আমার জন্মের আগে বেশ কিছু কমপ্লিকেশন হয়েছিল।
ডাক্তারের অপিনিয়ন ছিল, বাচ্চা বাঁচবেনা। মরা বাচ্চা হবে নয়তো......... আমার সুস্থ স্বাভাবিক বাচ্চা হিসাবে এখানে থাকার কথাই ছিলনা।
আম্মু হাসপাতাল থেকে চলে এসেছিলেন, ঘরে হয়েছি আমি — নানুরবাড়িতে, আজ থেকে অলমোস্ট তেইশ বছর নয় মাস আগে।
এখনো সুস্থ আছি, এখন পর্যন্ত সুস্থ আছি। আম্মু ডাক্তারের অপিনিয়ন তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।
আম্মু সম্ভবত এখনও ভয় পায় আমাকে নিয়ে, এজন্যই তেইশ বছর হয়ে গেলেও দিন তিনবার চারবার আমাকে কল করা লাগে বেচারির। জীবন বাজি রেখে জন্ম দিছিলো কিনা!
আমি হবার মুহূর্তে দুইটা জীবন একসাথে বেঁচে থাকার জন্য যুদ্ধ করছিলো। আমি আমার আম্মুর আর আম্মু আমার সহযোদ্ধা। জন্ম থেকে, একসাথে। সবসময়।
আমি একবার ফেইল করেছিলাম, ফিজিক্সে — পরিবারের সবাই আমার এসএসসির রেজাল্ট খারাপ হবে ধরে নিয়েছিল। চাচা প্রচন্ড অপমান করেছিলো।
কলেজ ফার্স্ট ইয়ারে আমার রেজাল্ট জঘন্য খারাপ ছিলো, সবাই ধরে নিয়েছিল আমার পড়াশোনা এখানেই শেষ। কাজিনের হাসবেন্ড নিচু করে কথা বলেছিল।
ভার্সিটির প্রথম সেমিস্টারে আমার থ্রি পর্যন্ত আসেনি, সবাই ধরে নিয়েছিল আমার পড়াশোনা শেষ। আমি শেষ।
আম্মু একবারো বলেনি রেজাল্ট খারাপ হয়েছে। বলছে, আবিদ আল্লাহ বরকত দিবে।
আল্লাহ বরকত দিচ্ছে — চোখের সমস্যার জন্য একচোখে দেখে আধা না দেখে পরীক্ষা দিয়েও এসএসসিতে জিপিএ ফাইভ এসেছে।
পুরো ফার্স্ট ইয়ারে কোনো একটা বইয়েরও দুইটা চ্যাপ্টার শেষ করতে না পারার পরেও এইচএসসিতে জিপিএ ফাইভ এসেছে।
প্রথম সেমিস্টারে থ্রি পয়েন্ট না পাওয়ার পরেও, আন্দোলনের কারণে চেয়ারম্যানের রোষানলে পরার পরেও যথেষ্ট সিজিপিএ এসে গিয়েছে।
আম্মু বলেছে, আল্লাহ বরকত দিবে। আল্লাহ বরকত দিয়েছে।
—
মুহাম্মাদ আবিদ আজম
০৬. ০৯. ২০২৬ - রবিবার
পাবনা, বাংলাদেশ
6
3
2September 6, 2026 77