কাবুলে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, নবপ্রণীত এই আইনটি নিছক কোনো আরোপিত বা খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত নয়। বরং আফ/গানিস্তানের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতার নিরিখে অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবে এটি প্রণীত হয়েছে। একটি নিরাপদ রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সব ধরনের অপরাধের মূলোৎপাটন করার জন্য প্রয়োজনীয় ও কার্যকর যাবতীয় বিধান এই আইনে নিপুণভাবে সন্নিবেশিত করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সমাজজীবন থেকে নৈরাজ্যের কালোছায়া দূর করার এক ইতিবাচক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলো।
বিশ্বজুড়ে প্রচলিত গণতন্ত্র ও প্রজাতন্ত্রভিত্তিক সমাজব্যবস্থায় নাগরিক অধিকার আদায়ের নামে রাজপথের যে বিক্ষোভ-সংস্কৃতি প্রচলিত রয়েছে, তা মূলত এক চরম অসাড়তা ও প্রহসন। তথাকথিত সুশীলরা এই ব্যবস্থার গুণগান গাইলেও বাস্তবে এসব বিক্ষোভ প্রায়শই সহিংসতায় রূপ নেয়। এর অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হিসেবে অগণিত সাধারণ মানুষের অমূল্য প্রাণ ঝরে যায় এবং রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। পক্ষান্তরে, কোনো নাগরিক যদি কোনো বিষয়ে যৌক্তিক আপত্তি বা অভিযোগ জানাতে চান, তবে ইসলামী ইমারাত তার জন্য এক সম্মানজনক ও শান্তিপূর্ণ পথ উন্মুক্ত রেখেছে। এখন থেকে যেকোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি জনদুর্ভোগ বা ভাঙচুর সৃষ্টি না করে, অত্যন্ত শালীন ও প্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেদের অভিযোগ ও দাবিগুলো অনায়াসে তুলে ধরতে পারবেন।
রাজপথ অবরোধ ও জনজীবন স্থবির করে দেওয়ার এই বিধ্বংসী সংস্কৃতির ওপর যৌক্তিক বিধিনিষেধ আরোপের ফলে সমাজে বিশৃঙ্খলা, জানমালের অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষয়ক্ষতি এবং জাতীয় সময়ের যে বিপুল অপচয় হতো, তা সম্পূর্ণরূপে রোধ করা সম্ভব হবে বলে মুজাহিদ হাফিযাহুল্লাহ অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন। শরয়ি এই আইনের বাস্তবিক ও সর্বজনীন সুফল হলো, এটি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে যেমন নিষ্কণ্টক করবে, তেমনি রাষ্ট্রের অর্থনীতিকেও অনর্থক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করবে। তিনি নতুন এই পুলিশ আইনটিকে আফগানিস্তানের বর্তমান নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার চাহিদার সঙ্গে একটি নিখুঁত, যুগোপযোগী ও সামঞ্জস্যপূর্ণ রক্ষাকবচ হিসেবে অভিহিত করেন।
গত ২২ আগস্ট ইমা/রাতে ইসলামিয়ার বিচার মন্ত্রণালয় জনকল্যাণমুখী এই নতুন পুলিশ আইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে। আমীরুল মু’মিনীন শাইখুল হাদিস হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা হাফিযাহুল্লাহর চূড়ান্ত অনুমোদনের পরপরই আইনটি সমগ্র দেশজুড়ে কার্যকর করা হয়। মোট ৫৩টি সুনির্দিষ্ট ধারা নিয়ে গঠিত এই ঐতিহাসিক আইনের ৫০ নম্বর ধারায় আফ/গানিস্তানের সীমানায় সব ধরনের বিক্ষোভ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি, পুলিশ বাহিনীর দায়িত্ব, কর্তব্য ও ক্ষমতাসংক্রান্ত নানাবিধ প্রয়োজনীয় বিধানও এই আইনে সুচারুরূপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শরিয়তের আলোকে আরও সুশৃঙ্খল, মানবিক ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।
নিজের বক্তব্যের মাধ্যমে জাবি/হুল্লাহ মুজা/হিদ হাফিযাহুল্লাহ ইমা/রাতে ইসলামিয়ার রাষ্ট্রীয় দর্শন ও সুদৃঢ় অবস্থানকে অত্যন্ত প্রাঞ্জলভাবে জাতির সামনে তুলে ধরেছেন। ইমা/রাতে ইসলামিয়া বিশ্বাস করে, জনশৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতাকে হুমকিতে ফেলে এমন ধ্বংসাত্মক বিক্ষোভের পরিবর্তে, জনগণের যাবতীয় অভিযোগ ও দাবিগুলো অত্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক, সম্মানজনক ও দায়িত্বশীল উপায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানোর একটি নিরাপদ মাধ্যম থাকা বাঞ্ছনীয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্তঃসারশূন্য স্লোগান আর ধ্বংসাত্মক রাজনীতির বিপরীতে, দেশ পরিচালনা ও জনজীবনের সার্বিক শৃঙ্খলা নির্ধারিত হবে কেবলই নিখাদ ইসলামী আইন এবং আফ/গানিস্তানের নিজস্ব মাটি ও মানুষের বাস্তবতার ভিত্তিতে। জনগণের যেকোনো অভিযোগ বা ক্ষোভ নিষ্পত্তির পথটিও পরিচালিত হবে এই সুনির্ধারিত শরয়ি কাঠামোর অভ্যন্তরেই। বস্তুত, নতুন এই আইনকে গণতান্ত্রিক সুশীলরা কেবল বিক্ষোভ নিষিদ্ধের একটি শুষ্ক বিধান হিসেবে প্রমাণের অপচেষ্টা করলেও, প্রকৃতপক্ষে এটি আফগানিস্তানের আপামর জনতার নিরাপত্তা, সামাজিক শৃঙ্খলা এবং অপরাধ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে একটি সুদৃঢ় আইনি কাঠামোর আওতায় এনে রাষ্ট্রকে আরও সুসংহত ও নিরাপদ করার এক সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
5
1September 6, 2026 187