গাজীপুরের চারটি লাশ আর একটা প্রশ্ন, রাষ্ট্রের ঘুম ভাঙ্গবে কখন?… — Bangladesh Awami League — TG.ME

গাজীপুরের চারটি লাশ আর একটা প্রশ্ন, রাষ্ট্রের ঘুম ভাঙ্গবে কখন?

কাপাসিয়ার পাবুর দক্ষিণ পাড়ায় নিলয় সরকারকে কুপিয়ে হত্যা করা হলো দিনের বেলা, পাকা রাস্তার ওপর, এতিমখানার পাশে। প্রকাশ্য দিবালোকে এক যুবক আরেক যুবককে কোপালো। আশপাশে মানুষ ছিল, দোকানপাট ছিল, অথচ হামলাকারী পালিয়ে গেল। প্রশ্ন একটাই, পুলিশ কি আসলেই এলাকায় ছিল, নাকি থাকলেও চোখ বন্ধ রাখা এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে?

একই জেলায় পাঁচ বছরের জাহিদ হাসান তিন দিন নিখোঁজ থাকলো। পরিবার থানায় জিডি করলো। এরপর শিশুটির লাশ ভেসে উঠলো ব্রহ্মপুত্রে। বাড়ি থেকে মাত্র চারশো মিটার দূরে। পুলিশ কি এই তিন দিনে কিছুই করেনি, নাকি নদীতে ভেসে ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করাটাই তাদের জন্য স্বাভাবিক ছিল?

কালিয়াকৈরে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হলো। পরিচয় নেই, তদন্ত নেই, দায় নেই। জয়দেবপুরের মৌচাকে বাকপ্রতিবন্ধী এক যুবক মারা গেল। পরিবার মরদেহ নিজেরাই বাড়ি নিয়ে গেল। থানায় গিয়ে আরেকটা হয়রানির ঝুঁকি নেয়নি।

এখন প্রশ্ন হলো, এই আইনশৃঙ্খলার চেহারা কারা তৈরি করলো। বিএনপি আর জামাত যখন সরকারে, তখন প্রশাসনে রাজনৈতিক কোটা, পুলিশে আনুগত্যের ভিত্তিতে বদলি, মাঠপর্যায়ে দলীয় প্রভাব খাটানোর পুরনো অভ্যাস ফিরে আসে কি না, সেটা দেখার দায়িত্ব তো নাগরিকের। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ দেখেছে কীভাবে স্থানীয় প্রভাবশালীরা পুলিশের চোখের সামনে খুন করতে পারত, আর মামলা হতো হয় না, হলে সাক্ষী থাকত না, আর থাকলেও বিচার হতো না। এখনো কি সেই পথেই হাঁটছে দেশ?

সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপারটা হলো, এই ঘটনাগুলো নিয়ে ক্ষমতাসীনদের মাথাব্যথা নেই। সমালোচকদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর জায়গাটা হলো, গাজীপুরে চারটা মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে, অথচ নগর প্রশাসন আর কেন্দ্র কেউই মুখ খুলছে না। গাজীপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে কোনো মন্ত্রী আসছেন না, কোনো তদন্ত কমিটি বসছে না, কোনো পুলিশ সুপারকে দায় নিতে হচ্ছে না। এভাবে নীরবতা মানেই দায় এড়ানো, আর দায় এড়ানো মানেই অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া।

এখনকার বাংলাদেশে হত্যা একধরনের স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বাকপ্রতিবন্ধী মানুষ মারা গেলে খবর হয় না, শিশুর লাশ ভেসে উঠলে তিন দিনেও প্রশাসন নড়ে না, জঙ্গলে কারও ঝুলন্ত লাশ মানে মর্গে গিয়ে ফাইল ক্লোজ। এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কার দায়ে। যারা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করে, যারা পুলিশকে রাজনীতির হাতিয়ার বানায়, যারা অপরাধী চেনার পরও আইন প্রয়োগ করে না, তারাই আজ চুপচাপ বসে আছে।

গাজীপুরের চারটা লাশের কোনোটা হয়তো বিচার পাবে, কোনোটা পাবে না। কিন্তু এই মৃত্যুগুলোর পেছনের রাজনৈতিক নীরবতা, প্রশাসনিক ব্যর্থতা আর আইনের শাসনবিহীন এক রাষ্ট্রযন্ত্রের যে ছবি ফুটে উঠেছে, সেটাই সবচেয়ে বড় অভিশাপ। বাংলাদেশ কি আবার সেই পুরনো দিনের পথে হাঁটছে, যখন জীবন ছিল সবচেয়ে সস্তা পণ্য আর ক্ষমতা ছিল সব অপরাধের পিঠ বাঁচানোর ছাতা?

#Bangladesh #BangladeshCrisis
❤19👍7😁2
September 4, 2026 2.2K 2