আমরা এমন এক নারীর কথা জানি, যাঁর নাম আয়িশা (রা.)। তিনি জীবনে কোনো… — 𝒎𝒖𝒔𝒍𝒊𝒎𝒂𝒕𝒓𝒊𝒙 — TG.ME

আমরা এমন এক নারীর কথা জানি, যাঁর নাম আয়িশা (রা.)। তিনি জীবনে কোনো সন্তানের জন্ম দেননি। অথচ উম্মতের জন্য রেখে গেছেন জ্ঞানের এক অফুরন্ত ভাণ্ডার। তাঁর গর্ভে আল্লাহ কোন সন্তান দেননি অথচ, তিনি হয়ে উঠেছিলেন গোটা উম্মতের মা, শিক্ষক ও পথপ্রদর্শক মা-শা-আল্লাহ‌‌।

আল্লাহ আমাদের এমন এক নারীর কথাও জানিয়েছেন, যাঁর স্বামী ছিলেন স্বয়ং আল্লাহর নবী: লূত (আ.)। একজন নবীর স্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও সে হলো ধ্বংসপ্রাপ্তা নারী! এত নেককার একজন মানুষের জীবনসঙ্গী হওয়ার পরেও সে নিজেকে রক্ষা করতে পারেনি। কারণ তিনি ঈমানকে ভুলে গিয়ে পাপাচারীদের সহযোগী হয়েছিলেন এবং নিজের জন্য ভয়ংকর পরিণতি ডেকে এনেছিলেন।

আবার আল্লাহ আমাদের এমন এক নারীর কথা জানিয়ে দিলেন, যাঁর স্বামী ছিল পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য জালিমদের একজন: ফিরআউন। যে নিজেকেই প্রভু বলে দাবি করেছিল (নাউজুবিল্লাহ)। অসংখ্য নবজাতক শিশুকে হত্যা করেছিল এবং নিজের স্ত্রীকেও নির্মম নির্যাতনে খুন করেছিল। অথচ এমন এক স্বামীর ঘরে থেকেও সেই নারী, আছিয়া (আ.) নিজের জন্য জান্নাতে, আল্লাহর খুব কাছেই, একটা ঘর তৈরি করে নিলেন। সুবহানআল্লাহ!

আল্লাহ আমাদের মারইয়াম (আ.)-এর কথাও জানিয়েছেন, তাই না? তাঁর কোনো স্বামী ছিল না। দুই হাত শক্ত করে ধরার মতো, দায়িত্ব নেওয়ার মতো কোনো জীবনসঙ্গীই নেই। কোন জীবনসঙ্গীর সংস্পর্শ ছাড়াই অল্প বয়সে তিনি হয়ে গেলেন মা! কী ভীষণ পরীক্ষা! মানুষের অপবাদ, নিঃসঙ্গতা ও কঠিন পরীক্ষার মধ্যেও আল্লাহর রহমত ও সাহায্যে তিনি এমন এক সন্তানকে লালন পালন করে রেখে গেলেন, যিনি ছিলেন আল্লাহর মহান নবী, ঈসা ইবনু মারইয়াম (আ.)।

তাহলে দেখুন প্রিয় পাঠক... একটু মনোযোগ দিয়ে দেখুন... আপনি একজন সিঙ্গেল মাদার হতে পারেন। আপনি হয়তো বিধবা হতে পারেন। আপনি ডিভোর্সি হতে পারেন। আবার হতে পারে আপনি একজন জালিম মানুষের স্ত্রী... আপনি মাতৃত্বের সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত কোন সম্মানিত নারী হতে পারেন... হয়তো আপনি হতে পারেন একেবারে অবিবাহিত ভীষণ অসহায় কেউ...

কিন্তু ... দিনশেষে আপনার পরিচয়, আপনার ঈমান এবং আপনার পরিণতি অন্য কোনো মানুষের পরিচয় দিয়ে নির্ধারিত হবে না। অন্য কোন সম্পর্কের বন্ধন দিয়ে আপনার চূড়ান্ত গন্তব্য কেউ মাপবে না। এমন কি কেউ একজন সর্বোচ্চ নেককার নবীর স্ত্রী হয়েও হেদায়াত প্রাপ্ত হয়নি, তাহলে আমরাও ভাবতে পারি না, কেবল ভালো সঙ্গ পেলেই সব ঠিক হয়ে যাবে যদি না আমাদের নিজেদের ভেতর যা আছে, সেটা আমরা ঠিক না করি।

অন্য কেউ আপনার জীবনের গল্প লিখে দিবে না। অন্য কেউ আপনার ভাঙ্গা টুকরাগুলো জোড়া লাগিয়ে দিবে না। আল্লাহর সাহায্যে আপনাকেই নিজের ঈমান, চরিত্র ও আমলকে গড়ে তুলতে হবে।

প্রিয় পাঠক, আপনি কি বুঝতে পারছেন? একজন মুসলিম হিসেবে আপনার মূল্য কোনো দুনিয়াবি পরিচয়ের চারকোনায় কি বন্দী? আপনি শুধু কারও স্ত্রী, কারও মা, কারও মেয়ে কিংবা কারও সাবেক স্ত্রী নন। আপনার সর্বপ্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ পরিচয়, আপনি আল্লাহর বান্দা। এটাই একমাত্র জায়গা যেখানে প্রকৃত মর্যাদাশীল নারীরা আটকায়।

এই পরিচয়কে হৃদয়ে ধারণ করতে পারলেই আপনি সফল। আপনার সঙ্গে যদি আল্লাহ থাকেন, তবে দুনিয়ার কোনো অভাবই আপনাকে নিঃস্ব করতে পারবে না। আপনি একজন বিবাহিত, অবিবাহিত, বিধবা, সিঙ্গেল মাদার, তালাকপ্রাপ্তা, যে নারী এখনো মা হতে পারেনি, অথবা ব্রোকেন ফ্যামিলির সন্তান—যে ব্যাকগ্রাউন্ড থেকেই আসুন না কেন, আপনার অন্তর থাকবে পরিপূর্ণ এবং সফল। আর যদি আল্লাহর সঙ্গে আপনার সম্পর্কটাই ঠিক না থাকে, তবে দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষের সাথে আপনার বিয়ে হলেও, সমস্ত সম্পদ এবং সুযোগ আপনার পাশে থাকলেও সেগুলো আপনার কোন কাজেই আসবে না।

(অনেকদিন আগে শোনা একটা লেকচার থেকে কথাগুলো নিজের মতো লিখে রাখলাম, নিজের রিমাইন্ডার হিসেবে)

~ শারিন


#sisters@muslimatrix
❤17🔥3🤝2
September 3, 2026 688 13