রাজনৈতিক দল হিসেবে একমাত্র আওয়ামীলীগই একটা প্যাকেজ রাজনীতি করে। একদিকে তাদের রাজনৈতিক দর্শন, কালচার,বুদ্ধিজীবি,চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব, মিডিয়া ও একনিষ্ঠ রাজনৈতিক কর্মী যেমন রয়েছে তেমনি আন্তর্জাতিক লবিং, ডিপস্টেট ও বিশ্বস্ত প্রশাসনও রয়েছে। ধরেন রাজনৈতিক দর্শন হিসেবে তারা মুজিব কাল্ট মনে প্রাণে ধারণ করেন। আওয়ামী বুদ্ধিজীবিরা কালচারাল সাইট নিজেদের দখলে রেখে সংস্কৃতিক অঙ্গন নিজেদের করে রেখেছে। তাদের কাঠামোর বাইরে আপনার কাজের গ্রহণযোগ্যতা সীমিত। উদিচি, ছায়ানট, বাংলা একাডেমি, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, গ্রন্থাগার অধিদপ্তর সহ রাষ্ট্রের অন্যান্য সংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান হাসিনার ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। এরপর আসেন সংবাদপত্র। বিশিষ্ট সংবাদপত্রের সম্পাদকেরা পর্যন্ত এজেন্সির সাথে যুক্ত হয়ে ফ্যাসিবাদের কাঠামো মজবুত করেছিল। এরপর নাটক সিনেমা ও খেলোয়াররা প্রত্যক্ষভাবে ফ্যাসিবাদি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে। এরপর প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আন্তর্জাতিক সমর্থন ও ডিপস্টেটের কৌশলী সিদ্ধান্ত ফ্যাসিবাদী ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করেছিল। এক কথায় আওয়ামীলীগ একটা শক্তিশালী প্যাকেজ রাজনীতি করে।
এবার আসেন অন্যান্য রাজনৈতিক দল কি রাজনীতি করে সেটা দেখি। বিএনপি দুর্বল বুদ্ধিবৃত্তিক বুদ্ধিজীবিতা আপহোল্ড করে।
তাদের বুদ্ধিজীবিরা কালচারালি লীগের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করে। লীগের তৈরি করা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর উপর তারা রাষ্ট্রীয় পলিসি তৈরি করে। দিন শেষে ভূমি দখলের রাজনীতির বাইরে রাজনীতি করতে দেখি না। প্রতিটি ফ্যাসিবাদী প্রতিষ্ঠান লীগের অনুপস্থিতিতে বিএনপিকে সমর্থন দিচ্ছে। জাস্ট এতটুকু।
এরপর জামায়াতের অবস্থা আরো ভয়াবহ। আওয়ামী মিডিয়া লীগের অনুপস্থিতিতে বিএনপির সেবা দেবে, তবে জামায়াতের হয়ে সে কোন দিন কাজ করবে না সেটা স্পষ্ট। আদর্শিক ভাবে জামায়াত শক্তিশালী তবে রাজনৈতিক জ্ঞানের চেয়ে তাদের সাংগঠনিক জ্ঞান ভালো। তাই দিন শেষে ভূমি দখলের রাজনীতি ছাড়া নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতি আর হয়ে ওঠে না। জামায়াতের মিডিয়া লাগে না। বুদ্ধিজীবি লাগে না। প্রশাসন লাগে না। আন্তর্জাতিক লবিং লাগে না। ডিপস্টেটের ক্ষমতার হাত মাথায় রাখা লাগে না। দিন শেষে তাদের সাথে কথা বলে পারবেন না। তারা বলবে তারা বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি করে। তারা ইসলামী আন্দোলনের রাজনীতি করে। রাজনৈতিক দর্শন, কালচার,বুদ্ধিজীবি,চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব, মিডিয়া ও একনিষ্ঠ রাজনৈতিক কর্মী ছাড়া ক্ষমতার রাজনীতি অসম্ভব। সেই সাথে আন্তর্জাতিক লবিং, ডিপস্টেট ও বিশ্বস্ত প্রশাসনের হাত মাথায় থাকা লাগবে। যদি ডিপস্টেট মুলা ঝুলিয়েও থাকে তাহলে সেই মুলা উগ্র জাতীয়তাবাদী মুলা সেটা বোঝার ক্ষমতা কি আছে! এই মুলা আরেকটা ফ্যাসিবাদি বন্দোবস্তের দিকে যাচ্ছে কিনা সেটা কে জানে!