আমাদের ভাই-বোনেরা কি এখনো বুঝবেনা?!
জি হা দের নাম ভাঙিয়ে কতশত তরুণ-তরুণী , কিশোর-কিশোরীকে বিভ্রান্ত করেছে বাংলাদেশের স্যুডো জঙ্গীরা।
আপনি যদি তাদের কাজের প্রসেস খেয়াল করেন বুঝতে পারবেন কতটা শঠতার সাথে তারা এসব বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।
হয়তো জেনেবুঝে অথবা জাহালাতের কারণে।
শুরুতেই, সালাফিদের ব্যাপারে বলা শুরু করলো অমুক "মাদখালী'', তমুক “শাসকের পা চাটা গোলাম”, অমুক শাইখ “জিহাদ বিরোধী” । এভাবে বলে একদল ভাই-বোন যারা বড় বড় সালাফি শাইখের কথা শুনে দ্বীনের পথে এসেছিলো তারা এসব শাইখের ব্যাপারে খারাপ ধারণা করতে লাগলো , ছড়াতে লাগলো।
তাদের কাছে তাওহীদ শেখার আগে “বিশ্বরাজনীতি” নিয়ে জানা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেলো। এভাবে তারা না "তাওহীদ" শিখলো না শিখলো “বিশ্বরাজনীতি” , অতঃপর জীবনের পরীক্ষার চাপে তারা হারিয়ে গেলো দ্বীনের জজবা থেকে। হয়তোবা দ্বীন আছে বেইসিকটা ঠিকঠাক কোনমতে।
এসবেও যখন পড়ুয়া সালাফিদের , সালাফি উলামাদের থেকে সরানো যাচ্ছিলোনা তখন তারা প্রচার করতে লাগলো তারা “নজদী সালাফি” কিংবা আসল সালাফি, বাকীরা "শাসকের দালাল",হ্যান ত্যান। কন্টেক্সটবিহীন নানাবিধ বক্তব্য তারা ছড়াতে লাগলো। ইবনু উছাইমীন , বিন বায রহিমাহুমুল্লহদের নাম ভাঙিয়ে তারা প্রমাণ করার চেষ্টা করতে থাকলো তারাই আসলে সালাফি বাকীরা দরবারী। বক্তব্যের কন্টেক্সট না দিয়ে কিংবা অস্পষ্ট বক্তব্য, পূর্বের বক্তব্য এনে এদের মতের পক্ষে নেয়ার প্রচেষ্টা চালাতে লাগলো।
ধীরে ধীরে অনেক/কিছু যুবক-যুবতী এদের দ্বারা প্রভাবিত হতে থাকলো।
রিসেন্টলি দেখবেন শক্তি , আসিফ আদনানদের মতো লোকেরা সাফাইমূলক নানা বক্তব্য দিচ্ছে অথচ আসিফ আদনান “আসিম আল বারকাওয়ী” বা মাকদীসির মতো চরম তাকফীরির বই অনুবাদ/সম্পাদনা করে ছড়িয়েছে বাজারে।
আর শক্তি তো আশ শাবাব(জঙ্গিগোষ্ঠী)দের নিয়ে কথা বলেছে বলে টেলিগ্রামে পাওয়া যায়।
এদের অবস্থা “ধরি মাছ না ছুঁই পানি”র মতো। এরা কৌশলে একদল তরুণ-তরুণীদের উগ্রবাদে ডাকবে , যখনই অবস্থা খারাপ দেখবে তখনই সাফাই গাইবে।
যাই হোক, তাদের দেয়া অপবাদের অন্যতম শিকার ব্যক্তি হলেন , প্রফেসর ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া। নানান অপবাদ দিয়েছিলো এই গোষ্ঠি। আলহামদুলিল্লাহ তিনি তার জায়গাতেই, মানহাজেই আছেন(বরঞ্চ এখন উনি আগের চেয়েও আরো সুন্দরভাবে বিশুদ্ধ মানহাজের প্রচার করছেন) , আর এসব উগ্রবাদীরা বেশ বদলাতে প্রস্তুত।
ভাই-বোনদের বলবো, উলামাদের ফলো করুন। প্রথমত বেশি বেশি দুআ করুন, নিজের জন্য, অন্যের জন্য। উলামাদের ফলো করুন।(অন্ধভক্তি নয়)। আর সালাফদের মানহাজকে আঁকড়ে ধরুন এমনকি এজন্য আপনাকে “সুপার সালাফি” বলুক বা অন্যান্য কঠোরতার ট্যাগেই অভিহিত করুক না কেনো। যারা এসব করছে দেখবেন তাদের কেউ কেউ এই উগ্রবাদী আসিফ আদনানের বই বিক্রি করছে অন্য ছুঁতো দিয়ে । এদের ছুঁতোয় দেখলাম কেউ কেউ কনভিন্সডও, শেইম! এদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কেউ যদি এই উগ্রবাদীর প্রতি দূর্বলতা অবলম্বন করে হয়তোবা এই গুনাহের দায়ভার এদেরও। আশা করছি তারা এই থেকে সরে আসবে।
সাধারণ মানুষদেরকে এসব উগ্রবাদীদের অন্যান্য বইও পড়তে নিষেধ করা হয় শুধুমাত্র এইজন্য যে, তারা নিজেরা বেইসিক ঠিক না করে অন্যক্ষেত্রে গেলে দ্বীন নিয়ে সংশয়ে পড়ে যেতে পারে।
তাই আগে দ্বীনের বেইসিক মজবুত করুন। উলামাদের বই পড়ুন। যারাই দেখবেন “বিশ্বরাজনীতি” কিংবা “ইতিহাস” এসবকে তাওহীদের উর্ধ্বে গুরুত্ব দিচ্ছে তাদের থেকে সরে পড়ুন। আপনি, আমি সাধারণ লোক। আমাদের জন্য আগে তাওহীদ শিখতে হবে, শেখাতে হবে। বাকীগুলোর গুরুত্ব নেই তা না, তবে গুরুত্বের স্তর আমরা না বুঝলে সমস্যা। মানহাজ-আক্বিদা শিখার পাশাপাশি আরবীতে গুরুত্ব দিন, ইংরেজিতে গুরুত্ব দিন। বাইরের শক্তিশালী মানহাজের আলিম-ত্বলিবুল ‘ঈল্মদের ক্লাস করুন। মহান আল্লহ রহম করুন। যেসব ভাই-বোন এসব উগ্রবাদীদের ফাঁদে পড়েছেন, ভুল বুঝেছেন মহান আল্লহ তাদের হিদায়াত দিন,আমাদের হিদায়াত দিন।আমিন।
কবরে জিজ্ঞেস করবে "তোমার রব কে?"।
আমার জবাব আমাকেই দিতে হবে, কে কি করলো তা নিয়ে মাথাব্যথা না করে, একটা লিস্ট করুন। ফরজ কাজগুলোর।
এরপর নফল। এভাবে শিখুন, শেখান। যে দায়িত্ব আপনার কাঁধে দেয়া হয়নি তা নিতে যাবেন না।
- আবূ আব্দুল্লাহ