নিয়তের বিষয়ে অনেকের ভুল ধারণা আছে। সংক্ষেপে বলছি। সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ।
হাদিসে এসেছে, সমস্ত কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ কোনো কাজ ভালো বা মন্দ হওয়াটা নির্ভর করে নিয়তের ওপর। নিয়ত ভালো হলে কাজটাও ভালো। আর নিয়ত খারাপ হলে কাজটা হবে খারাপ।
বলা হয়ে থাকে, কুরআনের পর সবচেয়ে বিশুদ্ধ গ্রন্থ হলো সহিহ বুখারি। ইমাম বুখারি রাহিমাহুল্লাহ তার এই গ্রন্থে সবার আগে যে হাদিসটি এনেছেন, সেটি হলো নিয়তের এই হাদিস। যেহেতু সবকাজে নিয়ত সবার আগে এমনকি দ্বীনি ইলম অর্জনেও নিয়ত শুদ্ধ হওয়া জরুরি, সেজন্য তিনি হাদিসটিকে সবার আগে এনে পাঠককে নিয়ত শুদ্ধ করে নিতে বলেছেন।
দুনিয়াতে যত কাজ হয়, সব দুই ধরণের।
১. হালাল কাজ ২. হারাম কাজ।
নিয়তের যে ব্যাপারটা হাদিসে বলা হলো, সেটা হালাল কাজের বেলায় প্রযোজ্য। হারাম কাজের ক্ষেত্রে নিয়তের বিষয়টি ধর্তব্য নয়। হারাম কাজ আপনি যে নিয়তেই করেন না কেন, সেটা হারামই থাকবে। কখনো হালাল হবে না।
উদাহরণ দেই। একজন মানুষ এক হাজার টাকা সাদাকা করল। কাজটা যদি সে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সাওয়াবের নিয়তে করে, তাহলে ভালো। আর যদি মানুষকে দেখানোর জন্য বা দানবীর উপাধি পাবার জন্য করে, তাহলে সেটা রিয়া (লৌকিকতা, যেটা ছোট শিরক।)
একটা ছেলে একটা মেয়ের সাথে রিলেশন করে। তার নিয়ত হলো মেয়েটাকে বিয়ে করা। তাকে হালাল জীবনসঙ্গী বানানো। কিন্তু কাজটা কি হালাল হবে? কক্ষনো নয়। বেগানা ছেলেমেয়ের রিলেশন সম্পূর্ণ হারাম। যে নিয়তেই করা হোক, কাজটা হারামই থাকবে। একইভাবে কেউ যদি এই নিয়তে সুদি একাউন্ট খুলে যে, সুদটা গরিবদের সাদাকা করব এবং এতে তাদের উপকার হবে। তাহলেও এই কাজটা হারামই থাকবে। মোটেও হালাল হবে না।
✍️ আবুল হাসানাত কাসিম হাফি.
Forwarded from𝒎𝒖𝒔𝒍𝒊𝒎𝒂𝒕𝒓𝒊𝒙
10September 5, 2026 302 5