মজার ব্যাপার এই যে, ভারত ভাগের ব্যাপারে অন্য আরেকপক্ষী আলেমদের পাশাপাশি তৎকালীন কট্টর-হিন্দুরা ছিল বেশ নারাজ, অসন্তুষ্ট। কারণ, মুসলমানদের উপর তাদের ক্ষমতায়ন থাকবে না বলে। মহাত্মা গান্ধী ভারত ভাগের বিরোধীতায় যেনো আধ-পাগল বনে গিয়েছিলেন। দিনশেষে, ৪৭-এ ভারত ভাগ হয়ে গেলো। কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ দুই পাকিস্তান নিয়ে মুসলমানদের আলাদা রাষ্ট্র কায়েম করলেন। সেই বিভাজন আদতে কল্যাণজনক হয়েছে– বুঝতে বড় কোনো পলিটিক্যাল এনালিস্ট হওয়া লাগবে না। বর্তমান ভারতের দিকে তাকালেই দেখা যাবে। হিন্দুত্ববাদীরা একক ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের সাথে যেই নির্যাতন, নিষ্পেষণ, আগ্রাসন কায়েম করছে– ভারত ভাগ না হলে, তা আমাদের প্রত্যেকের সাথেই নিয়মিত হতো.. ইতিহাসের এই পর্যন্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট, ব্রিটিশ আমল থেকেই মুসলিম বিদ্বেষ হিন্দুত্ববাদীদের রক্তে মিশে ছিল। আরেকটা বিষয় বোঝার আছে, টিপিক্যাল হিন্দু আর কট্টর হিন্দুত্ববাদী– কখনোই এক না। হিন্দুত্ববাদরা সংঘবদ্ধভাবে ইস্কনের নামে অনেকটা গ্লোবাল জায়নিস্ট অর্গানাইজেশনের আদতে আগ্রাসন চালায় মুসলিম উপর.. স্বাধীনতার কয়েক বছরেই দুই পাকিস্তান খুব সুন্দরভাবে সবাইকে নিয়ে শান্তিতে বসবাস করছিল। বিগত ২০০ বছরের গোলামীর পর এই প্রথম দুই পাকিস্তান নিজেদের মতো উন্মুক্ত পরিবেশে ইসলাম পালনের সুযোগ, গোশত খাওয়ার তৃপ্তি এবং পর্দা-দাঁড়ির পরিবেশ পেয়েছিল। দুই পাকিস্তানের কায়েমের মাধ্যমে মুসলমানদের উপর হিন্দুত্ববাদীদের ক্ষমতায়ন কমে গেলে ভারতীয় হিন্দুত্ববাদীরা থেমে থাকতে চায়নি। ভৌগলিক অবস্থানে পূর্ব পাকিস্তানের চারদিকেই ভারত থাকায় তারা নতুন পরিকল্পনা কষতে শুরু করলো। কিন্তু কোনোভাবেই কিছুই কাজ করছিল না.. ১৯৭০ সালে সে সুযোগ চলে আসলো। পূর্ব পাকিস্তানে ইয়াহিয়া খানের সামরিক শাসনামলে যখন ইলেকশন হয়.. শেখ মুজিব সেখানে, তৎকালীন প্রেক্ষাপটে নিরঙ্কুশ জয় লাভ করে। কিন্তু, পশ্চিম পাকিস্তানের ক্ষমতাশালী গোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায়, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য চূড়ান্তভাবে নেতৃত্ব দেয়। এখান থেকেই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট। তবে, প্রচলিত ইতিহাসের বিপরীতে 'স্বাধীনতা ছিল এদেশের মানুষের গণদাবী'– এই দাবিটি সম্পূর্ণ ভুল। সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, ২৫ মার্চ ১৯৭১ তারিখে অপারেশন সার্চলাইট শুরু হলে, দেশের তথাকথিত বড় নেতারা আত্মগোপন করেন। শেখ মুজিব স্বয়ং পাকিস্তান আর্মির কাছে ধরা দেন এবং পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব আর্মির হাতে তুলে দিয়ে পাকিস্তানে পাড়ি জমান। যুদ্ধ চলাকালে সীমান্তে ভারত গণহারে বিহারী মুসলিম হত্যা করে। ১৯৭১ সালের মার্চ-এপ্রিল মাসে আওয়ামী সন্ত্রাসী ও নিউক্লিয়াস দলগুলোর আক্রমণে বিহারী ও উর্দু ভাষী পাকিস্তানিদের উপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়, যার ফলে পাকিস্তান সরকারের শ্বেতপত্র অনুসারে প্রায় ২৬ হাজার মানুষ নিহত হয়। এই ঘটনাগুলোকেই এখন বাঙালি হত্যা বলে চালানো হয়ে থাকে.. গবেষক শর্মিলা বসুর মতে– ১৯৭১ সালে যত নারী-ধর্ষণ হয়েছে তার চেয়ে বহুগুণ বেশী হয়েছে সত্যকে ধর্ষণ। তিনি তার গবেষণায় পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের একটি ঘটনারও প্রমাণ পাননি। পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে আনা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মাত্র ১৯৫ জনের তালিকা তৈরি করা সম্ভব হয়, যার মধ্যে মাত্র ১৩ জনের বিরুদ্ধে মহিলাদের তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ছিল (যা প্রমাণিত নয়)। মুক্তিযুদ্ধের ইস্যু আসলেই জামায়াতের কথা চলে আসে। জামায়াত পাকিস্তান সমর্থন দিয়েছিল, গণহত্যা করেছিল– এসব। জামায়াতের পয়েন্ট অফ ভিউ ছিল– দুই পাকিস্তান আজ না হোক কাল আলাদা হবেই, স্বাধীনতা পাবেই.. কিন্তু সেই স্বাধীনতায় যদি ভারতের হাত থাকে, তাহলে তা হবে মুসলমানদের জন্য ভারতীয় গোলামীর জিঞ্জিরে আঁটকে পড়ার মতো। তারা সামরিক সংঘর্ষ পরিহার করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের অনুরোধ জানিয়েছিল। বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল অলি আহমদ, আ স ম আব্দুর রব, মেজর হাফিজ সহ অনেকেই স্বীকার করেছেন যে– জামায়াত কোনো যুদ্ধাপরাধ, খুন, ধর্ষণ বা লুটপাট করেনি! কিন্তু, তারপরও পূর্ব পাকিস্তান ভারতের পূর্ণ সহযোগিতায় স্বাধীন হলো। ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনী যখন আত্মসমর্পণ করে, তখন তারা ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। মুক্তিবাহিনীর কমান্ড চিফ জেনারেল উসমানীর (যাকে সহায়ক শক্তির কমান্ডিং চিফ হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল) বদলে ভারতীয় বাহিনীর পক্ষে জেনারেল অরোরা চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন। যার মাধ্যমে ভারত প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ নামক যেই একটি রাষ্ট্র ইন্দো-পাকিস্তান যুদ্ধের ফলস্বরূপ অকালে জন্ম দেওয়া হয়েছে, যেখানে ভারতই বিজয়ী! ভারতের পরিকল্পনার ভিত্তিতেই আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। সেই সাত দফা চুক্তির ভিত্তিতে, শেখ মুজিব প্রধানমন্ত্রী হন এবং ভারতের চার স্তম্ভের ডুপ্লিকেট বাংলাদেশে আমদানি করে তার উপরে শাসন কাঠামো তৈরি করা হয়।
মজার ব্যাপার এই যে, ভারত ভাগের ব্যাপারে অন্য আরেকপক্ষী আলেমদের… — ফিলিস্তিন আপডেট🇵🇸 — TG.ME
October 26, 2025 108