শেষ বয়সে সন্তানের আয়ের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল না হবার একটা পথ চিন্তা করলাম।
ধরে নিলাম একজন পুরুষ ২৭ বছর বয়সে আয় করা শুরু করেছে এবং ৬২ বছর বয়সে তিনি অবসরে যাবেন।
কত বছর কাজ করলেন? ৩৫ বছর।
এই মানুষকে একটা ছোট্ট ধারাবাহিক কাজ করতে হবে। প্রতিমাসে বেতন পাবার সাথে সাথে ১০০০ টাকা আলাদা করে ব্যবসাতে বিনিয়োগ করতে হবে। কোন ব্যবসা? সেটা নিরাপদ ও হালাল যেকোনো দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসা হতে পারে। বিনিয়োগ করার সময় অবশ্যই কোনো প্রতারকের ফাঁদে পড়া যাবেনা।
ধরে নিলাম তিনি এমন ছোট বা মাঝারী একটা উদ্যোগে বিনিয়োগ করছেন যারা গড়ে ১০% বছর ভিত্তিক লাভ দিবে। সুদ না, ব্যবসা। এজন্যই গড় লাভের কথা বলা হয়েছে।
প্রতিটি বছর শেষে লাভের টাকাও আবার ঐখানেই বিনিয়োগ হবে। আবার সাধারণ মাসিক ১০০০ টাকা বিনিয়োগ চলতে থাকবে। ৩৫ বছর পর এভাবে প্রথম বছর থেকে শুরু করা বিনিয়োগের লাভ কত হবে জানেন?
প্রায় ৩৭ লাখ টাকা।
হ্যাঁ, কোনো যুবক যদি ২৭ বছর বয়স থেকে মাসিক মাত্র ১০০০ টাকা করেও বিনিয়োগ এবং লাভকে আবার বিনিয়োগ করে যেতে থাকে, ৬২ বছর বয়সে ৩৭ লাখ টাকার মালিক থাকবে।
এটাই হলো ধারাবাহিক বিনিয়োগের শক্তি।
কারো আয় বেশি হলে সে ২০০০ কিংবা ৫০০০ টাকাও বিনিয়োগ করতে পারবেন। এক ব্যবসা বা উদ্যোগে বিনিয়োগ না করে একাধিক জায়গাতে বিনিয়োগ করতে পারবেন।
তখন এই টাকা আরো বেশিগুণ হয়ে ফেরত আসবে।
তো বুড়ো বয়সে সন্তানের আয়ের উপর নির্ভর করতে না চাইলে — বিনিয়োগের চিন্তা করুন। নিরাপদ কোনো ব্যবসা খুঁজে তাদের কাছে বিনিয়োগ করুন
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই হিসাব কাজ করবেনা যদি —
১| আপনি বিনিয়োগের টাকা থেকে কিছু টাকা সরানোর ফাঁদে পড়ে যান।
২| বিনিয়োগের পর কারো থেকে ধোঁকা খান।
৩| ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসায় বিনিয়োগের ফলে কিংবা ভুল প্রেডিকশনের কারণে বড় লস হলে। তবে রিস্ক তো থাকবেই। মাসে ১০০০ টাকা রিস্কে রাখা অনেকের জন্যই আহামরি কিছু না।
এটা ইহুদীদের মাঝে বেশ পুরাতন কৌশল হিসাবে পরীক্ষিত। আমাদের দেশের বনেদী ব্যবসায়ীদের মাঝেও এই প্রচলন আছে।
টাকায় টাকা আনে।
@muslimatrix
12
2
1September 6, 2026 695 14