ইমারাতে ইসলামিয়ার মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ হাফিযাহুল্লাহ শিল্প ও… — Al Firdaws — TG.ME

ইমারাতে ইসলামিয়ার মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ হাফিযাহুল্লাহ শিল্প ও উৎপাদনে বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, শিল্প একটি দেশের উন্নয়নের ভিত্তি। শক্তিশালী শিল্পখাত গড়ে উঠলে বেকারত্ব কমবে, আফগানিস্তান স্বনির্ভর হবে এবং মানুষের জীবন আরও সমৃদ্ধ হবে। একই সঙ্গে জনগণের সামনে থাকা বহু সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করাও সহজ হবে।

নগর উন্নয়ন ও আবাসনমন্ত্রী মৌলভী নাজিবুল্লাহ হায়াত হাক্কানি বলেন, শিল্পনগরীর আগের পরিকল্পনায় থাকা কারিগরি সমস্যাগুলো সমাধান করতেই সংশোধিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিল্পনগরীর অবকাঠামোকে মানসম্মত করা হবে। বিশেষ করে সড়ক, বিদ্যুৎ এবং কারখানাগুলোর অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, শিল্পনগরী উন্নয়নের পাশাপাশি আবাসন সংকট মোকাবিলা এবং শহরগুলোর সুশৃঙ্খল বিকাশ নিশ্চিত করার কাজও এগিয়ে চলছে।

কাবুলের বিকল্প নগরায়ণ প্রসঙ্গে মৌলভী নাজিবুল্লাহ হায়াত হাক্কানি বলেন, কাবুলের জনসংখ্যা শহরটির আবাসন সক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এতে আবাসন খাতে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে উপযুক্ত বিকল্প নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন এবং এ ক্ষেত্রে নিউ কাবুল প্রকল্প অন্যতম সেরা বিকল্প।

শিল্পনগরীর উন্নয়নের পাশাপাশি নিউ কাবুল এলাকায় ইসলামী সংস্কৃতি মুদ্রণ ও প্রকাশনা উৎপাদনকেন্দ্রের নির্মাণকাজও শুরু হয়েছে। ১১০ জেরিব জমির ওপর ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগে নির্মিতব্য এই কেন্দ্রের মাধ্যমে ধর্মীয় গ্রন্থ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বই মুদ্রণের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে দেশের কাগজ ও মুদ্রণশিল্পকে শক্তিশালী করা এবং বিদেশ থেকে এসব পণ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই বছরের মধ্যে কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে। এরপর সেখানে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হবে।

‘গ্রিন ইন্ডাস্ট্রিজ’ শিল্পনগরীর অন্যতম অংশীদার শেরবাজ কামিনজাদা বলেন, মুদ্রণ ও প্রকাশনা উৎপাদনকেন্দ্রের প্রধান উদ্দেশ্য হলো দেশের অভ্যন্তরীণ কাগজের চাহিদা পূরণ করা। পাশাপাশি পবিত্র কোরআন, ধর্মীয়, ফিকহি, বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষামূলক গ্রন্থ এবং মাদরাসা ও বিদ্যালয়ের জন্য প্রয়োজনীয় বই মুদ্রণ করা হবে। এর মাধ্যমে বিদেশ থেকে বই আমদানির ওপর নির্ভরতাও কমানো হবে।

‘গ্রিন ইন্ডাস্ট্রিজ’ শিল্পনগরীর পরিকল্পনা ২০১৫ সালে গ্রহণ করা হয়। ৮ হাজার ২০০ জেরিব জমির ওপর গড়ে ওঠা এই শিল্পনগরী নিউ কাবুল প্রকল্পের অংশ। এখানে ১ হাজার ৫০০টি কারখানা স্থাপনের সক্ষমতা রয়েছে।

বর্তমানে শিল্পনগরীতে ১২টি খাতে ১২০টি কারখানা চালু রয়েছে। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত শিল্পনগরীতে প্রায় ৮০ কোটি ডলার বিনিয়োগ হয়েছে। পাশাপাশি আরও ১৪০টি কারখানা স্থাপনের কাজও চলমান রয়েছে।
❤3
September 4, 2026 316