‼️ চীনের নতুন ক্যারিয়ার কৌশল: মার্কিন নৌবহর মোকাবিলায় মূল ভূখণ্ডের শক্তি ব্যবহার
বিমানবাহী রণতরী বা এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারকে সাধারণত একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ যুদ্ধব্যবস্থা হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু চীন ক্যারিয়ার ব্যবহারে কিছুটা ভিন্ন কৌশল অনুসরণ করছে। তাদের পরিকল্পনায় ক্যারিয়ার একা যুদ্ধ করবে না; বরং মূল ভূখণ্ডের যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, স্যাটেলাইট ও নজরদারি ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যারিয়ারগুলো মূলত নিজ ভূখণ্ড থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য তৈরি। তাই একটি মার্কিন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের সঙ্গে যুদ্ধবিমান, আগাম সতর্কীকরণ বিমান, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বিমান, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, এসকর্ট জাহাজ ও সরবরাহকারী জাহাজসহ অনেক কিছু রাখতে হয়।
চীনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। তাইওয়ান প্রণালি ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলো চীনের মূল ভূখণ্ডের কাছাকাছি। ফলে চীনা ক্যারিয়ার এসব এলাকায় কাজ করার সময় স্থলভিত্তিক বিমানঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র, কমান্ড সেন্টার ও অন্যান্য সামরিক অবকাঠামোর সহায়তা পেতে পারে।
চীনের J-20 ও J-16 যুদ্ধবিমান, H-6 বোমারু বিমান এবং বিভিন্ন স্থলভিত্তিক নজরদারি বিমান ক্যারিয়ারের বিমানশক্তিকে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে DF-21D ও DF-26-এর মতো দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন বাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম। স্যাটেলাইট ও অন্যান্য সেন্সরও শত্রুর অবস্থান শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এই কৌশলের ফলে চীনা ক্যারিয়ারকে একাই পুরো যুদ্ধ পরিচালনা করতে হবে না। তার প্রধান কাজ হবে সমুদ্রের নির্দিষ্ট এলাকায় বিমানশক্তি ও নজরদারি সক্ষমতা বাড়ানো এবং স্থলভিত্তিক সামরিক শক্তির সঙ্গে সমন্বয় করা।
চীনের নতুন বিমানবাহী রণতরী ফুজিয়ান এই ধারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে। এতে electromagnetic catapult ব্যবহৃত হয়েছে, যা আগের লিয়াওনিং ও শানডংয়ের ski-jump ব্যবস্থার তুলনায় বেশি জ্বালানি ও অস্ত্র নিয়ে বিমান উড্ডয়নের সুযোগ দেয়। ভবিষ্যতে J-35 স্টেলথ ফাইটার, J-15T, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বিমান এবং KJ-600 আগাম সতর্কীকরণ বিমান পরিচালনায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তাইওয়ানকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতে একটি চীনা ক্যারিয়ার তাইওয়ানের পূর্বদিকে অবস্থান করে মূল ভূখণ্ডের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে সমন্বয় করতে পারে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশের হস্তক্ষেপ আরও কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি ক্যারিয়ারের বিপরীতে চীনের রয়েছে ৩টি। কিন্তু পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে সম্ভাব্য সংঘাতকে শুধু ‘১১ বনাম ৩’ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি বোঝা যায় না। কারণ চীনা ক্যারিয়ারগুলো বিশাল স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র, বিমান ও সেন্সর নেটওয়ার্কের সহায়তা পাবে।
অর্থাৎ, চীনের কৌশলের মূল কথা হলো—ক্যারিয়ারকে একা যুদ্ধ করার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নয়, বরং মূল ভূখণ্ডের বিশাল সামরিক নেটওয়ার্কের একটি চলমান অংশ হিসেবে ব্যবহার করা। পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে ভবিষ্যতের নৌ-প্রতিযোগিতায় এই কৌশলই চীনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠতে পারে।
@SorwarAlam[mh]
191
70
16
7
4
2
1September 3, 2026 9.2K 9 8