ইতিহাসের নিয়মগুলো কীভাবে কাজ করে
আল্লাহর যে সুন্নাহ বা নিয়মগুলো জাতি ও সভ্যতার উত্থান ও পতনে কার্যকর হয়, সেগুলো কখনো একা কাজ করে না। একটি জাতির জীবনে একই সময়ে একাধিক সুন্নাহ কার্যকর থাকতে পারে। কোনো সুন্নাহ হয়তো তাকে পতনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, আবার অন্য কোনো সুন্নাহ তাকে টিকিয়ে রাখছে। ফলে একটি জাতি কতদিন টিকে থাকবে, তা কোনো একটি নিয়মের ওপর নির্ভর করে না। বরং তার মধ্যে কোন কোন সুন্নাহ একসঙ্গে কাজ করছে এবং সেগুলোর প্রভাব কতটা প্রবল, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে।ধরা যাক, কোনো জাতির মধ্যে বিলাসিতা ও ভোগপ্রবণতা বেড়ে গেছে। এটি তাকে পতনের দিকে নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে যদি সেখানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং মানুষের অধিকার রক্ষা করা হয়, তাহলে ন্যায়বিচারের সুন্নাহ সেই পতনকে পিছিয়ে দিতে পারে। আবার কোনো জাতির মধ্যে নৈতিক অবক্ষয়, অশ্লীলতা ও পাপাচার ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু তারা যদি সামরিক শক্তি ধরে রাখে এবং বিপদ সম্পর্কে সতর্ক থাকে, তাহলে তাদের পতন বিলম্বিত হতে পারে। কোনো জাতির মধ্যে জুলুম ছড়িয়ে পড়লেও বিপুল জনসংখ্যা ও প্রচুর সম্পদ তাকে দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখতে পারে।
আবার এমনও হতে পারে, একটি জাতিকে দুর্বল করে দেওয়ার মতো অনেক কারণই তার মধ্যে তৈরি হয়েছে। কিন্তু আশপাশে এমন কোনো শক্তিশালী শত্রু নেই, যে তার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে আক্রমণ করবে। ফলে ভেতর থেকে দুর্বল হয়ে পড়লেও জাতিটি দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে।একই ঘটনা কোনো রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে। কোনো দুর্বল রাষ্ট্র যদি দুই শক্তিশালী প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মাঝখানে অবস্থান করে এবং তাদের পারস্পরিক ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় তার অস্তিত্ব উভয়ের স্বার্থের সঙ্গে জড়িয়ে যায়, তাহলে রাষ্ট্রটি নিজের দুর্বলতা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে। তখন তার টিকে থাকার কারণ নিজের শক্তি নয়, বরং তার চারপাশে কাজ করা অন্য বাস্তবতা ও সুন্নাহ।
এভাবেই ইতিহাসের বিভিন্ন সুন্নাহ পরস্পরের সঙ্গে মিলেই কাজ করে। একটি জাতির উত্থান, শক্তি, দুর্বলতা ও পতনের পেছনে একই সময়ে একাধিক সুন্নাহ সক্রিয় থাকতে পারে। তাই ইতিহাস বুঝতে হলে কোনো জাতির একটি বৈশিষ্ট্য বা একটি কারণের দিকে তাকালেই হবে না। দেখতে হবে, তার মধ্যে একই সময়ে কোন কোন সুন্নাহ কাজ করছে এবং সেগুলো পরস্পরের ওপর কী প্রভাব ফেলছে।
ইতিহাস কেন জরুরি
লেখা: ইমরান রাইহান
2September 7, 2026 187