যে পরিবারটি সংখ্যালঘু, তাদের উপর এমন নৃশংস হামলা বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সময়কালে দেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্বিচার সহিংসতা, ঘরবাড়ি পোড়ানো, নারী নির্যাতন ও মন্দির ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তখনো প্রশাসন অনেক ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। এখন ২০২৬ সালে এসে আবার সেই চিত্র দেখা যাচ্ছে। রংপুরে এক শিক্ষক পরিবারের চারজনকে খুন করা হলো, ধর্ষণের প্রমাণ মিললো, অথচ প্রশাসন বলছে মাদক, জমি, ডাকাতি। প্রতিটি গল্প বদলানো হচ্ছে, কিন্তু প্রকৃত সত্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। এটি শুধু একটি পরিবারের বিচার প্রার্থনার বিষয় নয়, এটি দেশের প্রতিটি সংখ্যালঘু নাগরিকের নিরাপত্তার প্রশ্ন। যারা মনে করে তাদের জীবনের কোনো মূল্য নেই, তারা এখন আরও আতঙ্কিত। প্রশাসনের এমন আচরণে বোঝা যায়, প্রকৃত দোষীদের বাঁচাতেই এই তৎপরতা। নয়তো ডোপ টেস্টে মাদক পাওয়া যায়নি বলে যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে এখনো কী প্রমাণ রইলো? শুধু স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি? সেই জবানবন্দিও কি চাপ দিয়ে আদায় করা হয়নি, সেই প্রশ্নও উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মামলার শুরুতে যে তাড়াহুড়া করেছে, তাতে বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা নষ্ট হয়েছে। এই অবস্থায় গণপতি চক্রবর্তীর পরিবারের স্বজনদের মতো সাধারণ মানুষের মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক যে, প্রকৃত খুনিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে, আর নির্দোষদের ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। রংপুরের এই চার খুনের বিচার যদি না হয় (মানে আদৌ যদি কখনো হয় আরকি!), তাহলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের জন্য নিরাপত্তা বলে কিছু থাকবে না।
#Bangladesh #BangladeshCrisis
11
4
2September 4, 2026 1.7K 2