পারিবারিক নিয়ম মানাকে পরাধীনতা মনে করা ◆ কেন প্রতিদিন রাতে একসাথে… — 𝒎𝒖𝒔𝒍𝒊𝒎𝒂𝒕𝒓𝒊𝒙 — TG.ME

𝒎𝒖𝒔𝒍𝒊𝒎𝒂𝒕𝒓𝒊𝒙দুটো বইয়ের সূচিপত্র দেখা হয়েছে। আর কিছু ফেসবুক পোস্টে ঐ বইগুলোর কিছু কিছু অংশ পড়েছি। ১| পর্দাগাইডলাইন, সব বয়সী নারীদের জন্য জরুরী বই। এমনকি পুরুষদের জন্য এটা কাজে লাগবে। কিভাবে নিজের ঘরের নারীদের পর্দার মাঝে রাখতে হবে এর পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা আছে। ২|…
পারিবারিক নিয়ম মানাকে পরাধীনতা মনে করা

◆ কেন প্রতিদিন রাতে একসাথে খেতে হবে? এটা আবার কেমন হুকুম!
প্রতিদিন সবাই মিলে একসাথেই খেতে হবে! আমি আমার ইচ্ছামতো যখন-তখন খেতেও পারব না?

◆ আমার বাইরে যাওয়া দরকার, যাব। কেন বাসায় বলতে হবে? আমি তো আর অন্য কিছু করতে যাচ্ছি না। সব সময় এত পারমিশন নিতে পারব না।

◆ প্রতিবছর কেন শ্বশুরবাড়িতে ঈদ উদযাপন করতে হবে? ঈদের সময় কী একটা পরিবর্তিত হয়ে রাস্তার মধ্যে যেতে হবে, এর মধ্যে যেতে হবে কী? তাহলে একটা পারিবারিক নিয়ম।

◆ শ্বশুরবাড়ির ফ্যামিলি মিটিংয়ে ছেলে-মেয়ে ছাড়া কোনো বেটার বউ থাকতে পারবে না। এটা কোন ধরনের সিস্টেম? ছেলের বউ তো ফ্যামিলিরই সদস্য। বাড়ির বাইরের কেউ তো না।

পারিবারিক নিয়ম সম্পর্কে অনেক বউ-মা এভাবে মন্তব্য করেন। শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে থাকার সময় যেমন এ সমস্ত নিয়ম থেকে আপনি বের হয়ে আসতে পারেন না, তেমনি একক পরিবারে থাকার সময়ও আপনি পারিবারিক নিয়মগুলো অবহেলা করতে পারেন না।

যাই হোক, আপনার আশেপাশেই এমন অনেক পরিবার আছে, যেখানে তাকালেই এই ধরনের কিছু ছোটখাটো নিয়ম চোখে পড়বে। এই পারিবারিক নিয়মগুলো সকলের খুব যত্নের, পরিবারের সদস্যরা এগুলোর প্রতি একধরনের মায়া বা দুর্বলতা অনুভব করে।

এখন পরিবারে নতুন বউ আসার পরে সে যদি এসব নিয়ম মানতে না চায় বা নিয়মগুলোর প্রতি অবহেলা দেখায়, তার অবহেলাপূর্ণ আচরণ পরিবারের সবার মনেই কষ্ট দেয়। মোটামুটি সচ্ছল ও শিক্ষিত পরিবারগুলোতে এসব আচরণের ফলে মনকষাকষি খুব বেশি হয়।

আর বউ-মা এ ধরনের বিষয়গুলোকে পরাধীনতা মনে করে। মনে মনে ভাবে, বিয়ে-শ্বশুরবাড়ি তার সমস্ত স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে। সে এখন আর আগের মতো যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারে না। অনেক বউ-মা আক্ষেপ করে বলেন, এখানে ব্যক্তি-স্বাধীনতা বলতে কিছুই নেই।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আগে কি সে যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারত?

স্বাধীন বলে যে চিৎকার-চেঁচামেচি করি, আসলে আমরা কতটুকু স্বাধীন?

ধরুন, আপনার ইচ্ছা হলো রাস্তার মাঝখান দিয়ে হাঁটতে। আপনি তা পারবেন না। কিংবা সবুজ মাঠ চিরে চলে যাওয়া রেললাইনের ওপর বসে থাকতে চাইলেন, পারবেন না। স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হয়েও আপনি তা পারবেন না। আইন আছে বলেই আপনি যখন যাকে ইচ্ছা যা খুশি তা-ই বলতে পারবেন না—বাক্-স্বাধীনতা আছে বলেই সবকিছু করার স্বাধীনতা নেই।

এমনকি যখন ছাত্রী ছিলেন তখন মাদরাসা বা স্কুলের নিয়ম মানাকে পরাধীনতা মনে করতেন না, নিয়মবহির্ভূত পোশাকও পরতেন না। আবার বান্ধবীদের গেট-টুগেদারে যখন সবাই একই রঙের শাড়ি পরবে, আপনি যদি সেই রঙের শাড়ি না-ও রাখেন, তাহলে অন্যের শাড়ি ধার করে হলেও পরেন। এটা কি পরাধীনতা? তখন মনে হয় না যে, বান্ধবীরা আপনার স্বাধীনতা নষ্ট করছে।

আপনার নিজের স্বাধীনতাগুলো উপভোগ করার জন্যই আপনি বিভিন্ন পরাধীনতাকে মেনে নেন, তাই না? তেমনি শ্বশুরবাড়ির নতুন পারিবারিক নিয়মগুলোও এ রকমই। কিছু ভালো লাগবে, কিছু ভালো লাগবে না। তারপরও নিজের ভালো থাকার জন্য এই নিয়মগুলো একটু আগে-পরে করে মেনে নিতে হবে।

আপনি হয়তো শ্বশুরবাড়িতে অনেক বড় বড় অবদান রাখছেন। কিন্তু আপনার এই ছোট ছোট অনীহা হয়তো বড় অবদানগুলোকে মাটি করে দিতে পারে। মাঝে মাঝে এমন হয়, কিছু বড় বড় সিদ্ধান্তে ছাড় পাওয়া গেলেও কিছু ছোট ছোট ক্ষেত্রে পরাধীনতা থেকেই যায়। এটাই স্বাভাবিক।

অন্দরমহল
উমেদ প্রকাশ
❤8👍8
September 5, 2026 745 7