৩০ লাখ শহীদের তালিকা কোথায়? সাহাদত হোসেন খান এমন কোনো যুদ্ধ খঁুজে পাওয়া যাবে না যেখানে হত্যাযজ্ঞ ও নারী নির্যাতন ঘটেনি। যুদ্ধে উভয়পক্ষ হত্যাযজ্ঞ চালায়। একপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বেশি। আরেক পক্ষের ক্ষতি হয় কম। পার্থক্য শুধু এতটুকুই। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বাংলাদেশে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। তবে শুরুতেই নিহতের সংখ্যা ৩০ লাখ নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। সংখ্যাটি একেবারে অসম্ভব। ৬৭৫৭ শহীদ পরিবার সরকারি ভাতা পাচ্ছে। তাদের মধ্যে আবার ১৩৯৯ পরিবার ভাতা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে কার্যত ৫৩৫৮ পরিবার ভাতা নিচ্ছে। যদি সত্যিই ৩০ লাখ লোক শহীদ হয়ে থাকে তাহলে বাকি ২৯ লাখ ৯৩ হাজারেরও বেশি শহীদ পরিবারের কোনো খোঁজ নেই কেন? শহীদদের তালিকা করা না হলেও রাজাকারের তালিকা করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৯ সালের ২৫ ডিসেম্বর প্রথম ধাপে ১০ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকারের একটি তালিকা প্রকাশ করে। এ তালিকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রাজাকার ছিল ৮০৬০, পরবর্তীতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রাজাকার ছিল ১০২৪ এবং জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রাজাকার ছিল মাত্র ৩৭ জন। আওয়ামী লীগ কখনো আশা করেনি যে, রাজাকারের তালিকায় তাদের দলের লোকের পাল্লা ভারি হবে। তখন তড়িঘড়ি করে এ তালিকা চাপা দেয়া হয়। শহীদদের সংখ্যা নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা হচ্ছে। অব্যক্ত মনোভাব যাচাই করলে বুঝা যায় যে, শহীদদের তালিকা করা হলে প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশ পাবে এবং ৩০ লাখের মিথ মিথ্যা প্রমাণিত হবে। তাই আজ পর্যন্ত কোনো সরকার শহীদদের তালিকা করার গরজ দেখায়নি। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা ৩০ লাখ বা তিন মিলিয়ন আক্ষরিক অর্থে সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য। শেখ মুজিবুর রহমানের মুখ ফসকে বের হয়ে যাওয়া তিন মিলিয়নকে বেদবাক্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি কিভাবে এবং কোন পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে এ সংখ্যা প্রকাশ করেছেন তা উল্লেখ করেননি। ক্ষমতার দাপটে তিনি এ উদ্ভট দাবি করেছেন এবং জাতি দশকের পর দশক এ অলীক সংখ্যা মুখ বুজে মেনে নিয়েছে। এ সংখ্যা নিয়ে তর্ক করা যাবে না, গবেষণা করা যাবে না, প্রশ্ন তোলা যাবে না। প্রশ্ন তোলা অথবা সন্দেহ প্রকাশ করা হলে হয়তো আইনি ঝামেলায় পড়তে হয় নয়তো দেশপ্রেম নিয়ে কটাক্ষ করা হয়। বিদ্রুপ করা হয়। এ প্রজন্মের যেকোনো গবেষক অবশ্যই এ প্রশ্ন উত্থাপন করবেন যে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে ৩০ লাখ লোককে হত্যা করে থাকলে বেলুচিস্তান, সোয়াত অথবা করাচিতে সামরিক অভিযানে গণহত্যা চালায়নি কেন? একই দেশের সেনাবাহিনী দুরকম আচরণ করতে পারে না। পাকিস্তান সেনাবাহিনী ৯ মাসে বাংলাদেশে ৩০ লাখ লোক হত্যা করে থাকলে উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ এবং বেলুচিস্তান তো অনেক আগেই জনশূন্য হয়ে যাওয়ার কথা। ২০০১ সালে সোয়াত উপত্যকা এবং উত্তর ওয়াজিরিস্তানে রীতিমতো যুদ্ধ চলছে। সেখানে সন্ত্রাসী ছাড়া সাধারণ মানুষ হত্যার কোনো নজির নেই। ৩০ লাখের কল্পকথা নিয়ে আলোচনা করলে সদুত্তর পাওয়া যায় না। আমরা বিশ্বাস করছি যে, একাত্তরে পাকিস্তানি সৈন্যরা ৩০ লাখ বাঙালিকে হত্যা করেছে এবং ২ লাখ মা বোনের ইজ্জত নষ্ট করেছে। একাত্তরে পশ্চিম পাকিস্তানে চার লাখ বেসামরিক বাঙালি এবং ২৮ হাজার বাঙালি সৈন্য অবস্থান করছিল। এখন প্রশ্ন হলো, পাকিস্তানি সৈন্যরা পূর্বাঞ্চলে ৩০ লাখ লোক মেরে ফেললেও হাতের মুঠোর ভেতরে একজন বাঙালিকেও হত্যা না করার কারণ কি। রহস্যের একটি বাতাবরণে সত্য চাপা পড়ে আছে। আমাদেরকে সত্য উদ্ঘাটন করতে হবে। শেখ মুজিব ৩ লাখ বলতে গিয়ে ভুলে শহীদের সংখ্যা ৩০ লাখ বলেছেন। এই একটি উক্তি গোটা মুসলিম ইতিহাসকে বিপজ্জনক অবস্থায় নিক্ষেপ করেছে। মুসলিম বিদ্বেষীরা পাকিস্তানিদের প্রতি ঘৃণা ছড়িয়ে দিতে গিয়ে মুসলিম সভ্যতাকে কলঙ্কিত করেছে। পৃথিবীতে হাজার হাজার যুদ্ধ হয়েছে। তবে মাত্র ৯ মাসে ৩০ লাখ লোকের মৃত্যুর পরিসংখ্যান ইতিহাসে কোথাও খঁুজে পাওয়া যাবে না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ৬০ লাখ ইহুদি নিধন বা হলোকাস্ট সংঘটিত হয়েছে। তবে ৬০ লাখ ইহুদির মৃত্যু হয়েছে ৬ বছরে। আমরা প্রমাণ ছাড়া দাবি করছি, পশ্চিম পাকিস্তানি সৈন্যরা ৩০ লাখ বাঙালি মুসলমানকে হত্যা করেছে। ইসলামের দুশমনদের জন্য তার চেয়ে বড় সাফল্য আর কিছু হতে পারে না। মুসলমান হয়ে আমরা স্বাধীনতার জন্য আমাদের মুসলিম ভাইয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। তারপরও আমরা মুসলমান হিসেবে গর্ব করি। আমাদের কি গর্ব করার নৈতিক অধিকার আছে? স্বাধীনতার ৫৩ বছর পর ২০২৪ সালে জাতীয় স্বার্থে শহীদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ এবং তাদের নিভুর্ল সংখ্যা বের করা খুবই জরুরি। একটি জাতি ঐতিহাসিক এবং পরিকল্পিত মিথ্যাচারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক বলেছিলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লাখ (৩ মিলিয়ন) শহীদের মধ্যে মাত্র ৫ হাজার ৭৯৫ জনকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এ উক্তির মধ্য দিয়ে মন্ত্রী একটি
৩০ লাখ শহীদের তালিকা কোথায়? সাহাদত হোসেন খান এমন কোনো যুদ্ধ খঁুজে… — Flash news for Genaration Z — TG.ME
February 24, 2026 18