নারায়ণগঞ্জ যেখানে থাকি, তারপাশেই এক মহিলা মাদরাসা আছে। সেখানের দায়িত্বশীল মাওলানা আব্দুর রহমান (AR Bin Hussain) ভাই মহব্বত করেন এবং সময়ে সময়ে বিভিন্ন পরামর্শ চান। মহিলা মাদরাসা কেন্দ্রিক আমার ব্যক্তিগত কিছু স্বপ্ন ও দর্শন আছে। সেগুলো কিছু কিছু ভাইকে বলি। ভাইও বিষয়েরগুলোর সাথে একমত হন। কিন্তু বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে যায়।
.
মহিলা মাদরাসা কেন্দ্রিক আমার একটি দর্শন হলো, একজন ছাত্রীকে গোড়া তোলা হবে একজন আদর্শ স্ত্রী ও মা হিসেবে। আর এটার উপরই মূল ফোকাস রেখে নেসাব ও নেজাম সাজানো হবে। যোগ্য আলেমা তৈরি করা দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্তরের ফোকাস। যেটা হলে ভালো না হলে বিশেষ কোনো সমস্যা নাই। আর বেফাক কেন্দ্রীক ভালো রেজাল্ট, সেটা কমছে কম দশের নীচে আরকি।
.
এই স্বপ্নের কথাটা আব্দুর রহমান ভাইকে বললাম। তিনিও একমত হলেন।
‘এই দর্শনকে সামনে রেখে আমাদের কার্যক্রমে কী পরিবর্তন আনলে ফায়দা হবে বলে আপনি মনে করেন আব্দুল্লাহ ভাই?’ জানতে চাইলেন তিনি।
‘ধরেই তো সব পরিবর্তন করা যায় না’ বললাম আমি। ‘আবার সব একসাথে বাস্তবায়ন করাও যায় না। তবে একজন আদর্শ মায়ের জন্য প্রাথমিক মেডিকেল শিক্ষাটাকে আমি খুব জরুরি মনে করি। সেই হিসেবে আপনার পক্ষে সম্ভব হলে উপরের জামাতের ছাত্রীদের নিয়ে সাপ্তাহিক একটা প্যারামেডিকেল কোর্স করাতে পারেন’
আমার পরামর্শটা উনি বেশ পছন্দ করলেন। বাস্তবায়ন নিয়ে বিভিন্ন পরামর্শের এক ফাকে বললাম,
‘আপাতত যদি আপনার পরিচিত কোনো অভিজ্ঞ নার্স বা ডাক্তার মহিলা থাকে তাকে দিয়েই শুরু করতে পারেন।'
‘আমার তো পরিচিত একজন বয়স্ক সিনিয়র নার্স আছে’ তিনি উচ্ছাসের সাথে বললেন। ‘উনাকে বললে উনি অবশ্যই সানন্দে রাজি হবেন।’
.
এভাবেই ছোট্ট একটি পরিকল্পনা শুরু হয়েছিলো। আজকে আব্দুর রহমান ভাইয়ের মেসেজ পেলাম সকালে। প্যারামেডিকেল কোর্সের লিখিত পরিক্ষার ফলাফল আসছে। নার্স আপা নাকি ছাত্রীদের ফলাফল বেশ অবাক হয়েছেন। মাদরাসার ছাত্রীরা বিষয়গুলো এত ভালো লেখবে এটা নাকি উনি কল্পনাও করেননি!
উনার মেসেজ শুনে কত খুশি হয়েছি তা ভাষায় প্রকাশে আমি অক্ষম।
আব্দুর রহমান ভাই ছোট্ট করে আমার অনেক শুকরিয়া জ্ঞাপন করলেন। কিন্তু আমার খুব মনে চাইলো, আমিই তার শুকরিয়া জ্ঞাপন করি। আমার মত এক নালায়েকের এমন একটি চিন্তা উনি গ্রহণও করলেন আবার বাস্তবায়নও করলেন! এটাই তো আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।
.
আদর্শ স্ত্রী ও মায়েদের জন্য আরেকটি জরুরি যে বিষয়টি শিখা প্রয়োজন তা হলো, প্রাথমিক টেইলারিংয়ের কাজ। আলহামদুলিল্লাহ, ঐ মাদরাসায় এখন দ্বিতীয় ফাতরায় ছাত্রীদের টেইলারিংয়ের কাজ শিখানো হবে।
শেষ ভাগে যেহেতু পরিক্ষার চাপ থাকে তাই শেষভাগে পরিক্ষার প্রস্তুতির উপরই ফোকাস দেওয়া হবে।
বেফাকের শিক্ষার্থীদের যেহেতু আগেই পরিক্ষা শেষ হয়ে যায়, তাদেরকে কিছুদিনের জন্য ছুটি দেওয়া হবে। পরবর্তীতে রমাজান কেন্দ্রিক তাদেরকে নিয়ে আমাদের আরো কিছু পরিকল্পনা আছে।
দোয়া চাই, আল্লাহ যেনো সহজ করেন এবং ইখলাসের সাথে বাস্তবায়নের তাওফিক দান করেন।
46
3August 28, 2026 1.1K 7