আবরাহা যখন কাবা আক্রমণ করতে আসে মক্কার কয়েকজন নারী তখন গর্ভবতী ছিলেন। আবরাহা যখন দেখলো সবাই মক্কায় যাচ্ছে হজ্জ করতে, সে ভাবলো— কেমন হয় আমিও যদি এরকম একটা উপাসনালয় বানাই? তাহলে তো আমাদের এখানেও (ইয়েমেন) লোকজন আসবে। কাবার কারণে মক্কাবাসী বাণিজ্যিক এডভান্টেজ পাচ্ছে। মক্কা হয়ে যাচ্ছে এই অঞ্চলের বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এটা ভেবেই আবরাহা নির্মাণ করেছিলো 'আল-কুল্লাইস' নামে একটা গীর্জা। তার চিন্তা ছিলো এরকম একটা স্থাপনা নির্মাণ করলেই মানুষকে আকৃষ্ট করা যাবে। কিন্তু, কোথায় ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম এবং ইসমাইল আলাইহিস সালামের নির্মিত কাবা আর কোথায় 'আল-কুল্লাইস'! মক্কার এক লোক ইয়েমেন গিয়ে এমন এক কাজ করে, যার ফলে আবরাহা সিদ্ধান্ত নেয় তার কম্পিটিশন শেষ করে দিবে কাবা আক্রমণ করে! কারণ, সে যে উদ্দেশ্যে আল-কুল্লাইস নির্মাণ করেছিলো সেটা সফল হয়নি। এতো বিশাল প্রজেক্ট করেও সেটা থেকে সে প্রত্যাশিত লাভ পাচ্ছে না। যার ফলে যতোটা না মক্কার লোকটির কারণে, তারচেয়েও বেশি তার প্রজেক্টটা লস করার কারণে কাবা আক্রমণে বের হয়। . আবরাহার বাহিনীর কী পরিণতি হয় সেটা 'সূরা ফিল' এ আল্লাহ আমাদেরকে জানিয়েছেন। তার উদ্দেশ্য তো পূরণ হয়নি। এমনকি আর কেউ মক্কা আক্রমণ করতে ভয় সাহস পায়নি। আবরাহা যদি মক্কা আক্রমণ করতো, সে কি শুধু কাবা ধ্বংস করতো? সেখানকার মানুষজনের কী অবস্থা হতো? কাবা ঘর আক্রমণ করতে আসা কয়েক হাজার সৈন্য মক্কাবাসীর ওপর কেমন নির্যাতন চালাতো? কাবার ৫০০ মিটার কাছে থাকা পরিবারগুলোর কী অবস্থা হতো? . সেই সময়ের একজন নারীর কথা চিন্তা করুন। যিনি সন্তানসম্ভবা। এমন সময় একজন নারীর মানসিক সাপোর্ট অনেক দরকার। কিন্তু, সেই নারীর স্বামী কয়েক মাস আগে ইন্তেকাল করেছেন। তিনি যে সন্তান জন্মদান করবেন, সেই সন্তান পৃথিবীতে আসার পর বাবাকে পাবে না। এমন সময় যখন সেই নারী শুনতে পেলেন ইয়েমেন থেকে বিশাল বাহিনী আসছে কাবা আক্রমণ করতে; অথচ কাবা থেকে তাঁর বাসার দূরত্ব মাত্র ৫০০ মিটার, তখন তাঁর মানসিক অবস্থা কেমন হয়েছিলো? তাঁর স্বামী বিদেশে ব্যবসায়িক সফরে গিয়ে ইন্তেকাল করেছেন। এমন সময় যে বাহিনী ধ্বংসাত্মক কাজের জন্য আসছে, এ থেকে তিনি এবং তাঁর গর্ভের সন্তান কীভাবে রক্ষা পাবেন? একজন গর্ভবতী মা নিজের চাইতেও বেশি কনসার্ন থাকেন তাঁর অনাগত সন্তানকে নিয়ে। . মক্কার লোকজন আবরাহার বাহিনী থেকে আত্মরক্ষার কোনো উপায়ই দেখতে পাচ্ছিলো না। কারণ, এতো বিশাল বাহিনী তারা জীবনে দেখেনি। আব্দুল মুত্তালিব আল্লাহর কাছে দুআ করেন। যেই দুআর বদৌলতে আল্লাহ কাবা ঘর রক্ষা করেন। . আল্লাহ কি শুধুই কাবা ঘর রক্ষা করেছিলেন? নাকি সেখানকার মানুষদের? সেইসব সন্তানদের, যারা তখনো মায়ের গর্ভে? সেই মাকে, যার স্বামী ইন্তেকাল করেছেন এবং তিনি অপেক্ষায় আছেন তাঁর সন্তানের আগমনের? আবরাহার ঘটনার মাত্র ৪০/৫০ দিন পর মক্কায় একজন সন্তান জন্মগ্রহণ করেন। যাকে আল্লাহ তাঁর 'হাবিব' বলে উল্লেখ করেন। যাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য রহমত হিসেবে পাঠান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আবরাহার হাত থেকে কি আল্লাহ শুধু কাবাই রক্ষা করেছিলেন? নাকি কাবার চেয়েও মূল্যবান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হেফাজত করেছিলেন! সুবহানাল্লাহ! . আবরাহার কাবা আক্রমণের সময় মক্কার কয়েকজন নারী যে সন্তানসম্ভবা ছিলেন, সেটার হিন্টস পাওয়া যায় হালিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা ধাত্রী হিসেবে যখন মক্কায় আসেন, তখন সবাই সন্তান পেয়ে গেলেও তিনি পাননি। সর্বশেষ পেয়েছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে। এই ঘটনা ঘটে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মের প্রায় ২ মাসের মধ্যে। তার মানে সেসব সন্তানরা আবরাহার ঘটনার সামান্য আগে-পরে জন্মগ্রহণ করেন।
আবরাহা যখন কাবা আক্রমণ করতে আসে মক্কার কয়েকজন নারী তখন গর্ভবতী ছিলেন।… — প্রজন্ম — TG.ME
April 28, 2026 34