বলতে হবে সাড়ে সাত কোটি মানুষের মধ্যে চার শতাংশ মানুষকে হত্যা করা… — Flash news for Genaration Z — TG.ME

বলতে হবে সাড়ে সাত কোটি মানুষের মধ্যে চার শতাংশ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। অর্থাৎ ৬০ হাজার পরিবারে কেউ না কেউ মৃত্যুবরণ করেছে। ৩০ লাখকে মেনে নিলে আমাদেরকে মেনে নিতে হবে ২৬৭ দিনের মুক্তিযুদ্ধে প্রতিদিন এগারো হাজার এক শো এগারো জনকে হত্যা করা হয়েছে। এত লোক মৃত্যুবরণ করলো। কিন্তু তাদের কবর কোথায়? অবাঙালিদের গণকবরকে বাঙালি হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ হিসেবে দাবি করা হয়। ১৯৭১ সালে ৪৮০টি ছিল থানা। ৩০ লাখের উপাখ্যান সঠিক হলে প্রতি থানায় নিহত হওয়ার কথা সাড়ে ৬ হাজার। এ হিসাবে প্রতিটি থানায় প্রতিদিন ২৪ জনকে হত্যা করা হয়েছে। একই হিসাবে প্রতিদিন প্রতি ইউনিয়নে ৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাবে যে, ৬ বছরে নাৎসি জার্মানি ৬ মিলিয়ন ইহুদিকে হত্যা করেছিল। এ হিসাবে প্রতিদিন ২ হাজার ৭৪০ জন নিহত হয়েছিল। ইহুদি নিধনের সংখ্যা ১৯৭১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে প্রতিদিন নিহত বাঙালিদের সংখ্যার চেয়ে কম। বৈজ্ঞানিক জরিপ ছাড়াই পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার ৩ মিলিয়নকে তাদের রাজনৈতিক সুবিধার জন্য অভ্রান্ত সত্যি হিসেবে গ্রহণ করেছিল। যত প্রতিকূলতাই থাকুক না কেন, ইতিহাসকে জিম্মি করা যাবে না। একটি সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য এবং নির্ভুল জরিপ চালানো হলে সংখ্যাটি কম বেশি যাই হোক, একটি চূড়ান্ত মীমাংসায় পেঁৗছানো সম্ভব। পূর্ণাঙ্গ গণনা করা না হলে রাজনীতিবিদ, ইতিহাসবিদ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মসহ সব বাংলাদেশি প্রশ্ন উত্থাপন করতে থাকবে এবং ৩ মিলিয়নকে চ্যালেঞ্জ করবে। ২০১৭ সালে প্রখ্যাত পাকিস্তানি শিক্ষাবিদ ও ইতিহাসবিদ ড. জুনাইদ আহমেদ ‘১৯৭১ সালে ত্রিশ লাখ শহীদ এবং ২ লাখ নারী ধর্ষণের মিথ’ শিরোনামে এক নিবন্ধে বলেছেন, ১৯৭৪ সালের এপ্রিলে পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির পর শহীদের সংখ্যা ৩ মিলিয়ন এবং ২ লাখ বাঙালি নারীকে ধর্ষণের উপযুর্পরি দাবি বন্ধ হয়ে যায়। জেনারেল জিয়া, জেনারেল হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ এবং পরে খালেদা জিয়ার শাসনামলে বাংলাদেশ সরকার পাকিস্তানের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখতো। গাণিতিকি হিসাবেও তিন মিলিয়নকে শুদ্ধ প্রমাণ করা সম্ভব নয়। পূর্ব পাকিস্তানে ২৬ মার্চ থেকে সামরিক অভিযান শুরু হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর শেষ হয়। হাসিনা সরকার ভারতকে তুষ্ট এবং ভোটারদের সমর্থন আদায়ে ৩ মিলিয়ন শহীদের অতিরঞ্জিত মিথ্যাকে ব্যবহার করেছে। ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ইসলামাবাদে কায়েদে আজম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ক্রিয়েশন অব বাংলাদেশ: মিথস এক্সপ্লোডেড’ শিরোনামে বইয়ের লেখক ইতিহাসবিদ ড. জুনাইদ আহমেদ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আরো বলেন, সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসার পর শেখ মুজিব ১৯৭২ সালের ২৯ জানুয়ারি নিহতের সঠিক সংখ্যা নিরূপণে ১২—সদস্যের একটি কমিশন গঠনের নির্দেশ দেন। এ কমিশন প্রায় দুই বছর অনুসন্ধানের পর ৫৮ হাজার থেকে ৬৫ জনের কাছাকাছি একটি সংখ্যা প্রকাশ করে। অজানা ও রহস্যজনক কারণে কমিশনের কাজ পরবতীর্তে আর অগ্রসর হয়নি। ১৯৭২—৭৩ সালের দিকে শেখ মুজিব বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটির সেক্রেটারিকে (গাজী গোলাম মোস্তফা ছিলেন চেয়ারম্যান) ১৯৭১ সালে নিহতের সংখ্যা নিরূপণের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। প্রায় ৯ মাস গবেষণার পর তারা প্রায় ৬০ হাজার লোকের মৃত্যুর তালিকা করতে সক্ষম হয়। মুজিব তখন তাদের গণনা বন্ধ এবং কাগজপত্র ধ্বংস করতে বলেছিলেন এবং তারা সেই অনুযায়ী কাজ করেন। তারপর থেকে আর কোনো জরিপ করা হয়নি। এ মতবিনিময়ে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ অপারেশন সার্চলাইটে অংশগ্রহণকারী পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার তাজ বলেন, নিহতের সংখ্যা ৩০ হাজারের বেশি হতে পারে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫ হাজার ছাত্র নিহত হওয়ার পরিসংখ্যান পুরোপুরি মিথ্যা। পাকিস্তান বিদ্বেষী ভারতীয় এবং বাংলাদেশিরা এ গুজব রটিয়েছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজার হাজার ছাত্র অবস্থান করে কিভাবে? যারা অবস্থান করছিল তারা ছিল সশস্ত্র মুক্তিবাহিনীর লোক। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সিনিয়র গবেষণা সহযোগী ড. শর্মিলা বসু দাবি করেছেন যে, যুদ্ধের সময় উভয় পক্ষের সৈন্য এবং বেসামরিক লোকসহ নিহতের মোট সংখ্যা সংখ্যা ছিল ৫০ হাজার থেকে এক লাখের মধ্যে। ৩০ লাখ বাঙালির প্রাণ দেয়ার যে কথা আওয়ামী লীগাররা প্রচার করেন, সেই সংখ্যাটি কাল্পনিক। এতে কোনো সন্দেহ নেই। কাল্পনিক না বলে আমি বরং বলবো, এ ৩০ লাখের কথাটি তারা পেয়েছেন ছেঁায়াচে রোগের মতো। এজন্য তাদের কোনো মেহনত করতে হয়নি। একজন থেকে কয়েকজন, কয়েকজন থেকে বহুজন, অতঃপর কোটি কোটি জনে ছড়িয়ে পড়েছে। যারা ৩০ লাখ, ৩০ লাখ বলে চিৎকার করেন, তাদের যেকোনো একজনের কাছে অথবা সকলের কাছে চ্যালেঞ্জ দিয়ে প্রশ্ন করছি যে, এ সংখ্যাটি ভুল। আপনারা কখন এবং কিসের ভিত্তিতে হিসাব কষে এ সংখাটি নিরূপণ করেছেন তা কি বলতে পারবেন? আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি যে, তারা

February 24, 2026 27