আজকের জাতীয় মসজিদের খুতবা দিয়েছেন ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের… — আল-আকসা ♥️ — TG.ME

আজকের জাতীয় মসজিদের খুতবা দিয়েছেন ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম মুফতি আবুল কাসেম নুমানী সাহেব।

নাতিদীর্ঘ বয়ানের বিষয়বস্তু ছিল নবিজির (ﷺ) বলা ৫ কথা। তিনি (ﷺ) লোকেদের ডেকে বলছেন, কে আছ আমার থেকে এই জিনিসগুলো জানতে চাও, নিজে পালন করতে চাও এবং অন্যদের কাছে পৌঁছুতে চাও? এরপর আবু হুরাইরা রাদ্বিআল্লাহু আনহুকে তিনি ৫টি লাইফ চেঞ্জিং শিক্ষা দেন।

.
এই হাদিস আমি আগেও শুনেছি। কিন্তু আজকের বয়ানে শুরুতে হৃদয় বিগলিত হয়ে গেল। আসলে জাতির আত্মশুদ্ধি নিয়ে কাজ করা আমলদার মানুষের কথার প্রভাব হয় ভিন্ন রকম।

কারো মূল্যবান কথায় যদি মনে প্রভাব না ফেলে তাহলে সাধারণত দুইটার একটা ঘটেছে বলে ধরে নেওয়া যায়-

বক্তা নিজে আমলদার নয়। পাপাচারী বা গাফিল মানুষের কথায় প্রভাব সেভাবে থাকে না।

অথবা শ্রোতা এতটাই আমল থেকে দূরে যে, অন্তর মরে গেছে।

শাইখ মাত্র মিনিট পনের কথা বলেছেন। কিন্তু পনের মিনিটেই জীবন পালটে দেওয়ার খোরাকি আছে।

.
উর্দু বয়ান শেষ। বাংলা তর্জমা করতে উঠে দাঁড়ালেন খোদ জাতীয় মসজিদের খতিব আব্দুল মালেক সাহেব হুজুর।

তর্জমা অনেক কষ্টসাধ্য কাজ। সাধারণ উর্দু বঝে যে কেউ এটা করতে পারলেও উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস নিজেই উঠে দাঁড়ালেন।

আমি অবাক হয়ে দেখলাম আল্লাহর এই বান্দা হুবহু সবকিছু বলে গেলেন। উর্দু বক্তব্যে নুমানী হুজুর হাদিসের একটা পয়েন্ট ব্যাখ্যায় অন্য হাদিসের লতানো-পাতানো রেফারেন্সও তিনি মনে রেখেছেন। যে লাইন যেভাবে বলেছেন সেটাকে বাংলাতেও সেই ঢঙেই উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন।

এখানে চূড়ান্ত অবাক করা বিষয় হচ্ছে তাবলীগের বিদেশি বয়ানগুলোতে সাধারণত কয়েক লাইন বলার পর সেগুলো বাংলা করে আরেকজন। কিন্তু আব্দুল মালেক সাহেব টানা ১৫ মিনিটের বয়ান হুবহু বাংলায় তুলে দিয়ে গেলেন কোনো নড়চড় ছাড়া। বক্তার কথায় নিজের কথা ঢোকাননি। ভাবেন একবার।

.
এই বয়সেও এরকম প্রখর মেধা দেখে শুধু একটা জিনিসই আরো ভালোভাবে বুঝে এল।

মানুষ আসলে যার জন্য নিরবচ্ছিন্ন মেহনত করে, আল্লাহ তাকে সেটা আরো বেশি করার সুযোগ দেন এবং সেটাতেই তাকে সফলতা দান করেন।

এটা পৃথিবীর নিয়ম। তিনি ইলমের পিছে জীবন উৎসর্গ করেছেন, আল্লাহ তাকে সেটাতেই সফল করেছেন।

ফেরার পথে বাইকওয়ালা ভাড়া ত্রিশ টাকা বাড়িয়ে নিতে সারা রাস্তা মেহনত করেছে, শেষে তাই পেয়েছে।

দুই লাখ টাকা দিয়ে ঢোকা ঘুসের চাকরিতে মেহনতকারী এখন নিজেই লাখ লাখ ঘুস পাচ্ছে।

ভালো-খারাপ দুইদিকের হিসাবই এক রকম।

মানুষ সত্যিই যা চায় এবং নিরন্তর লেগে থাকে, পৃথিবীতে আল্লাহ তাকে সেভাবেই চলতে দেন এবং তা-র সর্বোচ্চটা দান করেন।

আবুল কাসেম নুমানী, আব্দুল মালেক হুজুররা নিজের জীবনটা ইসলামের জন্য ব্যয় করেছেন। আজ আল্লাহ তাদের যোগ্য সম্মান দান করেছেন।

আনন্দের বিষয়, এই সম্মান আখিরাতেও যাবে। কিন্তু দুনিয়ারটা দুনিয়ার সাথেই শেষ হয়ে যাবে।

এই বাস্তবতা কারো শ্বাস থাকতেই মনে পড়ে, কারো পাঁজর-ভাঙা কবরের প্রথম চাপে।

.
সাহাবিরা সবাই আল্লাহর নবির সান্নিধ্য চাইতেন, হাদিস মুখস্থ করতেন।

কিন্তু সবচেয়ে বেশি চাইতেন আব্দুর রহমান ওরফে এক বিড়ালওয়ালা (আবু হুরাইরা)।

এজন্য ইসলাম প্রচার শুরুর ২০ বছর পর দ্বীন গ্রহণ করেও সবচেয়ে বেশি হাদিস বর্ণনায় আল্লাহ তাকেই কবুল করেছেন।

.
জুমআয় মুহতামিম সাহেবের বর্ণিত হাদিসও তার থেকেই এসেছে। আবু হুরাইরা (রা) বলেছেন,

“রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, ‘কে আমার কাছ থেকে এই কথাগুলো গ্রহণ করবে, যাতে সে নিজে এগুলোর ওপর আমল করে অথবা অন্যকে শেখায়?’

আমি বললাম, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমি।‘

এরপর তিনি আমার হাত ধরলেন এবং গুনে গুনে এই পাঁচটি কথা বললেন-

‘হারাম বিষয় থেকে বেঁচে থাক, তাহলে তুমি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড়ো ইবাদতকারী হবে।

তোমার ভাগ্যে আল্লাহ তা’আলা যা নির্ধারণ করেছেন তাতে খুশি থাকলে লোকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ধনী হবে।

প্রতিবেশীর সাথে ভদ্র আচরণ করলে প্রকৃত মুমিন হতে পারবে।

যা নিজের জন্য পছন্দ কর তা-ই অন্যের জন্যও পছন্দ করতে পারলে প্রকৃত মুসলিম হতে পারবে।

এবং অতিরিক্ত হাসাহাসি করো না। কারণ অতিরিক্ত হাসি অন্তরকে মেরে ফেলে।’”

.
প্রতিটা পয়েন্টে মুহতামিম সাহেব আরো ব্যাখ্যা করে গেছেন। পরে কখনো সময় পেলে বলব।

যতটুকু পারলাম, পৌঁছে দিলাম।

কারণ এগুলো রাসূলের রেখে যাওয়া সম্পদ। তার প্রিয় ওয়ারিশরা এভাবেই প্রিয় উম্মতের জন্য রেখে গেছেন যুগে যুগে।

এ সম্পদ আমার নিজের অনেক পছন্দের।
তাই ভাইদের জন্যও রেখে গেলাম।

একমাত্র ঐ শিক্ষাই সফল যেটা প্রয়োগ (আমল) করা হয়।

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম।


©
❤2
August 7, 2026 92