একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (যিনি ভারতীয় নাগরিক ও ভারতের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা) এর গানকে জাতীয় সংগীত হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া হলো, যেখানে কাজী নজরুল ইসলামের মতো প্রতিভা প্রতিভাবান কবি উপস্থিত ছিলেন। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন নজির নেই।
পরবর্তীতে ভারতের নির্দেশনায় বাংলাদেশকে কোনো শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গঠন করতে দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশের কোনো স্বাধীন বৈদেশিক নীতি ছিল না। বাংলাদেশের আমলাতন্ত্র, শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্য, শিল্প ও কৃষি ব্যবস্থা– সবই পরিচালিত হতো ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের ইচ্ছামতো!
বীর উত্তম মেজর ডালিমের মতে, মুক্তিযোদ্ধাদের অনেক কমান্ডার এই সময় অনুধাবন করেন যে ভারতের একটি সুদূর প্রসারী চক্রান্তমূলক পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশকে প্রথমে ক্লায়েন্ট স্টেট, তারপর অঙ্গরাজ্য বানানোর।
শেখ মুজিবুর রহমানকেই সেই 'লেন্দু' বা প্রধান বানিয়ে ভারতের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করানো হয়। তখন তারা মুক্তিযু্দ্ধের আড়ালে একটি সেনাপরিষদ গঠন করেন। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে সামনে রেখে ২১-দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য কোরআন ছুঁয়ে শপথ নেন, যার মধ্যে শেখ মুজিবকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত ছিল, কারণ তিনি ছিলেন ভারতীয় নকশা বাস্তবায়নের প্রধান কুশীলব!
তবে, সুদূরপ্রসারী ভারতীয় হিন্দুত্ববাদের এই বিষাক্ত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একদল লোক সূচনালগ্ন থেকেই বিরোধিতায় ছিলেন। তাদের মধ্যে বিভিন্ন কর্নেল জেনারেল, সেনাবাহিনী সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা সহ মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, অধ্যাপক গোলাম আযম, নিজামী, মীর কাসেম আলী, আল্লামা সাঈদীর মতো আরেক জন বিখ্যাত ব্যক্তিত্বরা।
ভারত জানতো, এইসমস্ত মানুষগুলো থাকলে খুব শিগগিরই কব্জা করা বাংলাদেশ হাত ছাড়া হয়ে পড়বে। হয়তো বা পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে বনিবনা করে নিজেদের জন্য হুমকিস্বরূপও হয়ে পড়বে। তাই, ভারত একে একে খুবই কৌশলে পথের কাঁটার মতো মানুষগুলোকে পথ থেকে সরিয়ে দিল।
বর্তমান সময়ে ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ভারতীয় যেসমস্ত হিন্দুত্ববাদের বিষাক্ত চর্চা চলছে, তা একদিনে কায়েম হয়নি। ব্রিটিশ আমলের হিন্দুত্ববাদী রবি ঠাকুর, বঙ্কিম, ঈশ্বরচন্দ্র ও রামমোহনরা যেমন মতাদর্শ নিয়ন্ত্রণ, বামপন্থা, বাঙালি সংস্কৃতি চর্চা, সেক্যুলারিজমের নামে তা করতো, তেমনিই আজকের বাংলাদেশে শাড়ি-টিপ সংস্কৃতি, ইস্কন, সংখ্যালঘু সহ নানা মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে কায়েম করা হয়েছে।
কিন্তু, ফ্যাস্টিট হাসিনার উৎখাত, ইসকন বিরোধী প্রতিবাদ, শহিদ আবরার ফাহাদের শাহাদাতের মাধ্যমে বিষয়টা খুবই পরিষ্কার যে– বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের সিংহভাগ এন্টি-ইন্ডায়ান। তাদের মনোজগতে বিষয়টা ক্লিয়ার। ভারত বিরোধী প্যারাডাইম শিফটিং এর বীজ অনেক আগ থেকেই বপন করা ছিল এই বাংলাদেশে।
কোনো এক মহানায়ক বলেছিলেন, ‘অতীতকে বাদ দিয়ে যেমন বর্তমানকে বুঝতে পারা যায় না, তেমনি বর্তমানকে বিশ্লেষণ ছাড়াও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা গ্রহণ করা যায় না!’
– ফাইজান বিন হক
Reference’s:
______
1. https://drive.google.com/drive/folders/1fbWEzaH2qvG9ihjH03PfsosbMjg63xVp?usp=sharing
2. দি ইন্ডিয়ান মুসলমানস- উইলিয়াম হান্টার
3. The Bengal Muslims 1871–1906: A Quest for Identity (Rafiuddin Ahmed)
4. শর্ট হিস্ট্রি অব মুসলিম রুল ইন ইন্ডিয়া, ঈশ্বরী প্রসাদ
5. বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধ ১৯৭১: আত্মসমর্পণের আগে পাকিস্তানী সেনাদের সেই মুহূর্তগুলো (আকবর হোসেন/বিবিসি বাংলা/১৬ ডিসেম্বর ২০১৭)
6. বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর ডালিম (বীর উত্তম) - www.youtube.com/watch?v=UFMuU-9w4jM
7. https://bbc.in/3teKPVR
8. বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ: বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ (এম আই হোসেন) পৃ. ১৬২
9. Anatomy of Violence Analysis of Civil War in East Pakistan in 1971 - Sarmila Bose
10 .RTV টক শো - ৬ অক্টোবর, ২০১১
11. একাত্তরের ঘাতক দালাল কে কোথায়? (মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বিকাশ কেন্দ্র ) পৃ. ২৩
12. একশ' বছরের রাজনীতি: দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদক ও রাজনৈতিক গবেষক জনাব আবুল আসাদ।
13.যা দেখেছি, যা বুঝেছি ও যা করেছি: আগস্ট- বিপ্লবের নেতা মেজর (অব.) ডালিম।
15. The Wahabi Movement in India, পৃষ্ঠা ৫৫–৮৩
16 .Sarmila Bose – Dead Reckoning: Memories of the 1971 Bangladesh War
17. বাংলাদেশ: দি আনফিনিশড রেভল্যুশন, লরেন্স লিফশুলৎজ, (পৃষ্ঠা ৫৫–১৪৫)
YouTube
৫০ বছরের সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর ডালিম (বীর উত্তম) #eliashossain #মেজর_ডালিম
বিশেষ লাইভে যুক্ত আছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর ডালিম (বীর বিক্রম)

October 26, 2025 164