এই হাতটা কোনদিন আমি ছাড়তাম না যদি জানতাম আমার ভাইটা বিজয় মিছিল দেখতে গেলে পুলিশ ওকে গুলি করে আল্লাহর কাছে পাঠিয়ে দিবে। অনেক শক্ত করে ধরে রাখতাম।
২ তারিখ ও আমাকে ঢাকার বাসা থেকে সাভারে নিয়ে আসে। এই বলে যে, "তুমি সবসময় স্কুল খোলা থাকলে যাও, তখন আমি আমার পান্ডু মামুটাকে কোলে নেয়ার টাইম পাই না, ওর সাথে খেলার টাইম পাইনা। এখন দেশের বাজে পরিস্থিতির জন্য যতদিন স্কুল বন্ধ থাকবে ততদিন তুমি সাভার থাকবা। আমি আমার পান্ডুর সাথে খেলব। "
আমার ছেলেকে আদর করে পান্ডু মামু বলে ডাকত আমার ছোট ভাইটা। ও আমাকে নিয়ে এসে নিজেই চলে গেল আল্লাহর কাছে। আহারে! আমার ভাইটাকে মেরে ফেলল! বুকটা ফেটে যাচ্ছে কষ্টে। আমি মরার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত কাঁদলেও আমার শোক বিন্দুমাত্র কমবে না। কি হয়ে গেল আমাদের সাথে!
ওকে তো ছোটবেলায় কোলে নিয়ে থাকতাম, কার্টুন দেখিয়ে খাওয়াতাম, ভুলভাল গল্প শুনিয়ে দুপুরবেলা ঘুম পাড়াতাম, পড়াশোনায় গাইড করতাম, বকা দিতাম বেশি কার্টুন দেখলে না পড়ে। এত এত স্মৃতি ভুলে থাকব কিভাবে আমি? ১৫ বছরের কত-শত স্মৃতি!!!
ওকে আসলে পড়ার জন্য কখনো তাগিদ দিতে হতো না। ভীষণ মনোযোগী ছিলো কিন্তু তাও একটু কম পড়লেই আমার অশান্তি লাগতো। পড়ার টেবিলে দেখতেই ভালো লাগতো। এখন খারাপ লাগছে যে, কেন বকেছিলাম পড়ার জন্য। ওর ভালো লাগার কাজ ছিলো ফুড পান্ডা থেকে খাবার অর্ডার করা আর আমি বাসায় থাকলে চাকরিতে ঢোকার পর থেকে সেই বিলটা আমিই দিতাম। আর তারজন্য হাজারটা থ্যাংক ইউ বলত আমার ভাইটা। কত যে বিনয়ী ছিল সোনামনিটা।
ক্লাস টেন এ পড়ত আমার ভাইটা সাভার ক্যান্টনমেন্ট স্কুলে। ৫ তারিখেও আমার ভাইটা পড়ার টেবিল থেকেই উঠে গিয়েছিল। আমরা সবাই বিকেলে বিজয় মিছিল দেখতে বাসার নিচে নেমেছিলাম। রাস্তায় কোন পুলিশ ছিল না তখন। চারদিকে উৎসবে মেতে উঠেছিলো মানুষ। পুলিশ নাকি রাস্তা ফাঁকা করে এগিয়ে যাওয়ার জন্যে এলোপাতাড়ি গুলি করে। আমার ভাইটার বুকের ডান পাশে গুলি লাগে। রাস্তা ফাঁকা করে ঢাকার দিকে যায় পুলিশ, সেই সাথে আমার ভাইয়ের জানটাও নিয়ে যায়।
anzila Mostafiz Mily