🚨 এক টিটিপি সদস্য/এজেন্ট বাংলাদেশের ভূখণ্ডে পা রেখেছিলো গত বছর সেপ্টেম্বরে। নাম নিয়ামতউল্লাহ মঙ্গল, উক্ত জঙ্গি সদস্যটি ভারত থেকে যশোর সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে নারায়ণগঞ্জের একটি কওমী মাদ্রাসায় অবস্থান নেয় এবং সেখান থেকে কয়েকটি জেলা ভ্রমণ করে।
কওমী মাদরাসাটির পরিচালক একজন টিটিপি সমর্থক, যাকে ২০২১ সালের ১৫ জুলাই রাতে পুলিশ ওই মাদ্রাসা পরিচালককে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে। এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মাত্র ১ মাসের মাথায় সে বের হয়। এরপর ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি “আদর্শ টিভি” নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে তার এক ওয়াজের ভিডিও প্রকাশিত হয়। সেখানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক সমাবেশে তাকে বলতে শোনা যায়:
“টিটিপি যদি তোমাদের নিজেদের দেশের একটি শক্তি হয়, আর তারা শরিয়াহ ও খেলাফত চায়, তাহলে সমস্যা কোথায়?... টিটিপির কথা মেনে নাও।”
উক্ত জঙ্গি সদস্যকে বাংলাদেশে এনেছেন ওই কওমী মাদরাসারই একজন খন্ডকালীন শিক্ষক, তার নিজস্ব একটি মাদ্রাসা রয়েছে নারায়ণগঞ্জে। পাশাপাশি রাজধানীর বাংলাবাজারের পাঠকবন্ধু মার্কেটের নিচতলায় তার একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানও আছে। তদন্তকারীদের দাবি, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তিনিও আগে কারাভোগ করেছেন।
ওই মাদ্রাসার পরিচালক দাবি করেন, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কোনো বিদেশিকে আশ্রয় দেওয়া যে অবৈধ, তা তিনি জানতেন না।
যাইহোক, ঘটনা অনুসন্ধানকারী মিডিয়া বাংলা স্ট্রিমের কাছে ওই আফগান ব্যক্তির পাসপোর্টের একটি কপি রয়েছে। সেটি ২৩ ডিসেম্বর ২০১৭ সালে ইস্যু হয়েছিল এবং ২৩ ডিসেম্বর ২০২২ সালে মেয়াদ শেষ হয়। সেখানে তার নাম নিয়ামতুল্লাহ মঙ্গল এবং জন্মতারিখ ৩১ জুলাই ১৯৯১ উল্লেখ আছে।
পরবর্তীতে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, তারা আফগানিস্তানের জেনারেল ডিরেক্টরেট অব ইন্টেলিজেন্স (GDI)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। GDI তাদের পাসপোর্টের কপি দেয় এবং জানায়, ওই ব্যক্তি দীর্ঘ সময় পাকিস্তানে ছিলেন। এছাড়া তারা নিশ্চিত করে যে তার সর্বশেষ পাসপোর্ট ২০২২ সালেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। ফলে উক্ত ব্যক্তির বাংলাদেশে তার প্রবেশ সম্পর্কিত কোনো তথ্য তারা দিতে পারেনি।
বিষয়টি তখন প্রথম ধরা পড়ে যখন, ২০২৫ সালের অক্টোবরের শেষদিকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের এক জেলায় ২১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর ফোন তল্লাশি করতে গিয়ে পুলিশ তার সঙ্গে টিটিপির ইমরান হায়দারের ভয়েস ও টেক্সট বার্তার আদানপ্রদানের প্রমাণ পায়। উচ্চশিক্ষার জন্য সে পাকিস্তানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদ্রাসা পরিচালক তাকে ব্যক্তিগত সহকারী বানিয়েছিলেন এবং তারা প্রায়ই বিভিন্ন জেলায় একসঙ্গে ভ্রমণ করতেন।
দেশের অভ্যন্তরে আমাদের জন্য কোনো অশনী সংকেত এটি বহন করে কি? সময়-ই বলে দিবে।
(রিপোর্ট শেয়ার করেছেন: সালেহ ফুয়াদ, বাংলা স্ট্রিম)