ফেসবুক থেকে পাওয়া কফি এনেমার সরঞ্জামাদির ছবি। একটা বড় মগ সাইজ পট, ফ্লেক্সিবল প্লাস্টিক পাইপ এবং মলদ্বার দিয়ে প্রবেশ করানোর বিশেষ ডিজাইনের কিট। পাশেই নারিকেল তেলের বোতল। এগুলো ব্যবহার করেই কফি এনেমা করা হয় বলে জেনেছি।
ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর সাথে এনেমার একটা অপরিহার্য সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে যেসব হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে CT Scan, MRI, X-ray Barium Enema ইত্যাদি সার্ভিস চালু রয়েছে সেখানে এনেমা দেওয়ার ডেডিকেটেড বাথরুমও রয়েছে। Whole Abdomen, Lower Abdomen, Colon, Rectum ইত্যাদি পরীক্ষানিরীক্ষা করার জন্য যে টেস্টগুলো ডাক্তাররা দিয়ে থাকেন সেগুলো সুচারুরূপে করতে কিছু প্রসিডিউর অনুসরণ করতে হয়। তন্মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি হল এনেমা দেওয়া।
এই এনেমার প্রসিডিউরটা একধারে বিব্রতকর এবং অস্বস্তিকর। কোনো রোগীই এটার সম্পর্কে পূর্ব থেকে অবগত থাকেন না। নির্দিষ্ট বয় বা হাসপাতালের নিয়োজিত কর্মী রোগীকে বাথরুমে নিয়ে ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে প্রসেস সম্পর্কে বিস্তারিত বলে দেন। রোগী একা ব্যবহার করতে পারলে হাসপাতালের নিয়োজিত ব্যক্তি বের হয়ে আসেন, অন্যথায় সে-ই রোগীকে উলঙ্গ করে পায়ুপথে ফার্মেসি থেকে আনা এনেমা টিউব ঢুকিয়ে চাপ দিয়ে পুরো মেডিসিন পুশ করে বের হয়ে যান। দুই এক মিনিট পর রোগীর পেটে জমে থাকা পায়খানা বা অন্যান্য দূষিত বর্জ্য বের হয়ে আসে। এটা ব্যবহারের পর পেটে কোনো অপাচ্য পদার্থ বা বর্জ্য অবশিষ্ট থাকে না। ফলে স্ক্যান করে পেটের যাবতীয় অর্গানের নিখুঁত ছবি নেওয়া এবং বিশ্লেষণ করা সহজ হয়। এনেমা না করলে অনেক সময় ছবি ঝাপসা আসে এবং প্রকৃত সমস্যা স্ক্যানে আসে না। এটা করা হয় চিকিৎসার অংশ হিসেবে নয়, বরং স্বাস্থগত পরীক্ষা নিখুঁতভাবে করতে এই বিব্রতকর প্রসিডিউরটা মেইনটেইন করা হয়।
তবে কারোর তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে যদি পায়খানা বন্ধ থাকে তখন ডাক্তাররা এই এনেমা করতে বলেন। সেক্ষেত্রে রোগীকে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর সহযোগিতা নিয়ে করতে বলা হয়। নিজে করতে গেলে বিপত্তি ঘটতে পারে। বাদবাকি ছোট সাইজের সাপোজেটরি ঔষধ ব্যবহার হয় মলদ্বার দিয়ে।
কিন্তু ইদানীং এমন এক এনেমা বাজারে এসেছে যেটার সম্পর্কে আমাদের জানাশোনা একদমই নেই। অর্গানিক কফি মগে ভরে সেই মগের তলদেশ দিয়ে যাওয়া পাইপের সাহায্যে পায়ুপথে ঢোকানোর পদ্ধতির কথা জানতে পেরেছি। লুব্রিক্যান্ট হিসেবে অর্গানিক নারিকেল তেল ব্যবহার করতে হবে। ব্যক্তি নিচের ফ্লোরে শুয়ে থাকবেন। কফিভর্তি বিশেষ মগ থাকবে উপরে কোথাও লটকানো। সেখান থেকে ফ্লেক্সিবল পাইপের সাহায্যে নিজের পায়ুপথে লাইন দিয়ে দেবেন। ব্যাস, কফি ধীরেধীরে পাইপ দিয়ে পায়ুপথ হয়ে পেটের ভেতর ঢুকে পুরো পরিপাকতন্ত্র ডিটক্স বা দূষণমুক্ত করে লিভারে কিটন বডি তৈরি করবে। কী এক হাস্যকর গল্প!
আল্লাহ মানুষের শরীরকে এমন একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ব্যবস্থা দিয়েছেন, যেখানে বর্জ্য অপসারণের জন্য বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতি সেকেন্ড ধরে কাজ করে। বিশ্রাম নেই, অবসর নেই। কুরআনে আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সর্বোত্তম কাঠামোয় সৃষ্টি করেছি।” — সূরা আত-তীন, ৯৫:৪
সুতরাং শরীরের নিজস্ব ব্যবস্থা অকার্যকর ধরে নিয়ে "এভাবে ডিটক্স না করলে সুস্থ থাকা যাবে না"—এই নিয়তে নিয়মিতভাবে বাইরে থেকে ডিটক্স করানোর এই উদ্ভট ধারণা ইসলামী চিন্তার মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
শরীর থেকে বর্জ্য অপসারণের বাস্তব প্রক্রিয়া আছে। এই প্রক্রিয়া আল্লাহ নিখুঁতভাবে সাজিয়েছেন। যেখানে যা দরকার তা-ই দিয়েছেন। লিভার, কিডনি, ফুসফুস, অন্ত্র ও ত্বক বিভিন্নভাবে কাজ করে।
লিভার রাসায়নিক ও বিপাকজাত পদার্থকে প্রক্রিয়াজাত করে। কিডনি রক্ত ছেঁকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত পদার্থ প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়। ফুসফুস কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ অনেক ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দেয় প্রতিমুহূর্তে। অন্ত্র অপাচ্য ও বর্জ্য মলের মাধ্যমে অপসারণ করে। ত্বক ঘাম ও অন্যান্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দূষিত কিছু পদার্থ বের করে দেয়। এগুলো আল্লাহ প্রদত্ত একমাত্র কার্যকর ডিটক্স সিস্টেম। বাহির থেকে ডিটক্স করার চেয়ে শরীরের স্বাভাবিক detoxification system-কে সুস্থ রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
মলদ্বার একটি গোপন অঙ্গ। অপ্রয়োজনে সেখানে কোনো পদার্থ প্রবেশ করানো ইসলামী শালীনতা ও স্বাভাবিকতার পরিপন্থী। মলদ্বার দিয়ে কিছু ঢোকানোতে অভ্যস্ত করে ফেলা এবং কফি এনেমার নামে মলদ্বারকেন্দ্রিক গোপনীয়তা ভেঙে পারভার্সন বা কোনো কিছুকে তার মূল বা স্বাভাবিক উদ্দেশ্য থেকে সরিয়ে ভুল বা অস্বাভাবিক দিকে নিয়ে যাওয়া ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে মারাত্মকভাবে সাংঘর্ষিক। সুস্থ থাকার নামে এমন বেহায়াপনার মার্কেটিং করাকে ইসলাম কখনোই স্বাভাবিক চোখে দেখে না।