ইন্দোনেশিয়া মালাক্কা প্রণালী হয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর সরাসরি টোল… — Muslim Media — TG.ME

ইন্দোনেশিয়া মালাক্কা প্রণালী হয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর সরাসরি টোল বসানোর প্রস্তাব দিচ্ছে, যা ইরানের হরমুজ প্রণালীর মডেল অনুসরণ করে তৈরি। 'চোকপয়েন্ট সার্বভৌমত্ব' বা গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপর একচ্ছত্র আধিপত্যের এই তত্ত্ব এখন তেহরান হয়ে 'গ্লোবাল সাউথ'-এর কোর্টে। বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ৪০ শতাংশ মালাক্কা দিয়ে পরিবাহিত হয়। এর সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশটি মাত্র ১.৭ কিলোমিটার প্রশস্ত, যা হরমুজের তুলনায় ১০ গুণেরও বেশি সরু। কয়েক দশক ধরে এই ধারণা প্রচলিত ছিল, এই জলপথ অবাধ, স্বয়ংক্রিয় এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ। কিন্তু এই ধারণাটি ছিল মূলত hegemonic power বা একক আধিপত্যবাদী শক্তির প্রভাব, আন্তর্জাতিক আইনের নিরঙ্কুশ প্রতিফলন নয়। ভূগোল বদলায়নি৷ যা বদলেছে তা হলো 'দৃষ্টান্ত'। ইরান বিশ্বকে দেখিয়েছে, একটি উপকূলীয় রাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ব্যবহারের জন্য মাশুল আদায় করতে পারে৷ সেইসঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে এবং টিকেও থাকতে পারে। জাকার্তা এই মডেলটি পর্যবেক্ষণ করেছে। একই নজর ছিল সামুদ্রিক ধমনীর ওপর বসে থাকা অন্য প্রতিটি রাষ্ট্রেরও। জাকার্তার পক্ষ থেকে এই ফ্রেমওয়ার্ক বা কাঠামোটি অত্যন্ত স্পষ্ট। তাদের অর্থ মন্ত্রণালয় হরমুজকে মডেল হিসেবে উল্লেখ করছে। রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে নির্দেশ হলো, এখন আরও 'আক্রমণাত্মক' চিন্তা করতে হবে। এধেনের সিদ্ধান্তকে নীতিগত সংস্কার বলা যায় না৷ বরং এটি নীতিগত অবস্থান পরিবর্তনের সংকেত। সিঙ্গাপুর এই প্রস্তাবের উচ্চকণ্ঠ বিরোধী, কারণ তাদের হারানোর পাল্লা সবচেয়ে ভারী। সিঙ্গাপুরের পুরো অর্থনৈতিক মডেল দাঁড়িয়ে আছে এই প্রণালীর একটি নিরপেক্ষ ট্রানজিট এবং আর্থিক কেন্দ্র হওয়ার ওপর। একটি টোল ব্যবস্থা বা মাশুল প্রথা তাদের অস্তিত্বের মূল ভিত্তিকেই ধসিয়ে দেবে। মালয়েশিয়ার নীতি এখানে দোদুল্যমান। তারা একদিকে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার যৌথ ইশতেহারে স্বাক্ষর করেছে, অন্যদিকে তেহরানের সঙ্গে সরাসরি হরমুজ দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের বিষয়ে নিভৃতে আলোচনা চালাচ্ছে। বৃহত্তর প্রেক্ষাপট হলো, বিশ্বের সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর মার্কিন নিরাপত্তার যে গ্যারান্টি ছিল, তার অবক্ষয় ঘটছে। সপ্তম নৌবহর (7th Fleet) এখনও প্রণালীতে টহল দিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তিনটি উপকূলীয় রাষ্ট্র যখন সম্মিলিতভাবে কাজ করে, তখন তাদের বিরুদ্ধে গিয়ে 'অবাধ যাতায়াত' নিশ্চিত করার রাজনৈতিক মূল্য হয় অপরিসীম। মার্কিন প্রতিক্রিয়া ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। চলতি মাসে জাকার্তার সঙ্গে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তিটি কাকতালীয় ঘটনা নয়। লম্বক এবং সুন্দা প্রণালীর মতো বিকল্প পথগুলোতেও যাতে এই মাশুল আদায়ের যুক্তি ছড়িয়ে না পড়ে, তার আগেই ওয়াশিংটন ইন্দোনেশিয়াকে তাদের জোটবদ্ধ কাঠামোর মধ্যে আটকে ফেলতে চাইছে। এক সময় এই চোকপয়েন্টগুলোকে 'পাবলিক গুড' বা সর্বস্বার্থে উন্মুক্ত সম্পদ হিসেবে দেখা হতো। এখন সেগুলোকে 'সার্বভৌম সম্পদ' (sovereign assets) হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হচ্ছে। নিজস্ব প্রভাব খাটানোর সুযোগ আছে এমন প্রতিটি উপকূলীয় রাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত এর সীমা পরীক্ষা করে দেখবে। এবং এর মধ্য দিয়ে সামুদ্রিক শক্তির নতুন মূল্য নির্ধারণের যুগ শুরু হবে৷ হরমুজ কখনোই ব্যতিক্রম ছিল না; এটি ছিল সূচনা। মালাক্কা প্রস্তাব নিশ্চিত করল, কাঠামোটি আমাদের আগে থেকেই যা বলছিল তা-ই ঘটছে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা প্রথাগতভাবে 'অবাধ যাতায়াতের' যুগ শেষ হয়ে আসছে। #জিওপলিটিক্স #ওয়ার_অ্যানালাইসিস #আখিরুজ্জামান সাঈদ আবরার হাফিঃ

April 27, 2026 827 1