আড়াই মাস হয়ে গেল বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে কিন্তু ছাত্রদল ঢাবির একটা হল দখল করতে পারে নাই। এটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গত ৭০/৮০ বছরের ইতিহাসের বিরলতম ঘটনা।
বলা হয় বাংলাদেশে ক্যান্টনমেন্ট হল দুইটা:
১। উত্তরপাড়া (সেনানিবাস)
২। দক্ষিনপাড়া (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)
এই দুই জায়গা নিয়ন্ত্রনে থাকলে সরকার নিরাপদ। বিএনপির জন্য দুশ্চিন্তার জায়গা হল ঢাবিতে ছাত্রদলের একেবারেই ফুন্টপ্রিন্ট নাই। বাইরে থেকে, বস্তি থেকে লোক নিয়ে এসে মিছিল দিতে হয়। অধিকাংশ নেতা-কর্মী আদুভাই। নতুন রিক্রুট সীমিত, হলে নেতা-কর্মীর সংখ্যা বেশ কম।
ঢাবিসহ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্ষমতাসীন দলের রিক্রুট করার প্রধান তরিকা হল হল দখল করা। হল দখলের পরে যেভাবে রিক্রুট হয়:
১। গণরুম প্রতিষ্ঠা করে হলে নিজেদের মত করে ছাত্র উঠায়। গনরুম মানে একরুমে ৬০/৭০ জন করে থাকে। এখানে বহিরাগতও উঠায়।
২। গণরুম থেকে বিভিন্ন রুমে ছাত্রদের সিট বরাদ্দ নিয়ন্ত্রণ করে।
৩। প্রতিটি সিটে একজন করে এক্সট্রা ছাত্র দেয়। (I.E ঢাবিতে সিঙ্গেল খাটে দুইজন থাকতো, একজন বৈধ আরেকজন উঠতো ক্ষমতাসীন দলের কোটায়।)
শিবির সকল ছাত্রসংসদে জেতার পরে এই গণরুম, গেস্টরুম, এবং অতিরিক্ত ছাত্র উঠানোর ব্যাপারটা বেশ সফলতার সাথে চেক দিয়েছে। ছাত্রদল অনেক চেষ্টা করেও পারছে না।
সর্বশেষ বিএনপির শিক্ষা সম্পাদক, ঢাবি ভিসি, সেই ২০০৫-০৬ সেশনের আদু ভাইদের হলে সিট বরাদ্দ দিচ্ছে, যাদের বয়স এখন ৪৫ এর কাছাকাছি। হল দখলের জন্য কোন লেভেলের ডেসপারেট হলে এই ধরনের হাস্যকর সিদ্ধান্ত নেয়। সেটাও ডাকসু আটকে দিয়েছে।
তাই ছাত্রদলের হিতাহিত জ্ঞান নাই। থানার ভেতরে গিয়ে মোসাদ্দেক, জুবায়েরদের উপর হামলা করতেছে। সাংবাদিকদের পিটিয়েছে, ক্যামেরা ভেঙ্গে দিচ্ছে। আরো কি করে সামনে কে জানে।
- মীর সালমান
সাবেক শিক্ষার্থী, ঢাবি