পুরনো উপাখ্যানকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। ৯ মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধে শহীদের… — Flash news for Genaration Z — TG.ME

পুরনো উপাখ্যানকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। ৯ মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নথিভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডা. মরহুম জাফরুল্লাহ চৌধুরীর একটি উক্তি উল্লেখ করা যায়। তিনি বলেছিলেন যে, জাতির এই বেহাল অবস্থার জন্য অনুভূতিহীন স্তাবক ও দালালরা কম দায়ী নয়। প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা ডা. চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা ৩ মিলিয়ন দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। দৈনিক নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবির, নিউ এজের বিশেষ প্রতিবেদক ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান, অধ্যাপক ড. তাজ হাশমী, নিউইয়র্কভিত্তিক লেখক এবং সোশ্যাল মিডিয়া কমীর্ ডা. মিনা ফারাহ এবং বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী, নীলুফার চৌধুরী মনি এবং ফাহিমা নাসরিন মুন্নি প্রমুখ এ সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ম্যাসাকার: দ্য ট্র্যাজেডি অব বাংলাদেশের লেখক রবার্ট পেইনের একটি রিপোর্ট থেকে তিন মিলিয়নের উপ্যাখানের জন্ম হয়েছে। তিনি দাবি করেন যে, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান গণহত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে লন্ডনে আসার পর বিবিসির সাংবাদিক সিরাজুর রহমান প্রথম শেখ মুজিবুর রহমানের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। তাকে হিথ্রো বিমান বন্দর থেকে ক্লারিজ হোটেলে নিয়ে এসেছিলেন লন্ডনে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার আপা ভাই পান্থ। পরপরই বিবিসির বাংলা বিভাগের উপপ্রধান সিরাজুর রহমান সেখানে উপস্থিত হন। মিস্টার পান্থ ‘ইওর এক্সিলেন্সি’ বলে সম্বোধন করায় মুজিব অবাক হচ্ছিলেন। সিরাজুর রহমান তাকে বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে গেছে এবং তার অনুপস্থিতিতে তাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হয়েছে। একথা শুনে মুজিব বিস্মিত এমনকি স্তম্ভিত হয়েছিলেন। স্পষ্টত তিনি এমন ধারণা নিয়েই লন্ডনে এসেছিলেন যে, পূর্ব পাকিস্তানিদের হয়তো পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন দেয়া হয়েছে।২০১১ সালের ২৩ মে লন্ডনের গার্ডিয়ান পত্রিকার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে সিরাজুর রহমান বলেন: I explained that no accurate figure of the casualties was available but our estimate, based on information from various sources, was that up to "three lakh" (3,00000) died in the conflict. To my surprise and horror he told David Frost later that "three millions of my people" were killed by the Pakistanis. Whether he mistranslated "lakh" as "million" or his confused state of mind was responsible I don't know, but many Bangladeshis still believe a figure of three million is unrealistic and incredible. অথার্ৎ আমি তার কাছে ব্যাখ্যা দেই যে, হতাহতের নিভুর্ল সংখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। কিন্তু বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের অনুমান, যুদ্ধে তিন লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আমাকে বিস্মিত করে দিয়ে পরবর্তীতে ডেভিড ফ্রস্টকে তিনি বলেছিলেন, পাকিস্তানিরা ‘আমার তিন মিলিয়ন মানুষকে’ হত্যা করেছে। তিনি ‘লাখকে’ ‘মিলিয়নের’ সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছিলেন নাকি চিত্তবিভ্রমের জন্য এ সংখ্যা উল্লেখ করেছিলেনআমি তা নিশ্চিত নই। বহু বাংলাদেশি এখনো বিশ্বাস করে, তিন মিলিয়ন সংখ্যাটি অবাস্তব এবং অবিশ্বাস্য। বিবিসির সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্টের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে মুজিব বেশ কয়েকজন বিশ্ব নেতার প্রশংসা করেন। তাদের মধ্যে আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন, জন এফ কেনেডি, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইন্সটন চার্চিল, সোভিয়েত নেতা ভস্নাদিমির লেনিন ও জোসেফ স্টালিন, চীনের চেয়ারম্যান মাও সে তুং, ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধী, প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, একে ফজলুল হক, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট ড. আহমদ সুকর্নো। কিন্তু তিনি পাকিস্তানের জাতির পিতা কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর নাম মুখে আনেননি। অন্যদিকে, মাইকেল এইচ হার্ট ইতিহাসের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তিত্বের তালিকায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে ঠাঁই দিয়েছেন এবং র‌্যাংকিংয়ে জিন্নাহ হলেন গান্ধী ও নেহরুর উপরে। ৩ মিলিয়নের উপাখ্যান প্রথম প্রচার করেছিল সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র ‘প্রাভদা’ এবং পরে শেখ মুজিব। বাংলাদেশ সৃষ্টির পর মুজিব যখন ঢাকায় অবতরণ করেন তখন তিনি তাজউদ্দিন আহমদকে জিজ্ঞেস করেন মুক্তিযুদ্ধে কতজন নিহত হয়েছেন। তাজউদ্দিন আহমদ উত্তর দেন, তিন লাখ। কিন্তু শেখ মুজিব ডেভিড ফ্রস্টের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে, ত্রিশ লাখ মানুষ নিহত হয়েছে। গণহত্যার অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ একটি কমিশন গঠন করে। কিন্তু এ কমিশন গণহত্যার কোনো প্রমাণ পাওয়া পায়নি। পূর্ব পাকিস্তানে একটি গণকবরও পাওয়া যায়নি। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের লোকসংখ্যা ছিল সাড়ে ৭ কোটি। এখন যদি গড়ে প্রত্যেক পরিবারে পাঁচ জন করে সদস্য থাকে তাহলে ১৯৭১ সালে মোট পরিবারের সংখ্যা ছিল গড়ে দেড় কোটি। ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা মেনে নিলে

February 24, 2026 18