজ না খুললে শুধু অ্যামেরিকান নয়, অ্যামেরিকার মিত্র আরব দেশগুলোর অর্থনীতিও ধ্বসে পড়বে।
তো, গতকাল এসে ট্রাম্প বলেছে
- Hormuz is open ( হরমুজ খোলা আছে!)
এই হচ্ছে ম্যানিয়াক ট্রাম্পের অবস্থা। বেলজিয়ান সাংবাদিক অ্যালাইজা ম্যাগনেইর (আমাদের সাংবাদিকদের উচিত ওর কাছে থেকে শেখা) বলেছেন
- Iranians can endure a great deal of hardship, but Americans may not be able to ( ইরানিরা অনেক কঠিন পরিস্থিতি সহ্য করতে পারবে। কিন্তু আমেরিকানরা হয়তো সেটা পারবে না।)
এটাই বাস্তবতা। ইরানের তো ক্ষতি হয়েছে। তাই বলে কি ইরানিরা কেউ ভেনেজুয়েলার মত হাল ছেড়ে দিয়েছে? বরং আরও ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। আমার মাঝে মাঝে জগতের দেশগুলোর রাজনীতিবিদদের দেখলে অবাক লাগে। এরা আমাদের মত অ্যাকাডেমিকদেড়র কথা শুনেই না। শত শত বছর আগের লেখা সান জু 'র (Sun Tzu) "আর্ট অব ওয়ার" বইটা তো সকল রাজনীতিবিদদের পড়ার কথা। এরা কি এইসব পড়ে না? সেখানে তো সে বলেছে
- If you push an enemy into a desperate, existential situation, you can actually make them more united. (আপনি যদি আপনার শত্রুকে চরম অস্তিত্বের সংকটের মধ্যে ঠেলে দেন, তাহলে উল্টো তারা আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে উঠতে পারে।)
ইরানে ঠিক সেটাই হয়েছে। ট্রাম্প যেদিন বলেছে
- ইরানকে প্রস্তর যুগে নিয়ে যাওয়া হবে। পাঁচ ঘণ্টায় পাঁচ হাজার বছর আগের সভ্যতা ধ্বংস করে দেয়া হবে।
সে দিনই ট্রাম্পের পরাজয় লেখা হয়ে গিয়েছিল। কারন একজন ইরানিও এটা মেনে নেবে না। তাহলে যুদ্ধের অবস্থা এখন কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে?
আপনি প্যাটার্নটা বুঝার চেষ্টা করেন। তাহলেই বুঝে যাবেন। আগের চুক্তিতে (MOU) ইরান দাবি করেছিল অ্যামেরিকা ওদের যেই টাকা জব্দ করে রেখেছে, সেটা কয়েক কিস্তিতে ফেরত দিতে হবে। এটাও বলেছিল সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। আর এখন কী বলছে?
এখন বলছে- সব টাকা আগে দিতে হবে। নইলে কোন আলোচনা নয়। এমনকি ইরান এবার দাবি করেছে- শুধু লেবানন, ইয়েমেন নয়। প্যা*লেস্টাইনেও সকল রকম আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে। চিন্তা করে দেখেন- যেখানে আরব রাষ্ট্রগুলো অ্যামেরিকার গোলামী করছে। সেখানে ইরান নিজেদের এত ক্ষতি সহ্য করেও প্যা*লেস্টাইনের স্বাধীনতার দাবি এখনও জানিয়ে যাচ্ছে।
যা হোক, ওদের দাবিগুলো দেখেই আপনি বুঝতে পারবেন- যুদ্ধে কে এগিয়ে আছে। ব্রাজিলিয়ান সাংবাদিক পেপ এস্কোবার বলেছেন
- এই দাবি অ্যামেরিকা যদি মেনে নেয়। এর মানে দাঁড়াবে, অ্যামেরিকার শোচনীয় পরাজয় হয়েছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদী অ্যামেরিকা কি আদৌ ইরানের এইসব মেক্সিমালিস্ট দাবিগুলো মেনে নেবে? তাহলে তো প্রকাশ্যে পরাজয় মেনে নিতে হবে। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মারান্ডী বলেছেন
- Iran is fully prepared for another full-scale war. ( ইরান আরেকটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।)