যতটুকু মনে পড়ে, ছোটবেলা থেকে দেখতাম মাহফিলের একটা সিজন ছিল শীতকালে। প্রতিনিয়ত কোথাও না কোথাও মাহফিল হতো, যেখানে থাকতো না কোন হেলিকপ্টার হুজুর কিংবা পেটপুজারী। ২০১৪-১৫ এর দিকে হেলিকপ্টার হুজুর তৈরি হয়৷ আর ২০১৬-১৭ এর দিকে শায়েখ আহমাদুল্লাহ, মিজানুর রহমান আজহারী নজরে আসেন।
এটা ছিল পটভূমি। মুল গল্প শুরু এখান থেকেই। এতদিন মাহফীলে কোন বাধা ছিল না, জীবনে কোনদিন দেখিনি। কিছু অসাধু (কুয়াকাটা হুজুর বা মামুনুল বাকিটা বুঝে নেন) ধর্মব্যবসায়ীরা যখন মাহফিলের মঞ্চ ব্যবহার করে মিজানুর রহমান আজহারী কে ওরে বাটপার কিংবা শায়েখ আহমাদুল্লাহ কে আহলে হাদীসদের দালাল বলা শুরু করল, এবং এক বছর অন্য হুজুরের বিরোধিতা শুরু করল নিজের ব্যবসার স্বার্থে, একজন অন্যজনের মাহফিলে বাধা দিল। তখন সরকার সুযোগ পেল, এক হুজুরের সাহায্য নিয়ে অন্য হুজুরকে গ্রেফতার করলো। এভাবে বাংলাদেশের যত পরিচিত /গুন্যমান্য বক্তা ছিলেন সবাইকে জেলে যেতে হলো । শুরুটা কিন্তু তাদের কামড়া কামড়ি দিয়ে হয়েছে।
এবার আসি তাবলীগের ব্যাপারে, তাবলীগ এ ভাগাভাগী হয়েছে ২০১৬ সালে, অনেকটা বলা যায় ক্ষমতার কারণে। কিছু মানুষ তাবলীগ ছেড়ে নিজেদের মতো তাবলীগ শুরু করে, তবে কেউ কারো নামে দুর্নাম দেয়নি। ২০১৮ তে যখন কওমি সনদ দেওয়া হলো এবং শেখ হাসিনাকে কওমি জননী উপাধি দেওয়া হলো, তখন অরাজনৈতিক হেফাজতে ইসলাম রাজনিতিতে নামতে চাইল, যদিও কিছু নেতার (আহমদ শফী সাহেব) বিরোধিতা ছিল। যতটুকু আমি জানি, আসন পেতে হলে লোক লাগত, এত লোক তো আর ছাত্র দিয়ে হবে না। ছাত্রদের তো আইডি কার্ড নেই, তাই তারা বেছে নিল তাবলীগের এক পক্ষ, এরপর তারা শুরু করল অন্য পক্ষের নামে মিথ্যাচার এবং রাজনীতি (যেহেতু দুইটা ঘটনা একই সময়ে ঘটেছে এবং ৭৫% ঘটনা সত্য, তাই বাকি ২৫% ব্যক্তিগত ধারণা থেকে বললাম)
এবার আসি মামুনুল হক প্রসঙ্গে, উনাকে ৫০১ নম্বর রিসোর্ট এর মামলায় নারী কেলেংকারীতে জেলে নেওয়া হয়েছিল, যদিও পরে দাবী করা হয়েছে ওটা ওনার স্ত্রী ছিল। আমি ঘটনার সত্যতা জানিনা, আল্লাহই ভালো জানেন। তবে ওনার জীবনে যখন প্রথম চাকরি করা শুরু করেন (সম্ভবত হবিগঞ্জের কোন একটা মাদ্রাসায়) তখন ছেলেদের সাথে খারাপ কাজ করার অভিযোগে ওনাকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া হয় (আসলে উনি খারাপ কাজ করেছেন কিনা সেটা আমি জানি না, তবে বের করে দেওয়া হয়েছিল এটার সত্য কথা)
যাইহোক এই নামের কেন আলোচনা?
কারন কিছুদিন আগে যখন সাদপন্থি সাথিরা বারবার বলতেছিল একসাথে বসে মীমাংসা করি, বাংলাদেশের সকল মিডিয়া এবং যারা খোঁজখবর রাখেন তারা সাক্ষী, ৪২ বারেরও বেশি চিঠি দেওয়া হয়েছে তাদের কাছে। কিন্তু তারা তো বসবেনই না, তারা স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে "তুরাগ নদী রক্তে লাল করে দেবে" এছাড়া সবাই জানেন, ৫৭ বার সাংবাদিকরা তাদের সংবাদ সম্মেলনে আক্রমণের শিকার হয়েছে। তাদের বিপক্ষে প্রশ্ন করলেই তারা আক্রমণ করে। এছাড়া টঙ্গীর ময়দানে আমিও ছিলাম, বাস্তবতা আমি দেখেছি। যাদের ভাষায় প্রকাশ পায় যে তারা হত্যা করবে, তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ না করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলে যে মামুনুল ভাই যা করবেন তাই হবে। তাহলে এই জাহেল উপদেষ্টা কেন হলো? মামুনুলকেই উপদেষ্টা বানানো হতো।
যাইহোক, এই মিথ্যা মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, ৩ জনি আলেম। যদি তারা মনে করে থাকে এতে তাদের ভালো হচ্ছে, তারা অত্যন্ত বোকা এবং অন্ধ। আরে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসন যেখানে ভেঙে গেল, নম্রুদ আর ফেরাউনের শক্তিশালী সাম্রাজ্য যখন ভেঙে গেল, তখন তাদের দল ভাঙতে কত সময়?
তাদের দ্বারা বাংলাদেশের সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি আহমেদ শফী অপমান করে, এত অপমান করা যার ফলে ওনার মৃত্যু হয়। অথচ উনার মত ব্যক্তির এমন মৃত্যু কেউ কল্পনাও করেনি, এখন হেফাজত তিন ভাগ। মামুনুলের মাদ্রাসা নিয়ে দখল পালটা দখল চলছে।
একদিন না একদিন সত্য সবার সামনে উন্মোচন হবে । আর তারা আলেমদের গ্রেফতার করে মুলত আবার আগের মত আলেম গ্রেফতার এর সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে, আখেরাতে তো বিচার হবেই। তবে দুনিয়াতেও তারা তাদের এসব কাজের সুফল ভোগ করবে
আল্লাহ ন্যায়বিচারক
বিচারের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট