❝আমি আমার পূর্বের বক্তব্য প্রত্যাহার (رجوع) করছি এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত❞
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته
আমরা প্রায়ই দেখি কিছু গোষ্ঠী যারা বিদআতি সাব্যস্ত করা (تبديع) এবং বয়কট (هجر) করার ফিতনায় আক্রান্ত। তাদের মধ্যে অনেকে (সবাই না) আবার এমনও বলে যে, “অমুক অমুককে বিদআতী বলেছে। তুমি যদি তাকে বিদআতী না বলো, তাহলে তুমিও বিদআতী। তোমাকেও বর্জন করা হবে।”
তারা কোনো এক আলেমের বিরুদ্ধে অন্য এক আলেমের খন্ডন দেখে তারা সেই আলেমকে বিদআতি বলে অথচ সেটা সেই আলেমের ইজতিহাদ। কোনো আহলুস সুন্নাহ ব্যক্তির থেকে ভুল হতে পারে আবার তার সম্পর্কে যা বলা হচ্ছে তা আদৌ সঠিকও নাও হতে পারে। অথবা একটি ভুল হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে বয়কট করা হবে, বিদআতী বলা হবে এটা সালাফদের মানহাজ নয়।
তাদের মধ্যে আরেকটি বিষয় দেখা যায় সেটি হলো আহলুস সুন্নাহর কিছু আলেমকে দিয়ে অন্যের মানহাজ যাচাই করা৷ তবে কোনো ব্যক্তি কখনো মানাহজ যাচাইয়ের মানদণ্ড হতে পারেনা। এটিকে মুহাদ্দিস শাইখ মুহসিন আল আব্বাদ বিদআত বলেছেন।
আমি এদেরকে অনেক কাছ থেকে দেখেছি এবং একটা সময় আমিও এই ফিতনায় পতিত হয়েছিলাম।
এর জন্য আমি বেশ কিছু আলেমকে বিদ’আতী বলেছিলাম যেমন শাইখ সলেহ আল মুনাজ্জিদ حفظه الله, মুহাদ্দিস শাইখ আবু ইসহাক আল হুওয়াইনী رحمه الله, শাইখ মুস্তফা আল আদাউঈ حفظه الله সহ হয়তো আরও কেও কেও।
এবং দেশীয় দাঈ আহমাদুল্লাহ সহ আরও কিছু জনকে বিদ’আতি বলেছিলাম, তাদের ভুল আছে তবে তারা বিদআতি না।
আমি আমার পূর্বের বক্তব্য প্রত্যাহার (رجوع) করছি।
▌প্রশ্ন:
হে শাইখ, আল্লাহ আপনাকে হিফাজত করুন।
আপনার ব্যাখ্যাসহ সহীহ মুসলিম-এর ভূমিকা পাঠে উপস্থিত হওয়ার তাওফীক আল্লাহ অনেক তালিবুল ইলমকে দান করেছেন। তবে ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ) যে নীতিমালাগুলো সেখানে উল্লেখ করেছেন, সেগুলো কিছু মানুষের কাছে ভুলভাবে প্রয়োগ হয়েছে। তারা সেগুলোকে আহলুস সুন্নাহর কিছু ভাইয়ের ওপর প্রয়োগ করছে।
যেমন, কোনো একজন আলিম ইজতিহাদের ভিত্তিতে কাউকে বিদআতী বলেছেন, কিন্তু অন্য একজন আলিম তার সঙ্গে একমত হননি। তখন তারা অন্যদেরও বাধ্য করতে চায় ওই ব্যক্তিকে বিদআতী বলতে।
এরপর যে আলিম বা তালিবুল ইলম এতে তাদের বিরোধিতা করে, তাকে তারা বয়কট করে এবং তার ব্যাপারে সতর্ক করতে থাকে। তারা মনে করে এটাই সালাফদের মানহাজ।
অথচ উভয় পক্ষের আকীদা এক, মানহাজও এক। অন্যদিকে তাদের অনেক দেশের অবস্থা এমন যে, সেখানে শিরক, যাদু এবং সুফিবাদ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে আছে।
এ বিষয়ে এমন কোনো নসীহত কি করবেন, যা হককে স্পষ্ট করবে এবং মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ করবে?
❐ মুহাদ্দিস শাইখ মুহসিন আল আব্বাদ حفظه الله-এর উত্তর:
আমি বলি, আল্লাহ যাকে তাওফীক দিয়েছেন, তার কর্তব্য হলো হককে স্পষ্ট করে বর্ণনা করা এবং যার কাছে হক পৌঁছানো হয়েছে তার জন্য আল্লাহর কাছে হিদায়াত কামনা করা। কিন্তু এরপর যদি সে ব্যক্তি তা গ্রহণ না করে, তাহলে তার পেছনে লেগে থাকা বা তাকে অনুসরণ করে বেড়ানো উচিত নয়।
কিংবা এমন নয় যে, সঙ্গে সঙ্গে তাকে বয়কট করতে হবে, যেমনটি কিছু অল্পবয়সী তালিবুল ইলম করে থাকে। এরা দ্বীনের মৌলিক বিষয়ই ভালোভাবে জানে না। এদের কেউ ইউরোপে, কেউ প্রাচ্যে, কেউ আরব দেশগুলোতে আছে। অথচ তারা দ্বীনের প্রাথমিক বিষয় সম্পর্কেই অজ্ঞ। অথচ তারা মানুষকে বিদআতী বলা এবং বর্জন করার ফিতনায় আক্রান্ত।
তাদের অবস্থা এমন যে, "অমুক অমুককে বিদআতী বলেছে। তুমি যদি তাকেও বিদআতী না বলো, তাহলে তুমিও বিদআতী। তোমাকেও বয়কট করা হবে।"
এটি সালাফদের পদ্ধতি নয়।
শাইখ বিন বায (রহিমাহুল্লাহ) কখনো এমন করতেন না। তাঁর জ্ঞান ছিল অগাধ, তাঁর খণ্ডনমূলক লেখাও অনেক। কিন্তু তিনি ইলম নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন। কে তাঁর জবাব দিল, কে বিরোধিতা করল, এসব নিয়ে তিনি মানুষের পেছনে লাগতেন না। তিনি হককে স্পষ্ট করতেন এবং ইলমের পথে নিজের কাজ চালিয়ে যেতেন।
এটাই সঠিক পদ্ধতি।
আর আজ কিছু অল্পবয়সী তালিবুল ইলম, যারা বিভিন্ন স্থানে রয়েছে, তাদের কাছে প্রকৃত ইলমই নেই। তারা নিজেদের ভাইদের সঙ্গে দেখা হলেই বলে:
"অমুক বিদআতী। তুমি যদি তাকে বিদআতী না বলো, তাহলে আমিই তোমাকে বিদআতী বলব।"
অথচ সে ব্যক্তি আহলুস সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত।
আহলুস সুন্নাহর ব্যাপারে এ ধরনের কথা বলা মোটেই শোভনীয় নয়। আহলুল বিদআতের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। কিন্তু কোনো আহলুস সুন্নাহ ব্যক্তির থেকে কোনো ভুল প্রকাশিত হতে পারে অথবা হতে পারে সেটি সত্যিই ভুল, আবার তার সম্পর্কে যা বলা হচ্ছে তা আদৌ সঠিকও নাও হতে পারে।
কিন্তু এমন আচরণ কোনো অবস্থাতেই বৈধ নয়। এই উম্মাহর সালাফদের থেকে কখনো জানা যায়নি যে, কারো কাছ থেকে একটি ভুল হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে বয়কট করা হবে, বিদআতী বলা হবে এবং মানুষকে বাধ্য করা হবে তাকে বিদআতী বলতে বা বয়কট করতে।
এটি সালাফদের মানহাজ নয়।