১.
স্বৈরাচার পতনের কারণে দ্য ইকোনমিস্ট এই বছর বাংলাদেশকে বর্ষসেরা দেশ হিসেবে নির্বাচিত করেছে।
এই বিরাট সম্মান আমাদেরই।
২.
কাউন্সিলর পুনর্বাসন না বলে, সরাসরি আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন বলাই সমীচীন।
হাসিনার গ*ণহ*ত্যায় সরাসরি অংশগ্রহণকারী এসব কাউন্সিলরদের পুনর্বাসন করা—সরাসরি বিপ্লবে শহী*দদের র*ক্তের সাথে প্রতারণা করার সামিল।
আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন করা যেকোনো দলকেই থুতু দেয়ার জন্য সর্বদা প্রস্তুত আছি।
৩.
ইতিহাসের পুঞ্জিভূত প্রেক্ষাপট আমাদের স্মরণ করায়, বাংলার ভূমি কেবল কৃষকের লাঙ্গলের ক্ষেত্র নয়, এটি বিদ্রো*হ ও বিপ্লবের চারণভূমি।
তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা বাংলার জন মানুষের সেই অবিনাশী প্রতিরোধের প্রতীক, যেখানে শক্তি আর শাসনের সমস্ত অহমিকা ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।
তিতুমীরের নেতৃত্বে ফুঁসে ওঠা প্রতিরোধ বাংলার কৃষকসমাজকে শিখিয়েছিল আত্মমর্যাদার সংজ্ঞা। ইংরেজের অ*স্ত্রশ*স্ত্র আর সামরিক শক্তির সামনে বাংলার কৃষক যখন বাঁশের লাঠি নিয়ে দাঁড়ায়, তখন সেটি হয়ে ওঠে ইতিহাসের অন্যতম সাহসিকতার প্রতিচ্ছবি।
এই বিদ্রো*হ ছিল কেবল একটি প্রতিবাদ নয়, এটি ছিল শোষণের বিরুদ্ধে জনমানসের এক অভূতপূর্ব ঘোষণা, যা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অহমিকার মূলে কুঠারাঘাত করেছিল।
বাংলার বুকে জন্ম নেওয়া প্রতিটি বিপ্লবের পরতে পরতে রয়েছে অপরাজেয় শক্তির সঞ্জীবনী ধারা। তিতুমীর, ক্ষুদিরাম, সূর্যসেন—এই নামগুলো শুধুই ব্যক্তিত্ব নয়, এরা আমাদের জাতির চেতনায় বিরাজমান অবিনাশী প্রতিরোধের অগ্নিশিখা।
আজও, ইতিহাস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, শাসকের তলোয়ার যতই ধারালো হোক না কেন, বাংলার বাঁশের কেল্লার দেয়াল তা প্রতিহত করবার ক্ষমতা রাখে।
এই ভূমি জানে কীভাবে শোষণ আর অবিচারের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়াতে হয়। বাংলার প্রতিরোধের এই অমর কাব্যই শাসকের সিংহাসনকে বারবার কাঁপিয়ে তুলেছে, এবং ভবিষ্যতেও তুলবে।
ইনকিলাব জিন্দাবাদ।
৪.
ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন সাহসী শিক্ষার্থীকে নৃশংসভাবে গু*প্তহ*ত্যা করা হয়েছে।
তাদের একমাত্র অপরাধ ছিল দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় স্বৈ*রতন্ত্র ও আ*গ্রা*সনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো।
গু*প্ত*হ*ত্যার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের প্রতিবাদের কণ্ঠ রুদ্ধ করার চেষ্টা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, শাসকগোষ্ঠী জনগণের পক্ষ থেকে সরে গিয়ে আগ্রাসী শক্তির সেবাদাসে পরিণত হয়েছে।
এই হ*ত্যা*কা*ণ্ড শুধু তিন শিক্ষার্থীর নয়, বরং এটি দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং বিপ্লবী চেতনাকে হত্যা করার সামিল।
৫.
বাংলার ভূমিতে প্রতিরোধের ইতিহাস শিকড় গেড়েছে বহু পূর্বে। তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা, ফরায়েজি আন্দোলন কিংবা তেভাগার সংগ্রাম—প্রত্যেকটিই শেখায়, আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নীরবতা মানেই আত্মসমর্পণ। অথচ স্বাধীনতার পরও সেই আগ্রা*সী ছোবল থেকে মুক্ত হতে পারিনি আমরা। সীমান্তে ফেলানীর ঝুলন্ত লা*শ, নিখোঁজ ইলিয়াস আলী কিংবা হ*ত্যা*র মঞ্চে সাকা চৌধুরী—এসব নিছক ঘটনা নয় বরং সুনির্দিষ্ট আগ্রাসী নীতির ন*গ্ন বহিঃপ্রকাশ।
ভারত যখন অখণ্ড ভারতের চেতনা ধারণ করে বাংলার ইতিহাসকে তাদের বিজয়ের প্রতীক বানাতে চায়, তখন পাল্টা স্বপ্ন দেখা আমাদের জন্য আবশ্যিক হয়ে ওঠে। চীনের মানচিত্রে বিতর্কিত সীমান্ত রেখা থাকে, নেপালও সাহসের সাথে নিজের দাবি তোলে, পাকিস্তান যেমন কাশ্মীরের জন্য লড়াই করে, আমাদেরও কি অধিকার নেই পূর্বপুরুষের রক্তসিক্ত ভূখণ্ডের দিকে হাত বাড়াতে? আসাম, ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ—সবটুকুই আমাদের ঐতিহাসিক সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই অংশগুলোকে অবহেলা করে নিজের মানচিত্রকে সীমাবদ্ধ রাখা কেবল আত্মপ্রবঞ্চনাই নয়, বরং জাতিগত সম্ভাবনাকে অস্বীকার করা।
উপদেষ্টা মাহফুজের কথার মধ্যে যে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী রাজনৈতিক চেতনা ধ্বনিত হয়েছে, তা কোনো বিচ্ছিন্ন বক্তব্য নয়; বরং একটি প্রয়োজনীয় বিপ্লবের ইঙ্গিত। পররাষ্ট্রের মঞ্চে যারা দুর্বল, তাদের অস্তিত্ব বিলীন হতে সময় লাগে না। আমাদের এই অঞ্চলের প্রতিটি জাতি-গোষ্ঠীর মুক্তির দায়িত্ব আমাদের নিজেদেরই নিতে হবে। মণিপুর, আসাম, ত্রিপুরার মজলুম জনতার মুক্তি যেমন ভারতীয় আগ্রাসনের পতন নিশ্চিত করবে, তেমনি বাংলার ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের সূচনা ঘটাবে।
বিপ্লবের অ*স্ত্র একটাই—স্বপ্ন আর প্রতিরোধ। ইতিহাস সাক্ষী, বাংলার ভূমি কখনও কাপুরুষদের পদানত হয়নি। তিতুমীর থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনারা সেই শিক্ষা দিয়ে গেছেন। আজকের প্রজন্মের দায়িত্ব সেই প্রতিরোধকে নতুন যুগের ভাষায় রচনা করা। ভারত যখন আমাদের মানচিত্রকে ছিন্নভিন্ন করতে চায়, তখন আমাদেরও পাল্টা মানচিত্রের দাবিতে দৃঢ় হতে হবে।
ভারতের সাম্রাজ্যবাদী নীলনকশার বিপরীতে প্রতিরোধই হবে আমাদের জাতিগত পুনর্জাগরণের প্রথম পদক্ষেপ।
২০২৪ কোনো সমাপ্তি নয়—এটি একটি নতুন ইতিহাসের সূচনা।