গতকাল বন্ধু মারফত এক শায়খের নসিহত পেলাম। পারিবারিক জীবন নিয়ে এমন বাস্তববাদী কথা কোনো বইতে পাইনি।
.
২ ঘণ্টার পুরো নসিহতের সারাংশটা বলি, সবার কাজে দেবে-
.
দুনিয়া হলো, দারুল ইমতিহান, মুমিনের কারাগার। আর সেই দুনিয়ার ভিতর আরেকটা দুনিয়া আছে। সেটা হলো, নারীর দুনিয়া। নারীর কল্পনা জগতের দুনিয়া।
.
এটা আসল দুনিয়ার কারাগার থেকে আরও বেশি সংকীর্ণ। আরও বেশি ফিতনাময়। যে পুরুষ একবার এই কারাগারে ঢুকেছে, সে নিজেকে চিরজীবনের জন্য হারিয়েছে। চোখের পানি, নাকের পানি এক করা ছাড়া আর কিছুই তখন করার থাকে না।
.
তবে দোষটা নারীদের নয়। নারীর মনকে বানানোই হয়েছে এভাবে, সে বাস্তববাদী কম হবে, আগাম ভবিষ্যৎ কম আঁচ করতে পারবে, কল্পনা ও আবেগময় দুনিয়ায় বেশি বাস করবে।
.
এজন্য পুরুষকেই দূরদর্শী হতে হয়। একটা সুনির্দিষ্ট উসুল বা মূলনীতিকে শক্ত করে আকড়ে ধরতে হয়। সংসার জীবনে যেকোনো 'বড় বিরোধ' হলে সেই উসুলের মানদণ্ডে সমাধানে আসা লাগে। আর মুমিনের উসুল হচ্ছে, দ্বীন ইসলাম।
.
যে দ্বীনকে ছুড়ে মেরে শুধু "কৌশল" বা "যুক্তির" দ্বারস্ত হয়েছে, সে কখনই সফল হয়নি। একবার বিজয় হলে নিরানব্বই বারই হেরেছে।
.
আল্লাহ তাআলা সূরা নিসার ৩৪ নং আয়াতে বলেছেন, নারীদের ওপর পুরুষদেরকে তিনি কওয়াম বা তত্ত্বাবধায়ক বানিয়েছেন।
.
তবে এজন্য সবার আগে যেটা জরুরী সেটা হচ্ছে, আল্লাহর বিধানের সামনে আত্মসমর্পণ। যদি আত্মসমর্পণ না থাকে, অন্যদের মতো আপনিও দ্বীনকে নিজের স্বার্থ হাসিলের অস্ত্র বানিয়ে ফেলবেন।
.
এজন্য আত্মিক ও শারীরিক, উভয় ক্ষেত্রেই দ্বীনের তাবেদারি জরুরী, দ্বীনের শক্তিতে নিজেকে শক্তিশালী করা জরুরী।
.
তাহলেই ঘরের মা, বোন, স্ত্রী, কন্যা—সবার 'কওয়াম' হওয়া যাবে। অন্যথায় 'ভণ্ডামী' শোনা লাগবে।
.
তাই পুরুষ মানুষের উচিত আগে নিজের পৌরুষ্য দ্বীনের আদলে ঠিক করা। নিজের বাড়াবাড়ি, ছাড়াছাড়ি—এগুলো মনমর্জি অনুযায়ী না করে দ্বীনের আদলে করা। তাহলেই ঘরের 'কওয়াম' হতে পারবেন।
.
দ্বিতীয়ত, পিঁপড়া আর হাতির গল্পটা ভালোভাবে বুঝতে হবে। পিঁপড়া ক্ষুদ্র প্রাণী। কোথাও মরে পড়ে থাকলে কেউ টেরও পায় না। কিন্তু হাতি? একবার মরলে পুরো দুনিয়া যেন কেঁপে উঠে।
.
তাই পারিবারিক যেসব বিষয়কে পিঁপড়ার মতো ক্ষুদ্র ভেবে ছাড় দেবার কথা ভাবছেন, তা যদি দ্বীনের মানদণ্ডে সাংঘাতিক পর্যায় যাওয়ার শঙ্কা থাকে, তাহলে পিঁপড়ার আকার থাকতেই সেটাকে প্রতিহত করুন। হাতির আকার ধারণ করে তারপর মারার চিন্তা করলে ফলাফল ভূমিকম্পই হবে।
.
পরিশেষে নিজের ধ্যান জ্ঞান সবকিছুর কেন্দ্রে দ্বীনকে রাখুন। দ্বীনের আদলেই পরিবার সাজান। পরিবারের আদলে দ্বীন সাজাতে যাবেন না।
.
অন্যথায় দুনিয়া তো হারাবেনই, আখিরাতও হারাতে হবে। ঈমান, আমল কিচ্ছুই অবশিষ্ট থাকবে না।
.
আল্লাহ হেফাজত করুক।
- মহিউদ্দীন রূপম