ভিয়েতনাম যুদ্ধ ৩০ লাখের দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করে কেউ বলবেন না যে… — Flash news for Genaration Z — TG.ME

ভিয়েতনাম যুদ্ধ ৩০ লাখের দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করে কেউ বলবেন না যে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ভিয়েতনামের মুক্তিসংগ্রামের চেয়ে বেশি রক্তক্ষয়ী ছিল। ভিয়েতনাম দু’দফা বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে মুক্তিসংগ্রাম পরিচালনা করেছে। ১৯৫৪ সালে ফরাসিরা ইন্দোচীন ছেড়ে যাওয়ার পর আমেরিকা দক্ষিণ ভিয়েতনামের সামরিক নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। ভিয়েতনামে আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ ১৯৫৫ সালের পহেলা নভেম্বর থেকে ১৯৭৫ সালের ৩০ এপ্রিল সায়গনের পতন পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এ যুদ্ধ ‘দ্বিতীয় ইন্দোচীন যুদ্ধ’ নামে পরিচিত। এ সময় সরকারিভাবে উত্তর ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ ভিয়েতনামের মধ্যে লড়াই হয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন এবং অন্যান্য কমিউনিস্ট দেশ উত্তর ভিয়েতনামকে সমর্থন দেয়। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড এবং অন্যান্য কমিউনিস্টবিরোধী দেশ দক্ষিণ ভিয়েতনামকে সমর্থন দেয়। ১৯৬৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যক্ষভাবে ভিয়েতনাম যুদ্ধেজড়িত হয় এবং ১৯ বছর যুদ্ধ অব্যাহত থাকে। যুক্তরাষ্ট্র ভিয়েতনাম যুদ্ধে নিষিদ্ধ নাপাম বোমা ব্যবহার করেছে এবং দৈত্যাকৃতির বোমারু বিমান বি—৫২ মোতায়েন করে। ভিয়েতনাম যুদ্ধে হতাহতের সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন। যুদ্ধে বেসামরিক দক্ষিণ ভিয়েতনামী নিহত হয় এক লাখ ৯৫ হাজার থেকে ৪ লাখ ৩০ হাজার। বেসামরিক উত্তর ভিয়েতনামী নিহত হয় ৫০ হাজার থেকে সাড়ে ৬ লাখ। ১৯৬০ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ ভিয়েতনামী সৈন্য নিহত হয় আনুমানিক ২ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ জন। আমেরিকার প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, ১৯৬৫ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত ভিয়েতনামে ৯ লাখ ৫০ হাজার ৭৬৫ জন কমিউনিস্ট সৈন্য নিহত হয়। আমেরিকান সৈন্য নিহত হয় ৫৮ হাজার ২২০ জন এবং আহত হয় ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৪৪ জন। দীর্ঘস্থায়ী ভিয়েতনাম যুদ্ধে মোট নিহতের সংখ্যা ১২ লাখ ৫২ হাজার ৯৭৭ জন। ৩০ বছর স্থায়ী ভিয়েতনাম যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা সাড়ে ১২ লাখ হলে বাংলাদেশের ৯ মাসের মুক্তিযুুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ৩০ লাখ হয় কিভাবে? আলজেরিয়ায় ১০ বছরের দীর্ঘ মুক্তিসংগ্রামে নিহতের সংখ্যা ১০ লাখ। আমাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ সংখ্যা ১০ লাখ না হয়ে ১০ কোটি হওয়া উচিত ছিল। হামুদুর রহমান কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে ২৬ হাজার লোক নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে শুধু বাঙালি নয়, পাকিস্তানি, বিহারী ও অনুগত বাঙালিও রয়েছে। এ ব্যাপারে ১৯৭১ সালের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী পাকিস্তানি মেজর জেনারেল হাকিম আরশাদ কোরেশীর একটি ভাষ্য উল্লেখযোগ্য। ১৯৭১ সালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল কোরেশী ২৬ এফএফের (ফ্রন্টিয়ার ফোর্স) কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি তার অভিজ্ঞতা নিয়ে ‘দ্য নাইনটিন হান্ড্রেড সেভেনটি ওয়ান: ইন্দো—পাক ওয়ার’ শিরোনামে একটি বই লিখেছেন। এ বইয়ে তিনি বাংলাদেশে পাকিস্তানি সৈন্যদের গণহত্যার অভিযোগ খণ্ডন করে লিখেছেন: Can 60 thousand soldiers kill three million people, supported by 100,000 armed personnel and innumberable agents from across the border? Unlikely, unless the majority decide to line up with their hands over their heads and allow themselves to be shot. But human beings sense danger and do their best to get out of harm’s any way as they did with alacrity, whenever we moved in. In order to kill three million the Pakistan army would have had to kill 11,494 persons a day non-stop from 26 March onwards.If on the other hand, they were to kill one million people, their daily killing would come to 3,831. Seen in another way, for 60,000 Pakistan army to kill three million and rape three thousand women, each and every one of them had to kill 50 persons and rape 5 women. অর্থাৎ ৬০ হাজার সৈন্য কি ৩০ লাখ লোককে হত্যা করতে পারে যাদের পেছনে ছিল এক লাখ সশস্ত্র লোকের সমর্থন এবং সীমান্তের ওপার থেকে আগত অগণিত এজেন্ট? সংখ্যাগরিষ্ঠ লোক যদি সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাদের হাত মাথার উপরে তুলে গুলি করার সুযোগ দানের সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে সম্ভব। কিন্তু মানুষ বিপদ অঁাচ করতে পারে এবং বিপদ থেকে পালিয়ে যেতে সর্বোত্তম চেষ্টা করে। আমরা অগ্রসর হওয়া মাত্র রুদ্ধশ্বাসে তারা পালিয়ে গেছে। ৩০ লাখ লোককে হত্যা করতে হলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে ২৬ মার্চ থেকে পরবতীর্ দিনগুলোতে বিরতিহীনভাবে প্রতিদিন ১১ হাজার ৪৯৪ জনকে হত্যা করতে হতো। অন্যদিকে ১০ লাখ লোক হত্যা করতে হলে তাদেরকে দৈনিক ৩ হাজার ৮

February 24, 2026 49