শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনেই কি এত ভয়? বাংলাদেশে রাজনীতির নতুন আতঙ্কের… — Bangladesh Awami League — TG.ME

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনেই কি এত ভয়? বাংলাদেশে রাজনীতির নতুন আতঙ্কের নাম ‘ডিসেম্বর’
— রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরবেন—এই সম্ভাবনাটিই কি এখন বিএনপি সরকার, তাদের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াত-এনসিপি এবং ইউনূস-পরবর্তী ক্ষমতার বলয়ের সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন?

বিবিসির সাংবাদিক শুভজ্যোতি ঘোষের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অন্তত সেই প্রশ্নটিকেই সামনে নিয়ে এসেছে। প্রতিবেদনে ভারতীয় অবস্থানের যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, তা হলো—বাংলাদেশ সরকার মুখে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইছে, কিন্তু বাস্তবে তাঁকে হাতে পাওয়ার ব্যাপারে তাদের আগ্রহ নিয়ে দিল্লির সন্দেহ আছে। কারণ, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সংকট আরও তীব্র হতে পারে এবং সরকারের জন্য পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

যদি এই মূল্যায়ন সত্যি হয়, তাহলে প্রশ্ন একটাই—যাঁকে পরাজিত করার দাবি করে ক্ষমতায় আসা হয়েছে, তাঁর দেশে ফেরার সম্ভাবনাতেই যদি এত ভয়, তাহলে আসলে ভয়টা কিসের? শেখ হাসিনার, নাকি জনতার?
প্রত্যর্পণের দাবি, নাকি রাজনৈতিক কৌশল?

বাংলাদেশ সরকার যদি সত্যিই মনে করে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান এতটাই শক্তিশালী, তাহলে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করতে এত দ্বিধা কেন?
ভারতের পক্ষ থেকে যে বার্তা আসছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। ভারতীয় কর্মকর্তাদের বক্তব্যের সারকথা—শেখ হাসিনা নিজে দেশে ফিরতে চাইলে সেটিই বরং প্রত্যর্পণের চেয়ে স্বাভাবিক পথ।

অর্থাৎ, দিল্লির দৃষ্টিতে বিষয়টি কেবল প্রত্যর্পণের কূটনৈতিক ফাইল নয়; বরং শেখ হাসিনার নিজের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাবনাও বাস্তব একটি রাজনৈতিক সমীকরণ।
আর এখানেই বিএনপি সরকারের অস্বস্তির জায়গাটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

কারণ একজন রাজনৈতিক নেতাকে পরাজিত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় তাঁকে দেশে ফিরতে দেওয়া—যদি সরকার সত্যিই বিশ্বাস করে জনগণ তাঁকে প্রত্যাখ্যান করবে।
কিন্তু যদি তাঁকে দেশে ফেরার আগেই রাজনৈতিকভাবে ঠেকাতে হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে—সরকার কি জনসমর্থনের একটি নতুন ঢেউয়ের আশঙ্কা করছে?
‘ডিসেম্বর’ এখন শুধু একটি মাস নয়
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষিত সময় ডিসেম্বর—এই একটি শব্দই বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন কাউন্টডাউন তৈরি করেছে।

সরকারের সামনে এখন দুটি পথ।
এক. তাঁকে দেশে ফিরতে দেওয়া এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির মোকাবিলা করা।
দুই. নানা কূটনৈতিক, প্রশাসনিক কিংবা রাজনৈতিক কৌশলে তাঁর প্রত্যাবর্তন ঠেকানোর চেষ্টা করা।

দ্বিতীয় পথটি বেছে নেওয়া হলে রাজনৈতিক বার্তাটি ভয়াবহ হতে পারে। তখন জনগণের কাছে প্রশ্ন উঠবেই—একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সরকার এতটা উদ্বিগ্ন কেন?
কারণ শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে কী হবে, তা কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারে না। কিন্তু এটুকু বলা যায়—তাঁর প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বড় ধরনের গণ-মনস্তাত্ত্বিক বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।

সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস তৈরি হতে পারে। বিরোধীদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়তে পারে। রাজপথে নতুন মেরুকরণ শুরু হতে পারে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—বর্তমান সরকারের জনপ্রিয়তা, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং রাজনৈতিক বৈধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে।
জনরোষ কি সত্যিই বাড়ছে?

এখানেই সরকারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট, দ্রব্যমূল্যের চাপ, কর্মসংস্থানের সংকট, চাঁদাবাজি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি—এসব নিয়ে মানুষের অসন্তোষ যদি ক্রমাগত বাড়তে থাকে, তাহলে যে কোনো সরকারের জন্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
সরকারের সমর্থকেরা এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দিতে পারেন। কিন্তু রাজনীতির নির্মম বাস্তবতা হলো—মানুষের রান্নাঘরের সংকটকে কোনো সরকারি প্রচার দিয়ে দীর্ঘদিন ঢেকে রাখা যায় না।

বিদ্যুৎ না থাকলে মানুষ সরকারের সাফল্যের গল্প শুনতে চায় না। গ্যাস না থাকলে উন্নয়নের পরিসংখ্যান দিয়ে ক্ষোভ থামানো যায় না। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নাগালের বাইরে গেলে রাজনৈতিক স্লোগান মানুষের ক্ষুধা মেটায় না।

আর এই অসন্তোষের সঙ্গে যদি রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা যুক্ত হয়, তখন পরিস্থিতি আরও বিস্ফোরক হয়ে উঠতে পারে।

উগ্রবাদ ও সাংস্কৃতিক পরিসর: অস্বস্তিকর প্রশ্নগুলো এড়ানো যাবে কতদিন?
সরকার জঙ্গিবাদ বা উগ্রবাদের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগের কথা অস্বীকার করতে পারে। কিন্তু বিচ্ছিন্ন বোমা বিস্ফোরণ, ধর্মীয় উগ্র গোষ্ঠীর তৎপরতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্টকে ঘিরে বাধা—এসব ঘটনা যদি ধারাবাহিকভাবে সামনে আসে, তাহলে সরকারের কাছে একটি মৌলিক প্রশ্ন থেকেই যায়:
রাষ্ট্র কি নাগরিকের নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারছে?
নাটক-সিনেমায় প্রেমের গল্প থাকবে কি থাকবে না—এমন প্রশ্ন যদি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে, তাহলে সেটি কেবল বিনোদনের বিষয় থাকে না; সেটি রাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক চরিত্রের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।
❤16😁4
September 1, 2026 1.5K 2