অনেক আমল করেও ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারছেন না? তাহলে মূসা (আ.)-এর এই ঘটনাটি থেকে শিক্ষা নিন।
এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ইবাদত-বন্দেগি করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছিলেন না। এমন অবস্থায় আমাদের মনে হতাশা আসতে পারে। কিন্তু আল্লাহর রহমত থেকে কখনো নিরাশ হওয়া যাবে না।
✅ মূসা (আ.)-এর জীবনের অসাধারণ ২টি ঘটনা আমাদের এ শিক্ষা দেয়।
১. বর্ণিত আছে, হযরত মূসা (আ.)-এর সময়ে এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে অভিযোগ করলেন: “হে মূসা! আমার বিয়ে হয় না, সন্তানাদি হয় না। আমার ভাগ্যে এসব কিছুই নেই। আমি খুব কষ্টে আছি।”
হযরত মূসা (আ.) আল্লাহ তা‘আলার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলেন। আল্লাহ তা‘আলা ওহীর মাধ্যমে জানালেন যে, “ওই ব্যক্তির ভাগ্যে সন্তান নির্ধারিত হয়নি।”
কয়েক বছর পর হযরত মূসা (আ.) সেই ব্যক্তিকে আবার দেখলেন। আশ্চর্যের বিষয়, তার ঘরে কয়েকজন সন্তান খেলা করছে! মূসা (আ.) বিস্মিত হয়ে আল্লাহর কাছে এর রহস্য জানতে চাইলেন।
আল্লাহ তা‘আলা জানালেন: “ওই ব্যক্তি এত বেশি আন্তরিকতা ও কান্নাকাটির সাথে আমার কাছে দোয়া করেছে যে, তার অবিরাম দোয়া ও আকুতিতে আমি তার পূর্বের তাকদীর পরিবর্তন করে তাকে সন্তান দান করেছি।”
২. যখন মূসা (আ.) মাদইয়ান থেকে মিসরের দিকে ফিরছিলেন, তখন তিনি পরিবারসহ পথ হারিয়ে ফেলেন। চারদিকে অন্ধকার, অনিশ্চয়তা ও বিপদের আশঙ্কা। এমন কঠিন মুহূর্তে তিনি আল্লাহর ওপর ভরসা রাখলেন। তখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে তূর পাহাড়ের কাছে ডাকলেন এবং নবুওয়াত দান করলেন। (সূরা ত্ব-হা ২০:৯-১৪)
আরেকটি বিখ্যাত দোয়া হলো, যখন মূসা (আ.) মাদইয়ানে পৌঁছে একেবারে নিঃস্ব ও অসহায় অবস্থায় ছিলেন। তিনি আল্লাহর কাছে এই দোয়া করেন—
رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
"হে আমার রব! আপনি আমার প্রতি যে কল্যাণ নাযিল করবেন, আমি তার মুখাপেক্ষী।"
— (সূরা আল-কাসাস ২৮:২৪)
এই দোয়ার পরই আল্লাহ তাআলা তাঁর জন্য আশ্রয়, খাদ্য, কাজ এবং পরবর্তীতে একটি সম্মানিত পরিবারে বিবাহের ব্যবস্থা করে দেন। (সূরা আল-কাসাস ২৮:২৫-২৮)
🌸আমাদের জন্য শিক্ষা
🌿 আমল করার পরও ফল দেরিতে আসতে পারে, কিন্তু আল্লাহ কখনো বান্দার আমল নষ্ট করেন না।
🌿 বিপদের সময় হতাশ না হয়ে আল্লাহর কাছে বারবার দোয়া করতে হবে।
🌿 আল্লাহর সাহায্য এমন সময় আসে, যখন মানুষ কল্পনাও করতে পারে না।
🌿 তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা) এবং ধৈর্য সফলতার অন্যতম চাবিকাঠি।
🌸একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
"এই একটি আমল করলেই ভাগ্য বদলে যাবে"—এ ধরনের কথা কুরআন-হাদিসে নির্দিষ্টভাবে নেই। তবে মূসা (আ.)-এর এই দোয়াটি অত্যন্ত বরকতময়। অর্থ বুঝে, বিনয়ের সঙ্গে এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে বেশি বেশি পড়া যেতে পারে—
رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
অর্থ: হে আমার রব! আপনি আমার প্রতি যে কল্যাণ নাযিল করবেন, আমি তারই মুখাপেক্ষী।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
"নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি।"
— (সূরা আশ-শারহ ৯৪:৫-৬)
তাই হতাশ না হয়ে আমল, দোয়া, তাওবা ও হালাল উপায়ে চেষ্টা চালিয়ে যান। আল্লাহ চাইলে এক মুহূর্তেই অবস্থার পরিবর্তন করে দিতে পারেন। ইনশাআল্লাহ।