মদীনার আনাচে-কানাচে গড়ে উঠলো মুসলিমদের প্রথম বসতি। আনসার মুহাজির সাহাবীদের মাঝে ভাতৃত্ব গড়ে দিলেন রাসূলুল্লাহ ﷺ।
দেখতে দেখতে রাসূলুল্লাহর ﷺ হিজরতের প্রথম বছর শেষ হয়ে দ্বিতীয় বছর যাবে যাবে করছে। অথচ আশ্চর্যজনকভাবে মুহাজির মুসলিমদের ঘরে কোনো সন্তান হচ্ছেনা।
মদীনার কূটকৌশলী ইহুদীরা গুজব ছড়াতে শুরু করলো আমরা মক্কা থেকে আসা মুহাজির মুসলিমদের উপর জাদু করেছি। ওদের আর কোনো সন্তান হবেনা। মুহাজিরদের বংশ এখানেই শেষ।
আল্লাহর ফয়সালা ভিন্ন ছিল। হিজরীর ২য় সনের শাবান মাসে মুহাজির সাহাবী যুবায়ের ইবনুল আওয়াম রা. ও আসমা বিনতে আবু বকর রা. এর ঘরে জন্ম নিলো এক শিশু।
তার জন্মে মুহাজির মুসলিমদের ঘরে ঘরে খুশির হাওয়া চলতে লাগলো।
শিশুর নাম রাখা হলো আবদুল্লাহ, আবদুল্লাহ বিন জুবায়ের নামে তিনি পরিচিত হলেন।
শিশু আবদুল্লাহকে রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজে তাহনিক করালেন। রাসূলের পবিত্র লালা প্রবেশ করলো শিশুর মুখে।
শিশু আবদুল্লাহর মা আসমা রা. ছিলেন উম্মুল মুমিনিন আইশাহ রা. এর বোন। তাই রাসূলুল্লাহ ﷺ হয়ে গেলেন শিশুর খালুজান।
মদীনার ঝুপড়িতে জন্মগ্রহণ করা এই কুরাইশী শিশু একদিন আফ্রিকার তিউনিসিয়া পর্যন্ত জিহাদ করে এসেছিলেন।
এই মানুষটাই ছিলেন উমর রা. এর উদ্যোগে কুরাআন সংকলনের দায়িত্বে, সরাসরি আইশাহ রা. থেকে একাধিক হাদীস শিখেছেন। খালা হবার সুবাদে নিয়মিত যাতায়াত ছিল আইশাহ রা. এর নিকট, শেখান থেকে এমন ইলমী যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন যে - যুবক এই সাহাবীর ইলমের উপর স্বয়ং উমর রা. আস্থা রাখতেন। মদীনার বয়োবৃদ্ধ সাহাবীদের কাছে ওনার ছিল বিশেষ কদর।
এতো যার সম্মান, এতো যার কদর, এতো যার বীরত্ব তার মৃত্যু কিভাবে হয়েছিল জানেন?
জালিম হাজ্জাজ বিন ইউসুফের লোকের হাতে — কেননা তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত খিলাফাতের দাবিদার ছিলেন এবং সত্যিই তিনি উমাইয়াদের তুলনায় যোগ্য ছিলেন।
৭১ বছর বয়সে বীর বাহাদুর আলিম সাহাবী আবদুল্লাহ বিন জুবায়ের চলে গেলেন রবের সান্নিধ্যে, তখনও ১০০ বছর বয়স্ক মা আসমা রা. জীবিত ছিলেন।
রাযিআল্লাহু তা'আলা আনহুম
