যুদ্ধবিরতি ১২ ঘন্টাও টিকলো না!
যুদ্ধবিরতির জন্য পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, এটা ঠিক। তাই বলে পাকিস্তানকে ইরানের সভ্যতার রক্ষক বলা, বা পাকিস্তানের ট্রাম্পকে চাপে রাখার ক্ষমতা আছে মনে করাটা ডিলিউশনাল।
পাকিস্তান মূলত ট্রাম্পকে সেভ করেছে, কারণ কিছুটা মানসম্মান বজায় রেখে যুদ্ধ থেকে বের হতে মরিয়া ছিলো ট্রাম্প। আর আল্টিমেটামের পর যুদ্ধবিরতি না হলে ট্রাম্পকে ইরানে সিভিয়ার কোন হামলা করতে হতো অথবা হাসির পাত্র হতে হতো - দু'টোই ট্রাম্পের জন্য আত্মঘাতী হতো। এজন্য যুদ্ধবিরতি করে আল্টিমেটাম বাস্তবায়নের প্রেসার থেকে বেঁচে গেলো ট্রাম্প।
যুদ্ধবিরতিটা পাকিস্তানের দরকার ছিলো আরো একটা কারণে। আল্টিমেটামের পর সৌদিতে ব্যাপক আক্রমন হলে পাকিস্তানকে পক্ষ নেয়ার দরকার হতো। সেটা হলে পাকিস্তানের বিপুল শিয়া জনগোষ্ঠীর তোপের মুখে পড়তে হতো।
তবে যে কারনেই করুক, যুদ্ধবিরতিটা জরুরি ছিলো। কিন্তু দুই পক্ষের ডিমান্ডের যে দূরত্ব, তাতে যুদ্ধবিরতির শর্তের দফাগুলোতে দুই পক্ষ কিভাবে প্রাথমিকভাবে একমত হলো অনেকের কাছে রহস্য মনে হচ্ছিলো। এখন ট্রাম্প বলতেছে, ইরান যে শর্তগুলোর কথা বলতেছে আর পাকিস্তান তাদের কাছে যে শর্তগুলো দিছে, সেগুলো এক না। সম্ভাবনা হলো, এখানে ট্রাম্প মিথ্যা বলছে, সে একজন প্যাথলজিকাল লায়ার৷
ট্রাম্প মুখ রক্ষার জন্য যুদ্ধবিরতি করলেও, ইজরাল এটা কোনভাবেই মানতে পারছে না। যুদ্ধবিরতি ভন্ডুল করার জন্য সে নিজে লেবাননে ব্যাপক হামলা চালাইছে, একই সাথে আরব আমিরাতকে দিয়ে ইরানে হামলা করাইছে। পাকিস্তান বলছে লেবানন যুদ্ধবিরতির অংশ ছিলো, হোয়াইট হাউজ বলছে লেবানন চুক্তির বাইরে।
লেবানন ইরানের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। হিযবুল্লাহ নিজের অস্তিত্ব বিপন্ন করে ইরানের জন্য যুদ্ধে যোগ দিছে, এখন ইরান হিযবুল্লাহকে ইজরালের সামনে একা ছেড়ে দিতে পারে না।
ফলাফলঃ
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবার দিনেই তা ভেঙে যাবার উপক্রম হলো। হরমুজ প্রণালী খুলেও বন্ধ হয়ে গেলো। এ যুদ্ধের আগুন সহজে নিভবে বলে মনে হচ্ছে না।
Copy