আমার এক ছাত্র কনে খুঁজতেছে। পরামর্শ নিতে আসলে তাকে বললাম—
❝আমাদের এই সমাজে হাজারো পুরুষ এমন আছে যারা স্ত্রী দ্বারা মেন্টালি টর্চারের শিকার। নারীর বলার জায়গা ও তার জন্য আইন থাকলেও পুরুষের না আছে বলার জায়গা, না তার জন্য কোন আইন। কোন ক্ষেত্রে দেখা যায় নারী নামাজী, সিয়ামব্রতী, হাতে তাসবীহধারীনী, বের হলে হাত মোজা পা মোজাও পরিধানকারীনী, এমনকি মাদরাসায় পড়ুয়া এবং খুব মেধাবী তালিবা ছিল, ক্লাশে খুবই ভালো ও টপার ছাত্রী ছিল, হাদিসের কিতাব গড়গড়িয়ে পড়তে পারে এখনো, কিন্তু স্বামীকে তার দারাজ যবান দিয়ে কষ্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে কোন কমতি নেই।
এই সমাজে যত্রতত্র 'আল-মারআতুল আবিদাহ আল-মুতাদায়্যিনাহ' (বড় আবিদ ধর্মকর্মকারী নারী) পাওয়া যায় ঠিকই, কিন্তু নবীজীর 'খাইরুল মাতা' অভিধায় ডাকা 'আল-মারআতুস সালিহাহ' (হাম-মুওয়াফিক অর্ধাঙ্গীনী, হাম-মেযাজ আহলিয়া) আনকা পাখির মতই যেন বিরল।
আল-মারআতুস সালিহাহ স্বামীকে মানসিক নির্যাতন করবে দূরের কথা, বরং তার পরিচয় তো রব শুরুই করেছেন এভাবে— { فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ } অর্থাৎ সালিহা স্ত্রী হলো তারা যারা নিঃশর্ত ফরমাবরদার। কোন প্রশ্ন, আপত্তি বা বিরক্তি ছাড়াই আনুগত্যশীলা। নিজের মতকে স্বামীর মতের নিচে কুরবানী দেনেওয়ালা।
তাই বিয়ের আগে কেবল 'নেককার স্ত্রী' বা 'দ্বীনদার স্ত্রী' বলে দুআ না, এর সংখ্যা তো হাজার হাজার, বরং ফরমাবরদার, বিনা প্রশ্নে মান্যকারী স্ত্রী পাওয়ার দুআর ইহতেমাম করো।❞
মুফতি আব্দুল কাদির মাসুম
উসতাজুল ফিকহ ওয়াল হাদিস
জামিয়া খাইর আল ইসলামিয়া সিলেট
18
6September 4, 2026 453 9