একটি ধারালো তলোয়ার দিয়ে একজন মানুষের গলা কেটে দেয়া বনাম বিমান থেকে একজন পাইলট নিচে একজন মানুষকে বোমা মেরে ছিন্নবিন্ন করে ফেলা
— দুটোই হত্যা, খুন, প্রাণনাশ।
বিশ্বমঞ্চে দুটোর মাঝে তলোয়ারের পদ্ধতিকে অসভ্য, বর্বর, অমানবিক অ্যাখ্যা দেয়া হলো এবং এরপর সাদা চামড়ার রুশ আর মার্কিনিরা টানা কয়েক দশক ধরে — আফগানিস্তানে লক্ষ লক্ষ মানুষকে বোমা, বুলেট দিয়ে ছিন্নবিন্ন করে দিলো।
এগুলোকে অসভ্যতা, বর্বরতা, অমানবিকতা বলে চিহ্নিত করা হলোনা। কেন? কারণ সাদা চামড়ার মানুষের হাতে করা প্রাণধাশ একটি পবিত্র কাজ! তারা শান্তির জন্য অশান্তি করার অধিকার রাখেন। তারা নিজেদের পছন্দের শাসক গদিতে আনার জন্য গণহত্যার অধিকার রাখেন।
সোভিয়েত ও মার্কিন আগ্রাসনে আফগানিস্তানের মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ মানুষ নিহত হয়েছিলেন। এমন কোনো পরিবার সচরাচর পাওয়া যেতোনা যাদের স্বজন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
বিশ্বমঞ্চ এসব ঘৃণ্য কারনামাকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নাম দিয়েছে। সবচে আশ্চর্যের বিষয় হলো, আফগান মুসলিমদের স্বজাতির অনেকে এই তামাশাজনক ব্যাখাকে গ্রহণ করেছে।
অবস্থা এমন যে, সাদা চামড়ার উন্নত মানুষের কাছে — বুদ্ধের একটি নির্জীব মূর্তির মূল্য লক্ষ লক্ষ আফগান মানুষের থেকে বেশি ছিল।
কষ্টের মুহূর্তে স্ট্যালিনের একটি উক্তি মনে আসছে,
একজন মানুষের মৃত্যু ট্রাজেডি কিন্তু লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু শুধুই পরিসংখ্যান।
ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত অবরুদ্ধ গাজ্জার দিকে তাকালোও একই কথা মনে আসছে। সময় পরিবর্তন হলেও সাদা চামড়ার মানুষের সাম্রাজ্যবাদী চরিত্রের পরিবর্তন হয়নি।
অবলম্বন: শ্বেত সন্ত্রাসের এই সময় (বই) ও ইন্টারনেট














